ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২, নিয়োগ নিয়ে আলোচনা


সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২, নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ বর্তমানে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। মোট অনুমোদিত পদ সংখ্যা ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি, যেখানে কর্মরত জনবল ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ। কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু এবং নূরুল ইসলাম বুলবুল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

শূন্য পদ পূরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ৬১টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাদের অধীন কার্যালয়গুলোতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৫৫টি, যেখানে কর্মরত জনবল ২৭ হাজার ১৭৭ জন এবং শূন্য পদ ১৪ হাজার ৫৭৮টি রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জনবলের চিত্রেও শূন্য পদের তথ্য পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৫০৫ জন, ফলে শূন্য রয়েছে ১২৪টি পদ।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া বিশেষ বিসিএস নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, মেধাতালিকায় ১১৯তম অবস্থানে থাকা একজন প্রার্থীকে শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রথমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি জানতে চান, কেন এবং কোন মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনার প্রক্রিয়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। তবে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কোনো সুপারিশ করেনি কমিটি, সূত্র জানায়।

নূরুল ইসলাম বুলবুল শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনে বিরোধী দল জয়ী হওয়ার পর বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলি করার বিষয়েও আলোচনা করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেননি এবং আটজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্কের পর গত ৫ অক্টোবর ৪৬ জনের মধ্যে ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এছাড়া জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজে অসহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। সরকারি কাজে ক্ষতিকর ভূমিকা না থাকলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয় বলেও বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়। ওএসডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে কমিটির সভাপতি উল্লেখ করেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো বিষয় গোপন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভাপতি বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন। কমিটিকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সবাইকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এলেও কমিটিতে সবার অভিন্ন পরিচয়—তারা জনগণের প্রতিনিধি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে ‘সবার উপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে অসহযোগিতা বা অবহেলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদ্দাম ও তাকরীরের শতকে রাজশাহীর বিরুদ্ধে ড্র চট্টগ্রামের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


সাদ্দাম ও তাকরীরের শতকে রাজশাহীর বিরুদ্ধে ড্র চট্টগ্রামের

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশের দ্বিতীয় রাউন্ডের চার দিনের ম্যাচটি চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর মধ্যে ড্র হয়েছে। শেষ দিনে চট্টগ্রামে দুই টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান সাদ্দাম এবং তাকরীরের জোড়া শতকে ম্যাচটি বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় একাদশ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৭১ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে।

রাজশাহী দ্বিতীয় একাদশ ৩০৪ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ৮০, হৃদয় ইসলাম ৭১ ও ইমন আলী ৬৯ রান করেন।

চট্টগ্রামের আবুল হাসনাত ৪টি এবং শামীম মিয়া ৩টি উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম ৬৭ রানের লিড পায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করে। অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন ২০৭ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩২ রান করেন। অন্যদিকে, তাকরীর ২০৩ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন। দুজনের শতকে ভর করে চট্টগ্রাম ৩ উইকেটে ৩১৪ রান তোলে।

এছাড়া কাফিল উদ্দিন ১৬ রান করেন। দিন শেষে ওমর হাসান ২৩ ও সাইফুল ইসলাম ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

রাজশাহীর পক্ষে নাঈম ইসলাম জুনিয়র, সাজিদ হাসান ও মো. শাহাদাত হোসেন সবুজ একটি করে উইকেট নেন।

দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী দ্বিতীয় একাদশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমলে দৃশ্যমান হলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


কাপ্তাই হ্রদের পানি কমলে দৃশ্যমান হলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

রাঙামাটির পর্যটনের আইকন ঝুলন্ত সেতুতে প্রাণ ফিরে এসেছে দীর্ঘ বিরতির পর। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ার ফলে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি ১ মাস ২ দিন পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে। পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে সেতুর চারপাশে চেনা ব্যস্ততা ফিরে এসেছে, যা পর্যটকদের জন্য স্বস্তির বিষয়। সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

এ মৌসুমে সেতু ডুবে যাওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। গত ১১ সেপ্টেম্বর সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়, এবং নিরাপত্তার কারণে ওই দিনই পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেতু ডুবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়; প্রতিবছর বর্ষায় হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে এই প্রধান আকর্ষণ তলিয়ে যায়।

চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে ছিল। গত বছরের ২৩ অক্টোবর ৮৫ দিন পরে সেতুটি ভেসে উঠেছিল। এর ফলে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সংশ্লিষ্টরা লোকসানে পড়েন। সর্বশেষ ১২ অক্টোবর বিকেল থেকে পানি সরতে শুরু করলে সংস্কার কাজ শেষে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। জেলার এই জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা উচ্ছ্বসিত হয়ে আসছেন।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সেতু এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ সেতুতে সেলফি তুলছেন, আবার কেউ নৌ ভ্রমণ উপভোগ করছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা তানিয়া আক্তার মন্তব্য করেন, ‘পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ নীল জলরাশি মন ভালো করে দেয়। বারবার আসতে মন চায়। দারুণ উপভোগ করছি।’

বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, ‘দেশের অন্য পর্যটন স্পট থেকে রাঙামাটি অনন্য। একদম আলাদা। এখানকার সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো যায় না। এ জন্য সুযোগ হলেই ছুটে আসি এখানে। আমাদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে, ডুবে থাকা সেতু ভেসে উঠায় ঘুরতে পারলাম, ছবিও তুললাম। অসাধারণ ভালো লাগার একটা অনুভূতি নিয়ে ফিরতে পারব।’

ঝুলন্ত সেতুর নৌ ঘাটের টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম জানান, ‘একমাসের বেশি সময় ডুবে থাকার পরে সেতু ভেসে উঠেছে। এরই মধ্যে সেতুর সংস্কার কাজ শেষ করে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করে গতকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি পূজার ছুটি আর পর্যটন মৌসুমে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণে আসবেন।’

ঝুলন্ত সেতু টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকলে রাঙামাটির পুরো পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

দৃষ্টিনন্দন এ ঝুলন্ত সেতুটিতে বছরে ১০ লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে বাৎসরিক আয়ের অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকার অধিক। অথচ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে হারিয়ে যায় এই আকর্ষণ, যা একসঙ্গে বিরূপ প্রভাব ফেলে পর্যটন খাতে। তাই বারবার সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার বদলে পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা লড়াই করেছি, স্বৈরাচারের দোসররা পতাকা উড়াচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


‘আমরা লড়াই করেছি, স্বৈরাচারের দোসররা পতাকা উড়াচ্ছে’

বিগত প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানে আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে যুক্ত থাকা, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও বারবার কারাবরণের শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা পটপরিবর্তনের পরেও উপেক্ষিত রয়ে গেছেন বলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারিতে সক্রিয় থাকা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা পাহাড়ের নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম লীনা সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাদের হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

একটি সামাজিক মাধ্যমের স্ট্যাটাসে উম্মে কুলসুম লীনা লিখেছেন, ‘সতেরো বছর যুদ্ধ করেছি আমরা সামনের সারিতে থেকে, আজ ত্যাগীরাই কোণঠাসা, হতাশায় ডুবে আছে। আমরা করেছি লড়াই, রক্ত দিয়েছি, আর পতাকা ওড়াচ্ছে স্বৈরাচারের দোসররা!’

সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে সাড়ে চার শতাধিক রাজনৈতিক মামলা এবং তার পরিবারের মানসিক টানাপোড়েন ও বাস্তব যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন।

লীনা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সংগ্রামের বোঝা শুধু তার একার নয়; সেই সংগ্রামের ভার নীরবে বহন করতে হয় তার পরিবারকেও। বারবার মামলা, আদালত এবং কারাগারে স্বজনদের অপেক্ষার ইতিহাস যেন যথাযথ মর্যাদায় মূল্যায়িত হয়—সেই দাবিই জানান তিনি।

গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিভিন্ন বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আন্দোলনে জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহধর্মিণী উম্মে কুলসুম লীনা সরাসরি সম্মুখসারিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ব্যানার হাতে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা কিংবা সরাসরি পুলিশের বাধার মুখে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে তাদের দেখা গেছে।

আন্দোলন দমনপীড়নের অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমকে দফায় দফায় গ্রেপ্তার, হাতকড়া পরে আদালতে হাজির হওয়া এবং জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও মারমুখী অবস্থানের মধ্যেও এই দম্পতিকে রাজপথে অটল থাকতে দেখা যায়।

রাজপথে এই দম্পতির একসঙ্গে সক্রিয় থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা নানা মহল থেকে বিদ্রুপ ও কটূক্তি করা হলেও তারা কখনো থেমে যাননি। সামাজিক ও মানসিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই আন্দোলন-সংগ্রামে একে অপরের পাশে থেকেছেন অটলভাবে।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া এবং সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীদের পেছনে পড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ এখন তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরেই স্পষ্ট।

জাহাঙ্গীর আলম ও উম্মে কুলসুম লীনার মতো যারা সপরিবারে রাজনীতির কঠিন মূল্য দিয়েছেন, তাদের এই আক্ষেপ রাজনীতিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের এক বাস্তব চিত্রকেই সামনে তুলে আনছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে অসহায় আব্দুল্লাহ এখন ডিসির কোলে,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


শেরপুরে অসহায় আব্দুল্লাহ এখন ডিসির কোলে,

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে শেরপুর জেলার সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে তিন সন্তানের জননী রুফিয়া বেগম (৩৫) কে ভাসুরের ছেলে (ভাতিজা) নেশাগ্রস্ত যুবক আরিফ হোসেন নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে।

রুফিয়া বেগম তার বাড়ির উঠানে তার কোলে থাকা ছোট শিশু চার মাস বয়সের আব্দুল্লাহকে চেয়ারে বসে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। আব্দুল্লাহর চাচা আরিফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিল। সে কারণে পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ছোট্ট শিশু আব্দুল্লাহর সামনে তার মাকে গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেন চাচা আরিফ হোসেন।

এ ঘটনায় পরে তাকে শেরপুর সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।

এদিকে আব্দুল্লাহ তার মাকে হারিয়ে এবং তার হতদরিদ্র বাবা তাকে নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছিল। একই সাথে আর্থিক দৈন্যতায়ও ছিলেন আব্দুল্লাহর বাবা রিকশাচালক লাল মিয়া।

এমত অবস্থায় ১৪ অক্টোবর বুধবার শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের গণশুনানিতে আব্দুল্লাহকে নিয়ে আসেন তার বাবা ও চাচি। এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহকে কোলে নিয়ে আদর করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ খুনসুটি করেন মাতৃহারা আব্দুল্লাহকে নিয়ে। এ সময় আব্দুল্লাহর ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং কিছু কাপড়-চোপড় কিনে দেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস বয়সের এই শিশু আব্দুল্লাহ তার মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় নৃশংসভাবে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক। এই অসহায় আব্দুল্লাহর বাবা দরিদ্র রিকশাচালক বিধায় তার ভবিষ্যৎ ভরণ পোষণে আমি সহযোগিতা করে যাব।

এদিকে শিশু আব্দুল্লাহকে জেলা প্রশাসক আর্থিক অনুদান সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে খুশি আব্দুল্লাহর বাবা লাল মিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%