০৭:২০ পি.এম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বুধবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ত্রাণ বিতরণের পর্যবেক্ষণের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক মতভেদ বরদাস্ত করা হবে না।" মন্ত্রী বলেছেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় রাজনৈতিক বিষয় কোন প্রভাব রাখবে না। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেলে, সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার আগে মন্ত্রী খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বঢোমরা জলকদর খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।" এ সময় তিনি আরও বলেন, গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ত্রাণ বিতরণে বরাদ্দের অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলা রয়েছেÑ কোনোরকম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে আমরা বরদাস্ত করব না।" বিশেষ করে বন্যা প্লাবিত মানুষের বিষয়ে তিনি আবারও উল্লেখ করেন, রাজনীতি যুক্ত নয়।
আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, "যারাই দুর্গত, তাদেরকে ত্রাণ দিতে হবে। এবং এ ধরনের কোনো অভিযোগ যদি আসে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো আমরা।" ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, "একটা প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সমস্ত খালগুলোকে পুনঃখনন করবো।" তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল কাটা বিপ্লবের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "আজকে আমি স্বচক্ষে সরেজমিনে দেখলাম যে এই জলকদর খাল কাটার ফলে অনেকখানি পানি নিষ্কাশন হয়েছে।" আসাদুল হাবিব দুলু জানান, "আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন হবে এবং শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখা হবে।"
তিনি বলেন, "খালের পাড়ে আমরা গাছ লাগাবো। খালের বাকি অংশের কাজ যাতে সামনের শুকনো মৌসুমে সম্পন্ন হয়, তারজন্য আমার মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।" মন্ত্রী জানান, "সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে।"
আরও পড়ুন: দিল্লিতে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের প্রস্তুতিতে অভিজিৎ দীপকেকে আটক
বাঁশখালীর জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন