০৫:৫৫ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে প্রবাসী পরিবারের সদস্য সহ প্রায় ২০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার মধ্যবেলকা এলাকার সুন্দরগঞ্জ-মওলানা ভাসানী সেতু সড়কের ফারুকের মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজবাহুর রহমান, শামছুল হক, লাভলু মিয়া, মুকুল মিয়া এবং অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার
বক্তারা অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী ছায়েদ আলী, মনজু মিয়া, শাহ আলম, সাহাবুদ্দিন এবং তাদের সহযোগীরা পরিবারের সদস্যদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে প্রায় ২০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কৃষিজমিতে যাতায়াত এবং শতাধিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেছেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজবাহুর রহমানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা। এ অবস্থায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজবাহুর রহমান। তিনি জানান, তিনি এবং তার ভাই মিজানুর রহমান এবং মাজহারুল ইসলাম দীর্ঘসময় ধরে প্রবাসে রয়েছেন। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার বাবা আব্দুল মতিন এবং ভাতিজা সৌরভের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু
তিনি বলেছেন, হামলাকারীরা ১৬টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া জমির দলিল, কীটনাশক ব্যবসার লাইসেন্স, ব্রিডিং লাইসেন্স, ব্যাংক-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত সনদও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মিজবাহুর রহমান আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারগুলো বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তার পর বাড়িতে থাকা অবশিষ্ট মালামালও লুট করা হয়েছে। সর্বশেষ তাদের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে শিশু, নারী এবং বয়স্ক সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছায়েদ আলী, মনজু মিয়া, শাহ আলম এবং সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন