ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৯০ দেশে মুসলিমদের তৈরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলফাফা ব্যবহৃত হচ্ছে


১৯০ দেশে মুসলিমদের তৈরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলফাফা ব্যবহৃত হচ্ছে

বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জন্য ইসলামি আদর্শে পরিচালিত সামাজিক মাধ্যম ‘আলফাফা’ দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বর্তমানে ১৯০টিরও বেশি দেশের মুসলিমরা এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর মিলিয়ে এই অ্যাপটি ইতোমধ্যে ৩ মিলিয়নেরও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। প্রতি মাসে ৭০ হাজারের বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছেন।

মূলধারার সামাজিক মাধ্যমগুলোর বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও ‘আলফাফা’ নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করেছে ইসলামি নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে অশ্লীলতা, ফিতনা বা ইসলামবিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিছু ইসলামপ্রিয় তরুণ এই উদ্যোগের সূচনা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি সামাজিক মাধ্যম তৈরি করা, যেখানে ঈমান ও আমল রক্ষা করে দাওয়াহ, শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী একটি ডিজিটাল উম্মাহ গড়ে তোলা।

আলফাফা’র নির্বাহী পরিচালক আসিফ সাঈদ গণমাধ্যমকে জানান, "বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের যে প্রয়োজন, তা মূলধারার মাধ্যমগুলো যথেষ্ট পূরণ করতে পারে না। বরং সেসব প্ল্যাটফর্মে ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা ইসলামি মতাদর্শে পরিচালিত একটি হালাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা চাই একটি ‘ডিজিটার উম্মাহ’ তৈরি করতে।"

প্রতিষ্ঠানটি ‘Alfafaa Connect’ নামে একটি লাইট ভার্সন উন্মোচন করেছে, যা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি এবং কম ডেটা খরচে দ্রুতগতির অভিজ্ঞতা প্রদান করে। পাশাপাশি, নতুন একটি অ্যাপ চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস ও বিভিন্ন ইসলামি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়। ব্যবহারকারীরা এখানে তাদের ব্যবসা, মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, চাকরি বা পেশাদার প্রোফাইল বিনামূল্যে তালিকাভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে অনুদান দেওয়ার সুবিধা ও ই-ওয়ালেট যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন কোর্সে যুক্ত হয়েছেন ৭ হাজার শিক্ষার্থী। পাশাপাশি, আলফাফায় ইতিমধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি রিলস প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি এটি ব্লগ, ফোরাম, চাকরি, শিক্ষাদান ও ই-কমার্সসহ বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ মুসলিম ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করছে। এক ক্লিকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। শিগগিরই আলফাফায় বই কেনাবেচার বাজার চালু হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটিতে বই পড়ার সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। গুগল প্লে স্টোরে ‘alfafaa’ লিখে সার্চ করলেই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১৬

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিতে ভর্তি খাদে পড়ে যায়। বাসটি দর্শনা পরিবহনের ছিল।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসাড়া এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন এবং আহত হন ১৬ জন।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্র থেকে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়ে চলাকালীন একটি কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে বাসটি সড়কের পাশে থাকা রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পানিতে ভর্তি খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকাজের মাধ্যমে আহত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। বাকি পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আহত ১৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) এবং বোরহান উদ্দিন (৫৫)।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর, দামুড়হুদা ও কাপাসডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদর এলাকার বাসিন্দারাও আহতদের তালিকায় রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছোট তেলাপোকা দমনে কার্যকর ওষুধ: দাম ও ব্যবহারের নিয়ম জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


ছোট তেলাপোকা দমনে কার্যকর ওষুধ: দাম ও ব্যবহারের নিয়ম জানুন

রান্নাঘরের ক্যাবিনেট, ফ্রিজের পেছন অথবা খাবারের তাকের মধ্যে ছোট তেলাপোকা উপদ্রব শুরু হলে তা সহজে বন্ধ হয় না। বাজার থেকে স্প্রে কিনে ব্যবহার করলেও অনেক সময় কয়েকদিন পর পুনরায় তেলাপোকা দেখা যায়। এর কারণ হলো, স্প্রে করে দৃশ্যমান তেলাপোকা মারার পরও লুকিয়ে থাকা পোকা ও ডিমের থলি থেকে নতুন তেলাপোকা বের হতে পারে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য সাধারণ স্প্রের পাশাপাশি জেল বেইট, বোরিক অ্যাসিডভিত্তিক পণ্য এবং উপযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনটি বেশি কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে তেলাপোকার প্রজাতি, উপদ্রবের মাত্রা এবং সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর।

ছোট তেলাপোকা দমনে কোন ধরনের ওষুধ কার্যকর?

১. তেলাপোকা মারার জেল বেইট

ছোট তেলাপোকার উপদ্রবের ক্ষেত্রে জেল বেইট প্রায়শই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্পগুলোর একটি হয়ে থাকে। এতে আকর্ষণীয় খাবারের উপাদানের সঙ্গে কীটনাশক মেশানো থাকে, ফলে তেলাপোকা জেল খেয়ে মারা যায়। সঠিক পণ্য ও ব্যবহারের মাধ্যমে এটি লুকিয়ে থাকা তেলাপোকার সংখ্যা কমাতেও সহায়তা করে।

জেল সাধারণত সিঙ্কের নিচে, ক্যাবিনেটের কোণে, ফ্রিজের পেছনে এবং তেলাপোকার চলাচলের কাছাকাছি ছোট ছোট বিন্দুতে ব্যবহার করা হয়। খাবার তৈরির পৃষ্ঠ, বাসন কিংবা খাবারের সংস্পর্শে আসতে পারে এমন স্থানে এটি দেওয়া উচিত নয়।

২. বোরিক অ্যাসিডভিত্তিক পাউডার

বোরিক অ্যাসিডযুক্ত নির্দিষ্ট কীটনাশক পণ্যও তেলাপোকা দমনে কার্যকর। তবে পাউডার মোটা করে ছড়িয়ে না দিয়ে পণ্যের লেবেল অনুযায়ী উপযুক্ত ফাঁক বা লুকানোর স্থানে ব্যবহার করা উচিত। শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৩. তেলাপোকা মারার স্প্রে

স্প্রে দ্রুত দৃশ্যমান তেলাপোকা মারতে সক্ষম। তবে ক্যাবিনেটের গভীরে বা দেয়ালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা তেলাপোকা নির্মূল করতে এটি একা যথেষ্ট নাও হতে পারে। জেল বেইটের আশপাশে স্প্রে করলে তেলাপোকা জেলের কাছে আসা কমিয়ে দিতে পারে। তাই দুটো একসঙ্গে নির্বিচারে ব্যবহার করা উচিত নয়।

৪. ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর (IGR)

কিছু পণ্যে এমন উপাদান থাকে, যা তেলাপোকার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে বাধা দেয়। ব্যাপক উপদ্রবে প্রশিক্ষিত পেস্ট কন্ট্রোল কর্মীরা জেল বেইটের সঙ্গে এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে সব পণ্যে IGR থাকে না এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে সব তেলাপোকা মেরে ফেলে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ামতের মহিমা ও কৃতজ্ঞতার অমর বাণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


নিয়ামতের মহিমা ও কৃতজ্ঞতার অমর বাণী

মানবজীবন মহান আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। মাটি, পানি, আলো, বাতাস, বিবেক ও জ্ঞান—এসবই মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। তথাপি, মানুষ অনেক সময় মহান আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রহমান আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত ও তাঁর প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। আর-রহমান শব্দের অর্থ পরম করুণাময়। সুরাটির শুরুতেই মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণার পরিচয় তুলে ধরেছেন।

সুরা আর-রহমান পবিত্র কোরআনের ৫৫তম সুরা। এর আয়াতসংখ্যা ৭৮। পারা ২৭। এই সুরার একটি বিশেষত্ব হলো মহান আল্লাহ তাআলা এখানে একটি আয়াত ৩১ বার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আয়াতটির অর্থ হলো, "তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?" বিভিন্ন নিয়ামত ও সৃষ্টির নিদর্শন বর্ণনার পর বারবার এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিনকে তাঁর অনুগ্রহ স্মরণ করতে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আহবান জানিয়েছেন।

সুরা আর-রহমানের আয়াতগুলোতে ছন্দোময় ভাষা, অন্ত্যমিল ও অপূর্ব বর্ণনাশৈলী লক্ষ্য করা যায়। এর শ্রুতিমধুর উপস্থাপন এবং নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতার গভীর বার্তার কারণে একে নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতার মহাকাব্য হিসেবে অভিহিত করা যায়। সুরাটির ছন্দোময় বর্ণনা পাঠকের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সৃষ্টিজগতের প্রতি উপলব্ধি জাগিয়ে তোলে। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "প্রতিটি জিনিসেরই একটি সৌন্দর্য রয়েছে, আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।" (শুআবুল ঈমান, হাদিস ২২৬৫)

এই সুরায় মহান আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতের বিভিন্ন নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সমুদ্রের বিস্ময়কর নিদর্শনের কথাও আছে। সুরাটির ১৯ ও ২০ নম্বর আয়াতে দুটি সমুদ্রের মিলন এবং তাদের মাঝখানে অন্তরালের কথা বলা হয়েছে। অনেকেই এর উদাহরণ হিসেবে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থল অর্থাৎ মরক্কো ও স্পেনের মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালির কথা উল্লেখ করেন। সেখানে পানির লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন জলস্তরের বৈশিষ্ট্য আলাদা থাকতে পারে। এ ধরনের প্রাকৃতিক নিদর্শন মানুষকে সৃষ্টিজগতের বিস্ময় নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

সুরা আর-রহমানের ফজিলত সম্পর্কে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে সুরা আর-রহমানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছিলেন। পরে তিনি জানান, জিনদের সামনেও তিনি এই সুরা তিলাওয়াত করেছিলেন। তখন তারা "তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে"—এই আয়াতের জবাবে বলেছিল, "আমরা আমাদের রবের কোনো নিয়ামতকেই অস্বীকার করি না; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।" (তিরমিজি, হাদিস ৩২৯১)

এই বর্ণনা থেকে আল্লাহর নিয়ামতের স্বীকৃতি এবং তাঁর প্রশংসা করার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। সুরা আর-রহমানের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন এবং একই প্রশ্ন বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে আহবান জানিয়েছেন।

সুরাটি আমাদের শেখায়, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে প্রকাশ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁর দেওয়া নিয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং ন্যায়ের পথে চলাও জরুরি। সৃষ্টিজগতের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, সম্পদের অপচয় রোধ এবং অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসাও নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহারের অংশ।

পরিশেষে বলা যায়, সুরা আর-রহমান আল্লাহর রহমত, নিয়ামত ও মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়। এর ছন্দোময় বর্ণনা, নিয়ামতের পুনঃ পুনঃ স্মরণ এবং পরকালীন জবাবদিহির বার্তা মানুষকে আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দেয়। এর মর্ম উপলব্ধি করে ব্যক্তিজীবন ও সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারলেই কৃতজ্ঞতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইপিএলের আগে চেন্নাই সুপার কিংসে আয়ুশের গুরুতর ইনজুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


আইপিএলের আগে চেন্নাই সুপার কিংসে আয়ুশের গুরুতর ইনজুরি

আগামী মৌসুমের আইপিএল শুরুর পূর্বে চেন্নাই সুপার কিংস বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলের তরুণ ক্রিকেটার আয়ুশ মাত্রে আবারও গুরুতর ইনজুরির শিকার হয়েছেন। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পাওয়ার কারণে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ককে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ফলে তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন।

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে আয়ুশের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এই সার্জারি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত চিকিৎসক দিনেশ পারদিওয়ালা। অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে ক্রাচে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটার চেষ্টা শুরু করেছেন তিনি। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে তার অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

গত ১১ অক্টোবর রঞ্জি ট্রফিতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলতে গিয়ে রান নেওয়ার সময় আয়ুশ ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-৪ টিয়ারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা এরপর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

এই বছর ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার একের পর এক ইনজুরির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত এপ্রিলে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। সেই ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে তাকে প্রায় তিন মাস পুনর্বাসনে কাটাতে হয়েছিল। মাঠে ফেরার কিছু মাসের মধ্যে আবার নতুন করে ইনজুরিতে পড়লেন তিনি।

আয়ুশের ইনজুরির কারণে রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের ওপেনিং জুটিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী ম্যাচে হিমাচল প্রদেশের বিপক্ষে জয়সওয়াল জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার কারণে এবং আয়ুশের ছিটকে যাওয়ায় নতুন ওপেনিং জুটি হিসেবে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ও দিব্যাংশ সাক্সেনাকে মাঠে নামানো হয়েছে মুম্বাইয়ের পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%