০৮:০৫ এম
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে শুক্রবার পরিচালিত হামলায় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী সংগঠন ‘কোমালা’ দলের আট সদস্য নিহত হয়েছেন। এই নির্বাসিত সংগঠনটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
কোমালা দলের নেতা ইদ্রিস কোলওয়াজির উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার ভোরে সুলাইমানিয়াহ শহরের কাছে সংগঠনটির এক শিবির এবং আশপাশে ইরান ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে।
তিনি জানান, হামলায় তাদের আট সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরো কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরাকে এই হামলার ঘটনা ঘটছে। দেশটি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সময়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এটি এমন কারণেই, যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি, বিদেশি তেল কোম্পানির কার্যক্রম এবং নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থান রয়েছে। এই কারণে ইরান এবং ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধে বিরতি কার্যকর হলেও, তেহরান কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী পশ্চিমা দেশ এবং ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে।
তবে, শুক্রবারের হামলাকে যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধের পর থেকে এসব গোষ্ঠী তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি এবং শিবির খালি করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
এদিকে, কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোট কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি সপ্তাহে শহরটিতে এমন ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার ঘটলো।
এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়া শহরটির বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক উপদেষ্টারা অবস্থান করছেন।
কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিট থেকে ৫টা ২৫ মিনিটের সময় জোটের বাহিনী এরবিলের আকাশে আটটি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত বুধবার রাতেও এরবিলের আকাশে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এএফপির সাংবাদিকরা জানান, মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময়ে কনস্যুলেটটি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান
এরবিলে এসব হামলার দায় কোন গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জোটের ব্যানারে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের সমর্থনে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন