০৮:৪৮ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপ এখন দরজায়। ৪৮টি দল নিয়ে এবার ভিন্ন ধারায় হচ্ছে বিশ্ব আসর। তিনটি আয়োজক দেশ নিয়ে আয়োজন এটাই প্রথম। তবে এই বিশ্বকাপে শুধুমাত্র ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে না, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি যুগের অবসানও ঘটছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মাতিয়ে রাখা বেশ কিছু তারকার জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে শেষ আসর।
সাধারণত যেখানে সবাই সবকিছু ঠিকঠাক মনে করছেন, সেখানে বর্তমানে দুটি মহাতারকা- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে যাচ্ছে শেষ বিশ্বকাপ। তবে এবারের বিশ্বকাপ এই তারকাদের জন্য একটি অনন্য উচ্চতাও নিয়ে আসছে। ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কোনো খেলোয়াড় ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ পর্যন্ত, প্রতিটি আসরে খেলেছেন মেসি এবং রোনালদো।
লিওনেল মেসি: ২০২২ বিশ্বকাপকে শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ঘোষণা করেন। তবে দলের চাহিদা এবং ফিটনেস সায় দেয়ায় ৩৯ বছর বয়সী মেসি আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে ২০২৬ বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো কিছুটা চেনা হয়েছে মেসির। ফলে তাকে দলে রেখে আলাদা কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছে দল। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি এখনও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল চাবিকাঠি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার পাশাপাশি মেসির বিদায় স্মরণীয় করে রাখতে এবারের আসরে জিততে চায় আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এখনও তরুণ ফুটবলারদের মতোই লড়ে যাচ্ছেন। সৌদি প্রো লিগে একের পর এক গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে এখনও তিনি ফুরিয়ে যাননি। ২০২৬ বিশ্বকাপটি যে তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হবে, তা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। ফিটনেস ভালো থাকলে পর্তুগিজ কোচ সিআরসেভেনকে আগামী আসরেও দলে নিতে আপত্তি জানাননি। ইউরো এবং নেশনস কাপ জিতলেও রোনালদোর ট্রফি ক্যাবিনেটে বিশ্বকাপের অভাব তাকে সবসময় পোড়ায়। আরেকটি বড় আক্ষেপ হলো—বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার কোনো গোল নেই। ৪১ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ দূর করবেন সিআরসেভেন, এমনটাই বিশ্বাস তার ভক্তদের।
নেইমার জুনিয়র: মেসি-রোনালদোর যুগে আরেকজন তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রের জন্য উল্লেখযোগ্য আলোচনা ছিল। তিনি ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর সবসময়ই তাকে বিশ্বসেরা তারকাদের মধ্যে শামিল মনে করা হলেও, ইনজুরির কারণে তিনি ক্যারিয়ারকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। এবারের আসর দিয়ে নেইমারের জন্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হতে পারে। তার ইনজুরি শঙ্কা এবারের বিশ্বকাপেও রয়েছে। তবে সেসব শঙ্কাকে অগ্রাহ্য করে তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। পেলের গোলের রেকর্ড ভাঙা নেইমার এবারও ব্রাজিলের প্রধান ভরসা। ইনজুরি প্রবণতার কারণে নেইমারের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম মনে করছেন সবাই। সুতরাং এই বিশ্বকাপটি দিয়ে ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত 'হেক্সা মিশন' পূর্ণ হবে, এমনটাই আশাবাদ সমর্থকদের।
লুকা মদ্রিচ: ক্রোয়েশিয়াকে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তিতে রূপান্তরিত করার পেছনে লুকা মদ্রিচের ভূমিকা অনস্বীকৃত। ২০১৮ বিশ্বকাপে দলের ফাইনালে পৌঁছানো এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন—সবকিছুই সম্ভব হয়েছে এই মধ্যমাঠের জাদুকরীর কল্যাণে। ৪০ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে অবদান রেখেই চলেছেন। ক্রোয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্মের অনেকেই বিদায় নিলেও মদ্রিচ এখনও বুক চিতিয়ে লড়ছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপটি হবে ক্রোয়েশিয়া অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।
কেভিন ডি ব্রুইনা: বেলজিয়ামের 'সোনালী প্রজন্ম' নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তারা বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। এডেন হ্যাজার্ড বা রোমেলু লুকাকুর মতো প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি কেভিন ডি ব্রুইনা। নিখুঁত পাসিং এবং দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষকে কাঁপানোর শক্তিশালী এই মিডফিল্ডার চোটের কারণে মাঝেমধ্যে ভুগছেন। ফলে আগামী বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা কম। বেলজিয়ামের জার্সিতে শেষ টুর্নামেন্টটি স্মরণীয় করে রাখতে চান এই তারকা মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
সন হিউং-মিন: এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম সফল ফুটবলার সন হিউং-মিন। টটেনহ্যামের এই ফরোয়ার্ডের ওপর ভর করেই দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লড়াই করছে। ৩৩ বছর বয়সী সনের গতি ও ড্রিবলিং এখনও প্রতিপক্ষের মধ্যে ভয়ের কারণ। বয়স এবং শারীরিক ধকলের কারণে এবারের বিশ্বকাপটি হতে পারে সনের শেষ আসর।
মোহাম্মদ সালাহ: লিভারপুলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম মুখ। ২০১৮ বিশ্বকাপে ইনজুরি নিয়ে খেলার কারণে তিনি দলকে বহু দূর নিয়ে যেতে পারেননি, আর ২০২২ বিশ্বকাপে মিসর কোন জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে এবারের আসরে মিশর জায়গা করে নেয়ায় সালাহকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। সব দিক বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপটি সালাহর জন্য হতে পারে শেষ আসর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন