ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

দিনাজপুর, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ মাস পর শুরু হয়েছে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোয়েশনের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী।

তিনি জানান, বিকেল সাড়ে ৪টায় কাঁচা মরিচ বোঝাই ৩টি ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে অনুদানের চেক হস্তান্তর

ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে দেশের কাঁচা মরিচের চাহিদা পূরণের কার্যক্রম শুরু হলো।

সূত্রটি জানায়, কাঁচা মরিচ আমদানির খবর প্রকাশ হওয়ায় আজ সোমবার প্রথম দিনেই হিলি স্থলবন্দর পাইকারি বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।

সকাল ৩১০ টাকায় প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও বিকেলে তা কমে ২৫০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়েছে।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী কয়েকদিন ভারত থেকে দেশের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা মরিচ আমদানির পরিমাণ বাড়লে, দেশের বাজারে দাম আরও কমে আসবে।

আরও পড়ুন: আমি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে কাউকে মনোনয়ন দিইনি: মীর শাহে আলম

সূত্রটি জানায়, হিলি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে আইপি অনুমোদনের পর ৬৯ জন আমদানিকারক ব্যবসায়ী প্রায় ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন প্রতাপ জানিয়েছেন, পচনশীল পণ্য হওয়ায় ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের ট্রাকগুলো দ্রুত কোয়ারেন্টাইন ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

আমদানিকারকদের দাবী, পর্যাপ্ত আমদানি হলে খুব শিগগিরই খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসতে পারে বলে আশা করছেন।

আরও পড়ুন: মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস বন্ধ, যাত্রীরা দুর্ভোগে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাভার সমাবেশে অভিবাসী সমাজের ভূয়সী প্রশংসা মার্কিন রাজনীতিকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


নাভার সমাবেশে অভিবাসী সমাজের ভূয়সী প্রশংসা মার্কিন রাজনীতিকদের

মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত অধিকার এবং মর্যাদা আদায়ের পথ সুগম করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশীদের মত নবাগত অভিবাসী সমাজের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকরা। এই প্রশংসা বিশেষ করে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত ‘নিউ আমেরিকান ভোটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তথা নাভার সমাবেশে বক্তারা করেছেন।

গুরুত্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে বাংলাদেশীদের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটির কল্যাণে নিবেদিতদের মধ্যে ‘স্বীকৃতি সনদ’ বিতরণের এটি ছিল ১৯তম বার্ষিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, অ্যাসেম্বলিম্যানরা। তারা নবাগত আমেরিকানদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন এবং সবাই নাভা’র কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপূরক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা মন্তব্য করেছেন যে এর মাধ্যমে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথ সুগম হয়।

এই সময় কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডস, স্টেট সিনেটর জন সি. ল্যু, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান এডওয়ার্ড ব্রনস্টেইন, ডেভিড ওয়েপ্রিন, মিশেল সি. সোলেজ এবং স্টিভেন রাগা ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আহত হনুমান এসে বসল সংবাদকর্মীর কাঁধে, পরে ফার্মেসিতে চিকিৎসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


আহত হনুমান এসে বসল সংবাদকর্মীর কাঁধে, পরে ফার্মেসিতে চিকিৎসা

 

বুকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ছোটাছুটি করছিল এক হনুমান। সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানের কাছে এগিয়ে গেলে, হনুমানটি কাঁধে উঠে বসে।

তার আকুতি দেখে সংবাদকর্মী তাকে স্থানীয় মেডিক্যালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হনুমানটি নিজেই ফিরে যায়। আজ সোমবার যশোরের কেশবপুর ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হনুমানটি শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে এসে মানুষের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য বুকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ছোটাছুটি করছিল।

এ সময় সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানের কাছে এগিয়ে গেলে হনুমানটি তার কাঁধে উঠে বসে। তখন সংবাদকর্মী হনুমানটিকে কাঁধে করে পাশের আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসিতে নিয়ে যান। হনুমানটির আকুতি দেখে দ্রুত ফার্মেসির কর্মচারীরা চিকিৎসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।

সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান বলেন, হনুমানটির কাছে যাওয়া মাত্রই সে কাঁধে উঠে বারবার মাথা এবং শরীরে হাত বোলাতে থাকে।

তার এমন আকুতিতে বিলম্ব না করে দ্রুত আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসিতে নিয়ে যাই। সেখানে কাঁধ থেকে নেমে হনুমানটি টেবিলের ওপরে বসে যায়। তখন ফার্মেসির মালিক আনোয়র হোসেনসহ কর্মচারীরা হনুমানটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আসবে তা জানা ছিল না। কাঁধে করে হনুমানটিকে চিকিৎসা করাতে পেরে মনটা খুবই ভালো হয়ে গেল।

এ ব্যাপারে আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসির ডাক্তার আনোয়ার হোসেন বলেন, হনুমানটির ক্ষত স্থানে ভায়োডিন ও লেবালন পাউডার লাগানোর পর সে স্বস্তিবোধ করতে থাকে। পরে সুস্থ বোধ করায় হনুমানটি তাদের দলে ফিরে যায়। তবে হনুমানটি কিভাবে আহত হয়, তা কেউ বলতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। তারা জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে থাকা একটি শিশুর জটিল জন্মগত ত্রুটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে সংশোধন করেছেন।

চিকিৎসকদের এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের কারণে বর্তমানে পাঁচ মাস বয়সী শিশু থিও সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে।

থিওর মা মেইজি স্যাভেজ, যিনি ২৯ বছর বয়সী এবং লন্ডনের বাসিন্দা। গর্ভাবস্থার ২৬তম সপ্তাহে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অস্ত্রোপচার করান। শিশুটির সমস্যা ছিল গ্যাস্ট্রোস্কিসিস। এই অবস্থায় ভ্রূণের নাভি ঠিকভাবে গঠিত হয়নি, ফলে অন্ত্রসহ কিছু অভ্যন্তরীণ অঙ্গ শরীরের বাইরে চলে আসে।

চিকিৎসকেরা অত্যাধুনিক কিহোল বা ক্ষুদ্র ছিদ্রের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ব্যবহার করে মায়ের জরায়ুর অংশ উন্মুক্ত করেন। এরপর তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশু থিওর বাইরে থাকা অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গগুলো আবার পেটের ভেতরে স্থাপন করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

বিশ্বের প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় এভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। থিও তৃতীয় শিশু, যে এই অস্ত্রোপচারের সুবিধা পেয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, যুক্তরাজ্যে বছরে প্রায় তিন হাজার নবজাতকের মধ্যে একজন গ্যাস্ট্রোস্কিসিস নিয়ে জন্মায়। এই ধরনের সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বেশির ভাগ সময় তিন সপ্তাহের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয় এবং তাদের টিউব বা শিরার মাধ্যমে পুষ্টি দিতে হয়। অস্ত্রোপচার দিতে হয় জন্মের পর।

তবে জটিল গ্যাস্ট্রোস্কিসিসে আক্রান্ত শিশুরা আরও গুরুতর সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের ছয় মাসের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হতে পারে, একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে এবং এমনকি দুই বছর পর্যন্ত শিরার মাধ্যমে পুষ্টি দিতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্র প্রতিস্থাপনও প্রয়োজন হয়। উন্নত চিকিৎসার পরেও প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু ঘটে।

থিওর বাবা-মা, মেইজি স্যাভেজ এবং জশ ফ্রেঞ্চ, দু’জনেই শিক্ষক। তারা জানান, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে তারা প্রথমে সমস্যার সম্পর্কে জানেননি।

জশ বলেন, “আমরা শুধু আমাদের সন্তানের ছবি দেখার জন্য উচ্ছ্বসিত ছিলাম। তখনও জানতাম না আমাদের ছেলে হবে।”

কিন্তু পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির গ্যাস্ট্রোস্কিসিস হয়েছে এবং তা সাধারণ নয়, বরং জটিল ধরনের। এর পর লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

একটি দল, টেক্সাস চিলড্রেনস হাসপাতালের ভ্রূণ ও শিশু সার্জনদের, এই অস্ত্রোপচারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করে। দলের নেতৃত্ব দেন প্রসূতি ও ভ্রূণ সার্জারি বিশেষজ্ঞ ড. মাইকেল বেলফোর্ট।

অস্ত্রোপচারের আগে মেইজি স্যাভেজকে বেলজিয়ামের লুভেন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা মায়ের জরায়ুর মাধ্যমে ভ্রূণের পেটের দেয়ালে বোটক্স ইনজেকশন প্রয়োগ করেন, যাতে মাংসপেশি শিথিল হয় এবং অস্ত্রোপচার সহজ হয়।

বেলজিয়াম থেকে টেক্সাসে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত বছরের নভেম্বরে, গর্ভাবস্থার ২৬তম সপ্তাহে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা মায়ের জরায়ুর একটি অংশ বাইরে এনে ভ্রূণকে উপযুক্ত অবস্থানে স্থাপন করেন। এর পর জরায়ু থেকে অ্যামনিয়োটিক তরল বের করে তার জায়গায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রবেশ করানো হয়, যাতে অস্ত্রোপচারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়।

পরে কিহোল সার্জারির মাধ্যমে শিশুটির বাইরে থাকা অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ ধীরে ধীরে পেটের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় এবং ক্ষতস্থান সেলাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অস্ত্রোপচারের পর মেইজির শরীরে সিজারিয়ান অপারেশনের তুলনায় বড় একটি দাগ থেকে যায়। তবে অস্ত্রোপচারের পরেও তাকে আরও ১৪ সপ্তাহ গর্ভে সন্তান ধারণ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “সেরে ওঠাটা খুব কঠিন ছিল। থিও প্রায়ই নড়াচড়া করত, ফলে ক্ষতস্থানে ব্যথা হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কষ্টই সার্থক হয়েছে।”

অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফল হওয়ায় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গর্ভধারণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসেই স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে থিও জন্ম নেয়।

বর্তমানে তার বয়স পাঁচ মাস এবং সে স্বাভাবিক শিশুদের মতো বেড়ে উঠছে। ড. মাইকেল বেলফোর্ট বলেন, “মা, শিশু, অস্ত্রোপচারের সময়—সবকিছুই অসাধারণ ছিল। ভ্রূণের ওপর অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি।”

গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক পাওলো ডে কপ্পি জানান, চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হলে খুব শিগগিরই যুক্তরাজ্যেও এই অস্ত্রোপচার শুরু হবে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক রোগীকে এই চিকিৎসাসেবা দিতে পারব।”

ড. বেলফোর্টও আশাবাদী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মায়ের গর্ভেই হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কিছু জটিল অস্ত্রোপচারও করা সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে থিও। মেইজি বলেন, “চিকিৎসকেরা যা করেছেন, তাতে ওর জীবনের শুরুটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন ও একেবারে স্বাভাবিক একটি শিশু।”

থিওর বাবা জশ বলেন, “আমরা নিজেদের খুবই ভাগ্যবান মনে করি। চিকিৎসকেরা শুধু আমাদের সন্তানের জীবনই বদলে দেননি, আমাদের পুরো পরিবারকে নতুন জীবন দিয়েছেন। এত কঠিন সময়ে তারা যেভাবে পাশে ছিলেন, তা আমরা কোনও দিন ভুলব না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারাজকে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


পদ্মা ব্যারাজকে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে: ড. তিতুমীর

 দেশীয় প্রযুক্তি এবং জনগণের বাস্তব চাহিদা কেন্দ্র করে পদ্মা ব্যারাজের মতো বহুমাত্রিক জাতীয় পরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা ব্যারাজকে শুধুমাত্র একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি পরিবেশ, মানুষ এবং নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বিস্তারিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নীতিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই সংলাপটির আয়োজন করেছে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।

দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বিপ্লবী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই খাতে স্থবিরতা ছিল। এদিকে ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং পরিবেশগত বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পটির নকশায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, উজানের নদীগুলোতে এখনও প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এই অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা এবং আন্তর্জাতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে, এটি তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনা সবসময় ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়।

আলোচনায় বলা হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে ৭টি আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. তিতুমীর জানান, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটের এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে সুন্দরবনের ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে গড়াই, মাথাভাঙা, মধুমতি, চন্দনা এবং ইছামতীর নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে যশোরের ভবদহ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি এবং অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা এবং রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪৬ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রকল্পটির অবদান হতে পারে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত।

প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%