জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৪:৫২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের প্রবেশপথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষক সামি আল-আরিয়ান মনে করেন, এমন কোনো সমঝোতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এলোমেলো হলেও, তিনি ইরানকে আঞ্চলিকভাবে দুর্বল না করে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কার্যকর মনে করবেন না।
আরিয়ানের মতে নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটগুলোর পেছনে মূল ভূমিকা রয়েছে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর। পাশাপাশি গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ কিংবা অন্যান্য ইরানঘনিষ্ঠ শক্তিকে দুর্বল না করে এ অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকের ভাষ্য, নেতানিয়াহু এমন একটি আঞ্চলিক পরিস্থিতি দেখতে চান যেখানে ইসরাইলকে প্রধান প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে।
মিডল ইস্ট আইয়ের নিবন্ধে বলা হয়েছে, গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ইরানকে ঘিরে যে সংঘাত চলছে, সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। বরং এগুলো বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অংশ। লেখকের মতে, দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরেও ইসরাইল তার প্রত্যাশিত রাজনৈতিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। তবে নেতানিয়াহু এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না বরং আরও কঠোর কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে মনস্থ করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা দেশের ভেতর ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের ভোটাররা বিদেশে ব্যয়বহুল সামরিক অভিযান নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন—কেন মার্কিন জনগণকে অন্য দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য দিতে হবে। তাদের মতে, বিদেশি সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
এ ছাড়া সামনে থাকা মধ্যবর্তী নির্বাচনও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়ে, তাহলে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হবে বলে, সেখানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
লেখক আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সামি আল-আরিয়ানের মতে, এসব বাস্তবতা ওয়াশিংটনকে বোঝার সুযোগ দিচ্ছে যে, শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথই বেশি কার্যকর হতে পারে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যাতে দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বাধ্য হয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনে। কিন্তু লেখকের মতে, সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। একইভাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারেনি বা অঞ্চল থেকে তাদের প্রভাব সম্পূর্ণ সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়নি। ফলে উভয় পক্ষ এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে কেউই পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করছে না।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা এবং নিজস্ব নीतিগত স্বাধীনতা বজায় রাখা। লেখকের মতে, যদি কোনো যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতা ইরানকে ধ্বংসের মুখে না ঠেলে সংঘাত থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ দেয়, তাহলে সেটিকে তেহরানের জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবেই দেখা হবে। আর এজন্যই এই ধরনের একটি সমঝোতা নেতানিয়াহুর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ ও কূটনৈতিক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরির মতো বিষয় থাকতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
লেখকের মূল্যায়নে, এমন কোনো সমঝোতা কার্যকর হলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। তবে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রদের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হবে না। ফলে এই ধরনের সমঝোতা ইসরাইলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
সবশেষে সামি আল-আরিয়ান মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে আরও বড় ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। তার মতে, সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাষ্ট্র আঞ্চলিক আধিপত্য ধরে রাখতে পারে না। তাই সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া হলে তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকটে পড়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের কর্মক্ষম যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে বর্তমানে সারা দেশে ১১০টি কারিগরি ও কারিগরি-সমমনা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর ১২ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিচুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য আনিচুর রহমান তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কতটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) চালু রয়েছে এবং নতুন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আছে কিনা। মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংসদকে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেড বা কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় বছরে ১২ লাখের অধিক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘৫০টি উপজেলায় ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকটির প্রতি জনআস্থা বজায় রাখার দাবিতে ঝিনাইদহে তৃতীয় দফায় মানববন্ধন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। সোমবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ঝিনাইদহ শাখার সামনে ‘সচেতন গ্রাহকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েকশ গ্রাহক অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ব্যাংকটির প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ ও দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক সালফী আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল মোমেন, জিয়াউল ইসলাম খান, মাহাবুবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, সবুর হোসেন, আলতাফ হোসেন, নূরজাহান সাত্তার, ইয়াসমিন আরা, রিজিয়া বেগম ও ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহাবুবুর রহমান।
মানববন্ধন থেকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখা, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকটির প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এটি দৈনিক পত্রিকার জন্য সংক্ষিপ্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও পেশাদার সংবাদরূপে উপযোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা, মোজা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে আগামী জুলাই মাসে একটি পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাইলটভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পাটজাত স্কুল ব্যাগ প্রদান কার্যক্রমের প্রস্তুতিমূলক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, স্কুলে যাওয়ার উপযোগী জুতা ও মোজা সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে পাইলট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ লাখ পাটের স্কুল ব্যাগ সরবরাহে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং দ্রুত শিক্ষার্থীদের কাছে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশাবাদী, সরকারের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশব্যাপী এই পাইলট কর্মসূচি শুরু করতে সক্ষম হবো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর কাছে ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, জুতা এবং মোজা পৌঁছে দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। পিইডিপি-৫-এর আওতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি।
এ সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ