ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওভাল অফিস থেকে ওয়াল স্ট্রিটের বেল বাজালেন ট্রাম্প


ওভাল অফিস থেকে ওয়াল স্ট্রিটের বেল বাজালেন ট্রাম্প

সোমবার ওভাল অফিস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ও নাসডাকের বেল বাজিয়ে লেনদেন শুরু করেন। তিনি এর মাধ্যমে একটি প্রতীকি বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে শেয়ারবাজারের লাভের পেছনে তার ক্ষমতার বড় অবদান রয়েছে।

এদিকে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে দেশটিতে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যথেষ্ট কমেছে। তাই তিনি চান, মানুষ যেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দেয় এবং এই লাভের কৃতিত্ব তাকে দেয়। লেনদেন শুরুর পর ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আরও বাড়বে, আমার মনে হয় বাজার আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে গত জুন মাসে একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষমতায় সন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা

ট্রাম্প মূলত ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামক একটি কর্মসূচির প্রচারণার জন্য এই বেল বাজিয়েছেন। এটি ২০২৫ সালের একটি বিলে শিশুদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ৩৮ শতাংশ মার্কিন পরিবারের শেয়ারবাজারে কোনো বিনিয়োগ নেই।

২০২৫ সালে শেয়ারবাজারের লাভ ছিল ১৭.৯ শতাংশ। তার আগে জো বাইডেনের আমলে ২০২৪ সালে ২৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ২৬.৩ শতাংশ লাভ হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত বাজার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ট্রাম্প ২০২৪ সালে দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয় লাভ করলেও নতুন শুল্ক এবং ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে গেছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এটি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এর আওতায় সরকার ১ হাজার ডলার করে দিচ্ছে। এছাড়া অনেক ধনী ব্যক্তিও এতে টাকা দিচ্ছেন। মাইকেল ডেল ও তার স্ত্রী এতে ৬.২৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গোয়েন শটওয়েলও এতে শেয়ার দান করার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি

ট্রাম্প মজা করে বলেন, এই অ্যাকাউন্ট চালু করতে দেরি হওয়ার কারণে শিশুরা শেয়ারবাজারের অনেক লাভ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের আরও দ্রুত কাজ করা উচিত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিল ‘ঘাতক’ নিলান্ডের রূপকথার উত্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৬ এম


ব্রাজিল ‘ঘাতক’ নিলান্ডের রূপকথার উত্থান

পেশাদার ফুটবলারদের জীবন সম্পূর্ণ চুক্তিনির্ভর। চুক্তিটি শেষ হলে মাঠের তারকা সাধারণ বেকার মানুষে পরিণত হন। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন ওরিয়ান নিলান্ড। ৩০ জুন স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৩৫ বছর বয়সি এই গোলকিপার সম্পূর্ণ দলের বাইরে ছিলেন। কিন্তু পেশাদার ফুটবলের এই নিষ্ঠুর সত্যকে অস্বীকার করে, মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে তিনি বিশ্বমঞ্চের মহানায়ক হয়েছেন। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছিল আর্লিং হ্যালান্ডের দুটি গোলের কারণে, তবে ম্যাচের আসল সুরটি দিচ্ছিলেন এই ‘বেকার’ গ্লাভসধারী সৈনিক। নিউ জার্সির মাঠে ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৪ মিনিট, যখন ব্রাজিল ভিএআরের নাটকীয়তায় পেনাল্টি পেয়েছিল। স্পটকিকে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইস একটি চতুর চেষ্টা করছিলেন, সেই সময় নিলান্ড তার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে। নিখুঁত অনুমানে বাঁদিকে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রুখে দেন ব্রুনোর শটটি। ম্যাচের এত শুরুর দিকে পেনাল্টি মিস করায় কেবল নরওয়েকে রক্ষা করেনি, বরং পুরো দলের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, এই ব্রাজিলকে হারানো সম্ভব। ম্যাচ শেষে নিলান্ড স্বস্তির সঙ্গে বলেন, ‘শুরুতেই পেনাল্টি সেভ করলে প্রতিপক্ষের মনস্তত্ত্বে চাপ সৃষ্টি করা যায়। এটি আমাদের দলকে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।’ পেনাল্টি ঠেকানোর পর নিলান্ডের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। হ্যালান্ডের দৃশ্যে আসার আগে, তিনি একাই সামলেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডদের একের পর এক আক্রমণ। ৩১ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির একক গতির দারুণ শটটি তিনি প্রতিহত করেন দারুণ রিফ্লেক্সে। এরপর ৪১ মিনিটে তিনি হতাশ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। মার্তিনেল্লির পাশ থেকে ভিনির নেওয়া কোণাকুনি শট লম্বা পা দিয়ে চমৎকারভাবে আটকে দেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার। তবে নাটকের চূড়ান্ত অংশ তখনো বাকি ছিল। ৮৬ মিনিটে নরওয়ে যখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে, তখন ব্রাজিলের একটি আক্রমণ প্রতিহত করার সময় নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়েরের গায়ে লেগে বল অদ্ভুতভাবে দিক পরিবর্তন করে। ভারসাম্য হারিয়ে পেছনের দিকে পড়ার মুহূর্তেও নিলান্ড এক হাতের জাদুতে বলটি ছুঁয়ে পোস্টের গায়ে লাগিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। নিশ্চিত আত্মঘাতী গোলের হাত থেকে দলকে বাঁচানো এই সেভটি নিঃসন্দেহে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। ফরোয়ার্ড অস্কার বব তাই ম্যাচ শেষে দলের সেরা তারকা হিসেবে গোলকিপারকে এগিয়ে রেখে বলেন, ‘আমাদের দলে হ্যালান্ড থাকতে পারে; কিন্তু গোলকিপারই আজ আমাদের ম্যাচটি বাঁচিয়ে দিয়েছে।’ অথচ এ বিশ্বকাপে নরওয়ের পোস্টের নিচে নিলান্ডের থাকার কথা ছিল না। বোদো/গ্লিমটের হয়ে আলো ছড়ানো নিকিতা হাইকিনের নরওয়ের নাগরিকত্ব পাওয়ায় মনে হচ্ছিল তিনিই হবেই দলের প্রধান পছন্দ। সেভিয়ায় পুরো মৌসুমে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলা নিলান্ড নিজেও হয়তো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু ফিফার এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করে। ইসরাইলের নিকিতা হাইকিনকে নরওয়ের হয়ে খেলার অনুমতি দেয়নি বিশ্বফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। আর সে সুযোগেই ফুটবল বিশ্ব দেখল কিভাবে একজন ক্লাবহীন, বেকার গোলকিপার গ্লাভস হাতে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে রূপকথার নায়ক হয়ে উঠতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেন-পর্তুগাল মহারণ শুরু, রোনালদোর ভাগ্যে কি অপেক্ষা করছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১২ এম


স্পেন-পর্তুগাল মহারণ শুরু, রোনালদোর ভাগ্যে কি অপেক্ষা করছে?

বাঁশির সুরে বাজনা শুরু হলো, বলটি গড়াচ্ছে; এইভাবে শুরু হলো এক মহারণ। স্পেনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক কিংবদন্তি পাহাড়; ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি একাই প্রায় ফুটবলের সমান। তাই অষ্টম পর্বে লড়াইটি কেবল একটি ম্যাচ কিংবা কোয়ার্টারের টিকেট নিশ্চিত করার যুদ্ধ নয়, বরং ফুটবল দুনিয়ায় এটি একটি বড়সড় ঘটনা।

আগের দিন, তারুণ্যে কাঁপানো নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কিংবদন্তি ব্রাজিল। ফলে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, রোনালদো কি তারুণ্যের কাছে হার মানতে বাধ্য হবেন এবং চিরতরে বিশ্বকাপ মঞ্চ ছেড়ে যেতে হবে তাকে। আর যদি এমনটা ঘটে, তাহলে হয়তো ফুটবলের ইতিহাসে একটি আক্ষেপ থেকেই যাবে যে, তার অন্যতম সেরা সন্তানের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেয়া হলো না।

রোনালদো অবশ্য এমনটা মানতে নারাজ। তার পক্ষে বিশ্বকাপ জয়ের একটি প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তবে যদি অর্জন না হয়, তাতে তার জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তিনি স্পষ্টভাষায় জানালেন, "বিশ্বকাপ না জিতলেও ক্রিশ্চিয়ানো ছোটো কিংবা বড় হয়ে যাবে না", অর্থাৎ তার এতগুলো দিনের অর্জন আসলে বিশ্বকাপ নামের একটি ট্রফি দিয়ে পরিমাপ করার পদ্ধতি নেই।

অন্যদিকে, স্পেনও মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা কাঁধে চাপানো অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়। ২০১০ সালের সেই চমক জাগানিয়া স্পেনকে বহুদিন দেখা যাচ্ছে না। এবারের বিশ্বকাপে তারা ফিরে আসতে চায় নান্দনিক ফুটবলে অনাবিল ধারায়, বিশ্বের চ মুকুট বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে চায়।

পর্তুগালের একটি দলে রয়েছেন: দিয়োগো কস্তা, জোয়াও কানসেলো, রুবেন দিয়াস, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, পেদ্রো নেতো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

অপর দিকে, স্পেনের দল গঠিত হয়েছে: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল, আলেক্স বায়েনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, থানায় মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৫ এম


সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, থানায় মামলা

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি আইনি পন্থায় করেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মামলার বিস্তারিত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনার পূর্বে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার পৌর এলাকার তারাপুর মাঠে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ‘জুলাইয়ের চেতনায় গড়বো নতুন বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সমাবেশটি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে, সমাবেশটি পরিচালনা করছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রাত ৯টা ১ মিনিটে সভাস্থলের চারপাশে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়। এসময় সারজিস আলম বিদ্যুতের বিপর্যয়কে ‘সরকারের হঠকারিতা ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। ছাত্রশক্তির এক নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ও সভার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাজনিদ তার বক্তব্য শেষ করেন।

রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সাংবাদিকদের বসার স্থানের কাছে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে লাল ও কালো কস্টেপে মোড়ানো ককটেলের ছিন্নভিন্ন অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে ইমরান নামে একজনের পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমরান এনাম মেডিকেল কলেজের একজন কর্মী। তবে এনসিপির দাবি, এ ঘটনায় তাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণের শব্দে সমাবেশে আসা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলেও মঞ্চে থাকা নেতারা দৃঢ়চেতা ছিলেন। এসময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সরকারের সমালোচনা করে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চে থাকা সব নেতা ও কর্মী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টা) তারা থানার সামনে বিক্ষোভ করছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উরুমকির রক্তাক্ত জুলাই, ১৭ বছর পরে যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


উরুমকির রক্তাক্ত জুলাই, ১৭ বছর পরে যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

 

২০০৯ সালের ৫ জুলাই। চীনের জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে চীনা সরকারের হামলায় ১৯৭ জন নিহত ও এক হাজার ৭২১ জন আহত হন। দুই উইঘুর হত্যার প্রতিবাদে হাজারও মানুষ বিক্ষোভে নামে। সেখানে চীনা সরকার তাদের ওপর হামলা চালায়। এরপর উইঘুর পরিচালিত মসজিদগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৪০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। তাদের ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

১৭ বছর পার হয়ে গেলেও ২০০৯ সালের ৫ জুলাইয়ের উরুমকি হত্যাকাণ্ডের ক্ষত আজও শুকায়নি, বরং সেদিন উত্থাপিত প্রশ্নগুলো আজো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

উইঘুরদের সাম্প্রতিক ইতিহাস অনুধাবন এবং সমসাময়িক চীনের অন্যতম সবচেয়ে প্রভাবশালী ও পরিবর্তনের বাঁক হিসেবে এই ঘটনাকে বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলো আজও প্রাসঙ্গিক।

কেন উইঘুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষ পর্যন্ত রক্তপাতে রূপ নিয়েছিল? কেন শাওগুয়ানে উইঘুর শ্রমিকদের হত্যাকাণ্ডের কেন কোনো স্বচ্ছ তদন্ত হলো না? কেন উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করা হলো? এবং কেন কর্তৃপক্ষ আলোচনার পথ পরিহার করে দমনের পথ বেছে নিল?

এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাইয়ের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ট্র্যাজেডি ছিল না। এমনকি এটি উইঘুর সংকটের শুরুও ছিল না। বরং এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যখন দশকের পর দশক ধরে চলা অমীমাংসিত অন্যায়, পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের নামে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আর আড়াল করা সম্ভব হয়নি।

তাই ৫ জুলাইকে বুঝতে হলে শুধু ওই একটি দিনের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর আগের পটভূমি এবং কেন এটি প্রতিরোধের প্রতিটি সুযোগ হাতছাড়া করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ট্র্যাজেডির পটভূমি

৫ জুলাইয়ের এই ট্র্যাজেডি হঠাৎ করে ঘটেনি। এই ঘটনার কয়েক মাস আগে, ২০০৯ সালের মার্চ মাসে উইঘুর অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী ইলহাম তোহতি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছিলেন যে, উইঘুর এবং চীনা কর্তৃপক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক এক বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারি চীনা প্রোপাগান্ডায় উইঘুরদের ক্রমবর্ধমানভাবে তথাকথিত ‘তিনটি অশুভ শক্তি’ (সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ)-এর অংশ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে।

তিনি আরও যুক্তি দেন যে, সংবিধানে আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, যেখানে বাস্তবে বৈষম্য ও বঞ্চনা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। উইঘুরদের বৈধ ক্ষোভ সমাধানের পরিবর্তে এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কেবল পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতকে অনিবার্য করে তুলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, তার এই সতর্কবার্তা খুব একটা পাত্তা পায়নি। এর ঠিক তিন মাস পর, ২০০৯ সালের ২৬ জুন, গুয়াংডং প্রদেশের শাওগুয়ানে রাষ্ট্রীয় শ্রম কর্মসূচির আওতায় স্থানান্তরিত উইঘুর শ্রমিকরা ইন্টারনেটে ছড়ানো একটি গুজবের জেরে এক ভয়াবহ গণপিটুনির শিকার হন। কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। বহু উইঘুরের কাছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের চেয়েও কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা ছিল আরও বেশি উদ্বেগজনক।

এই চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতার পটভূমিতেই, ৫ জুলাই উরুমকির পিপলস স্কোয়ারে উইঘুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করে। তাদের দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত সাধারণ, শাওগুয়ানে ঠিক কী ঘটেছিল কর্তৃপক্ষকে তা স্পষ্ট করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু মোড় ঘুরে যায় তখন, যখন নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে।

শিক্ষার্থীরা যখন চারপাশের রাস্তায় পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই দমনপীড়নের খবর দ্রুত পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কর্মজীবী মানুষ, পথচারী কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ উইঘুর বাসিন্দারা যখন জানতে পারেন যে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তখন অনেকেই পরিস্থিতি দেখতে বা খোঁজ নিতে সেখানে ছুটে যান। ফলে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কেবল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, ৫ জুলাইয়ের এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি শাওগুয়ান হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অস্বীকৃতি এবং সবশেষে শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের ওপর নির্মম বলপ্রয়োগ এই পুরো ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই এক চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক পরিণতি ছিল।

চীনের নীতি পরিবর্তন, আলোচনার পরিবর্তে স্থায়ী নজরদারি

৫ জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল সেই দিনের ট্র্যাজেডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি উইঘুরদের প্রতি চীনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের এক চূড়ান্ত ও কঠোর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

কেন শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হলো বা কোন ক্ষোভ তাদের রাজপথে নামালো সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে। শিক্ষার্থীদের তোলা মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনো অর্থপূর্ণ সমাধান কখনোই করা হয়নি।

৫ জুলাইয়ের পর কেবল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পরিধিই বাড়েটি, বরং নিয়ন্ত্রণের পেছনের মূল দর্শনটাই বদলে গেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণ খোঁজার বদলে, কর্তৃপক্ষ উইঘুর পরিচয়ের যেকোনো সাধারণ বহিঃপ্রকাশকেই সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখতে শুরু করে।

এই পরিবর্তন রাতারাতি না ঘটলেও, ৫ জুলাইয়ের ঘটনা এমন একটি শাসনপদ্ধতিকে ত্বরান্বিত করেছিল যা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দমনপীড়নের নতুন যুগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

পরবর্তী সময়ে ধর্ম, ভাষা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ওপর পদ্ধতিগত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। নজরদারি ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং শুরুতে যা ‘সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ হিসেবে চালু করা হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের এক স্থায়ী ও সর্বগ্রাসী রূপ নেয়।

২০১৭ সালের পর এই নিপীড়ন এক নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছায়। গণ-আটক, তথাকথিত ডিটেনশন বা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, কঠোর ডিজিটাল নজরদারি, জোরপূর্বক শ্রম স্থানান্তর এবং বাধ্যতামূলক সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ নীতি উইঘুর সমাজকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR), হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং অসংখ্য স্বাধীন গবেষকের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের এক মূল্যায়নে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, জিনজিয়াংয়ে উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এই নির্যাতন ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ (Crimes against Humanity) এর শামিল হতে পারে।

২০১৭ সালের এই চরমপন্থী নীতিগুলো হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি, বরং এগুলো ছিল ৫ জুলাইয়ের পর ত্বরান্বিত হওয়া শাসন ব্যবস্থারই এক ধারাবাহিক ও তীব্র রূপ। ফলে, এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ছিল না, বরং এটি এমন এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল যেখানে রাজনৈতিক সংলাপের জায়গা দখল করে নিয়েছে স্থায়ী নজরদারি, জোরজুলুম আর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিজস্ব সংস্কৃতি বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া।

এক অমীমাংসিত ইতিহাস

আজ ১৭ বছর পরও ৫ জুলাইয়ের সেই প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। কেন শাওগুয়ানের হত্যাকাণ্ডের কোনো স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত হলো না? কেন একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের জবাব আলোচনার পরিবর্তে বুলেট দিয়ে দেওয়া হলো? কেন উইঘুর পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করা হলো? এই প্রশ্নগুলো কেবল অতীতের নয়, বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৫ জুলাইয়ের পর উইঘুরদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই নীতি কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি। এটি এমন এক শাসনব্যবস্থার ফসল যা বারবার জবাবদিহিতার চেয়ে দমনকে, আলোচনার চেয়ে নিয়ন্ত্রণকে এবং বৈধ ক্ষোভের সমাধানের চেয়ে জোরজুলুমকে প্রাধান্য দিয়েছে।

তাহলে ৫ জুলাইকে স্মরণ করা কেবল একটি শোক পালন বা আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি বোঝার একটি প্রয়াস যে, কীভাবে একটি অমীমাংসিত অন্যায় দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হতে পারে এবং কীভাবে ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার মানসিকতা একটি পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।

ইতিহাস সাক্ষী থাকে কী ঘটেছিল, তবে ইতিহাসের পাতায় সেই অনুচ্চারিত প্রশ্ন এবং উপেক্ষা করা সতর্কবাণীগুলোকেও সমানভাবে মনে রাখা উচিত।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক উইঘুর লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার আসিয়ে উইঘুরের কলামটি ভাষান্তর করেছেন মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী- জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%