বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৮ পি.এম
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ : বাংলাদেশের কিশোররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের সেমিফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে পরাজিত করেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন পাভেল। বাকি দুটি গোল এসেছে বায়জিদ ও শাবকের পা থেকে।
ম্যাচের ৯ মিনিটে বায়জিদের গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। বিরতির পর ২৪ মিনিটে পাভেল ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৩৪ মিনিটে শাবক দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন। দুই মিনিট পর পাভেল নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশকে বড় জয় এনে দেন।
আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত এই ছোটদের বিশ্বকাপে ১৯১টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। বাছাই পর্বের খেলায় বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল। পঞ্চম স্থানে থাকা ৩২ দল নিয়ে ‘ই’ টায়ারের নক আউট পর্ব চলছে। সেখানে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। প্রথমবারের মত আয়োজিত এই আসরে ফিফা ছয় টায়ারে ছয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থতা বোধ করছেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু (এমপি)।
নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানিয়ে তাঁর পূর্ণ সুস্থতা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে ভূমিমন্ত্রী লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি এবং আপনাদের সকলের আন্তরিক দোয়ায় আমি এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থতা বোধ করছি।
তিনি আরও লেখেন, তাঁর পূর্ণ সুস্থতা এবং পরিবারের সবার জন্য যেন সবাই দোয়া করেন, যাতে সুস্থ ও সবল শরীরে সবসময় মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারেন।
নিজের দুই সন্তান সাইফ রহমান ও মাশফি রহমানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কল্যাণ কামনায়ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। সন্তানরা যেন আগামীতেও মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজে অবদান রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বার্তায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই তাঁর পথচলার মূল শক্তি। পাশাপাশি সবাইকে ভালো ও সুস্থ থাকার শুভকামনা জানান তিনি।
ভূমিমন্ত্রীর এই বার্তায় তাঁর সুস্থতা নিয়ে আশাবাদ এবং মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার বিষয়টি উঠে এসেছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের জাপানের আকর্ষণীয় বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস এ চুক্তির দ্রুত কার্যকর ও যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বাসসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানায়, চুক্তির সুফল বাস্তব অর্থনৈতিক অর্জনে রূপান্তরিত করতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিধান, বিশেষ করে শুল্কসুবিধা ও পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত করা আবশ্যক।
২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
দূতাবাস জানায়, চুক্তিটি কার্যকর হলে সম্মত শুল্কসূচির আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাবে। সেবা, বিনিয়োগ, শুল্কপ্রক্রিয়া, ই-কমার্স ও মেধাস্বত্বের মতো বিষয়গুলোতে বিধান থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
দূতাবাস বলেছে, ‘এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।’ এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) মধ্যে চুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে দূতাবাস। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রচার ও তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় আসতে পারবে এবং চুক্তির সুফল ভোগ করতে সক্ষম হবে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ইপিএ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব পরিকল্পনায় আরও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ প্রদান করতে পারে।
দূতাবাস জানায়, চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল পেতে দুই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে উভয় পক্ষ যৌথ কমিটিসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে পারবে।
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ
ইপিএর বাইরেও জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। এ ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বিশেষ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে গাড়ির যন্ত্রাংশসহ উৎপাদনশিল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন খাতের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
তবে জাপানের বাজারে প্রবেশ বাড়াতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সে দেশের বাজারের চাহিদা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা অর্জন করতে হবে। পণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, নির্ভরযোগ্য সময়ে সরবরাহ এবং পরিবেশ, শ্রম ও পণ্যের মানসংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে চলাও জরুরি।
ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে জাপানের পণ্য অনুমোদন এবং উৎপাদনের গুণগত মানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দূতাবাস উল্লেখ করেছে।
উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা এবং জ্বালানির কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) জাপানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
দূতাবাসের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নতুন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আরও উৎসাহিত হবেন।
দূতাবাস বলেছে, ইপিএর পাশাপাশি শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা গেলে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সদর রোডে অবস্থিত আবাসিক হোটেল ‘হোটেল এরিনা’ (Hotel Arena)-এর মদের বারটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম ও সরকারি আইন লঙ্ঘনের এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট। প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সরকারি নীতিমালার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে এই বারে অবাধে চলছে নানামুখী বেআইনি কার্যক্রম। অননুমোদিত পার্সেল বাণিজ্য, লাইসেন্সহীনদের মদ্যপানের সুযোগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের অবাধ প্রবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন নগরীর সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেল এরিনা বারটির অনুকূলে কেবল "অন-শপ" (On-Shop) লাইসেন্স রয়েছে। আইন অনুযায়ী এই লাইসেন্সের অধীনে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরাই নির্দিষ্ট সময়ে বারের ভেতরে বসে মদ পান করতে পারবেন। কিন্তু হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ আইনি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সকাল ১০টা থেকেই বারের নিচের ফ্লোর ও কাউন্টার থেকে অবাধে টেক-অ্যাওয়ে বা পার্সেল হিসেবে মদ বিক্রি শুরু করে, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এসব বোতলজাত ও পার্সেল মদের প্রধান ক্রেতা মূলত বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ ও উঠতি বয়সী যুবসমাজ।
উল্লেখ্য, প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ এবং যুবকরা সরাসরি বারে প্রবেশ করে মদ্যপান করছে এবং কাউন্টার থেকে পার্সেল নিয়ে যাচ্ছে—এমন একাধিক চাঞ্চল্যকর ছবি ও এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজ 'তালাশ বিডি'র হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
বারে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন এক বৈধ পারমিটধারী ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁর অভিযোগ, বারে আসা মদ্যপায়ীদের প্রায় ৮০ শতাংশেরই কোনো বৈধ পারমিট বা মদের লাইসেন্স নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পারমিটহীন তরুণকে বারে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বারে ও কাউন্টারে মদ্যপান শেষে এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ মাতাল অবস্থায় বরিশাল নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এর ফলে সদর রোডসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং পথচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইনি বিধি অনুযায়ী, মুসলমানদের বিশেষ ধর্মীয় দিবস এবং প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার মদের বার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মূল বারের দরজা লোকদেখানো বন্ধ রাখলেও আড়ালে কাউন্টার থেকে ঠিকই পার্সেল বিক্রি চালিয়ে যায়। এমনকি প্রতি শুক্রবারেও প্রকাশ্যে বার খোলা রেখে তরুণদের হাতে মদ তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এই অনিয়ম ও আইনি লঙ্ঘন চলছে? শুক্রবারে বার বন্ধ রাখার স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করার পেছনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষের কোনো আর্থিক লেনদেন বা গোপন রফাদফা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী ও সচেতন মহল নিশ্চিত করেছেন যে, হোটেল এরিনা বারের এই প্রকাশ্য বেআইনি কর্মকাণ্ড ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুরোধ এবং অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে, বারবার অভিযোগ জানানোর পরও অধিদপ্তর তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী বারে কোনোপ্রকার কার্যকর তদারকি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেনি। কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াতে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—অভিযোগ পাওয়ার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে হোটেল এরিনা বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকছে অধিদপ্তর?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাধারণ পরিচালন নীতিমালা অনুসারে, বার বা রেস্তোরাঁয় মদ বিক্রির জন্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও হোটেল এরিনা সব নিয়মই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। বিধিমালার স্পষ্ট নির্দেশ যে, নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে কাউকে বারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং ক্রেতার নিজস্ব পারমিট ছাড়া মদ বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া অন-শপ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে বসে সেবনের বিধান থাকলেও সিলগালাকৃত বোতল বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি মদের সাথে খাবার পরিবেশন ও নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও এরিনা বার কর্তৃপক্ষ এগুলোর কোনোটিই মানছে না।
আলেম-ওলামা ও ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারি
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে পবিত্র জুম্মার দিনেও বার খোলা রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের মাঝে অবাধে মদ বিক্রির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ (চরমোনাই অনুসারী) এবং সচেতন আলেম-ওলামারা বলেন, “বরিশালের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের মদ ও মাদক ব্যবসা চলতে পারে না। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার ও পবিত্র ধর্মীয় দিনগুলোতে প্রকাশ্যে পার্সেল ও কাউন্টার বাণিজ্যের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি মুসলিমপ্রধান দেশে আলেম-ওলামারা এসব সামাজিক অবক্ষয় মেনে নেবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি অবিলম্বে হোটেল এরিনা বারের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয় এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে, তবে বরিশালের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বরিশাল গোটা বিভাগে বিকল্প কোনো অনুমোদিত বার না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলেছে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট। বরিশালসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢাকার অনুমোদিত বারগুলোর তুলনায় বরিশাল এরিনা বারে প্রতি বোতল কিংবা পেগ মদে অন্তত ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হাঁকানো হচ্ছে। কেবল মদই নয়, বারের ভেতরের সাধারণ খাবারের দামও রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বী, যা এক ধরনের প্রকাশ্য জিম্মিদশা ছাড়া কিছুই নয়।
এসব গুরুতর অনিয়ম ও প্রকাশ্য আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ে কথা বলতে হোটেল এরিনার ম্যানেজার মি. মিলনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বারবার অভিযোগের পরও কেন কোনো তদারকি বা অভিযান চালানো হয়নি এবং কোনো অসাধু আর্থিক যোগসাজশ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC), বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানের হোয়াটসঅ্যাপে ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে ১ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত তিনিও কোনো বক্তব্য দেননি। পরবর্তীতে উপ-পরিচালক কোনো বক্তব্য প্রদান করলে তা সংবাদের দ্বিতীয় পর্বে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।
নগরীর অভিভাবক ও সচেতন মহল অবিলম্বে কোমলমতি তরুণদের পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে, মাদকের অবাধ বিস্তার ঠেকাতে এবং সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হোটেল এরিনা বারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
(হোটেল এরিনা বারের নানামুখী অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়াবহ বাস্তব চিত্র নিয়ে ‘তালাশ বিডি’র বিশেষ অনুসন্ধানী ৩ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশিত হলো ১ম পর্ব। আগামী ২য় ও ৩য় পর্বে থাকবে আরও আকর্ষণীয় চাঞ্চল্যকর নিউজ, যার মধ্যে একটি পর্বে বারের ভেতরের অন্যায্য অনিয়ম ও বাস্তবরূপের এক্সক্লুসিভ ভিডিও চিত্র সহকারে সংবাদ প্রকাশ করা হবে। তালাশ বিডির সাথেই থাকুন।)
তালাশ বিডির ৩ পর্বের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম পর্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ