বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১২ এম
বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বুধবার নতুন মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে ব্যাংকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান ভবনের পঞ্চম তলায় জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান ও করণীয় তুলে ধরা হতে পারে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটানোও অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়েছে এবং একই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও নতুন বেতন কাঠামো মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে নীতিনির্ধারকদের বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতের আওতায় সুনামগঞ্জের শাল্লায় রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম থাকলেও তিনি এতে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মুক্তারপুর ঘাট এলাকায় পোনা অবমুক্তকরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সন্দীপন মজুমদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখা যায়। প্রধান অতিথি বিদেশে আছেন জেনেও কেন ব্যানার থেকে শুরু করে আয়োজনে সমন্বয়হীনতা তৈরি হলো, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কোনো কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। দলটির একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি, আমরা বিন্দুমাত্র অবহিত ছিলাম না।"
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াসচন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা সাধারণের বড় কোনো উপস্থিতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে পোনা অবমুক্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়।
অন্যদিকে মৎস্যচাষীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একাধিক খামারির অভিযোগ, তাঁরা নিয়মিত ও প্রকৃত চাষী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কোনো পোনা দেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগ উঠেছে—একই সুবিধাভোগীকে বারবার পোনা দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাভোগীদের তালিকা এবং পোনা না পাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা সন্দীপন মজুমদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—এমপি সাহেবের বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি পূর্বজ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কেন স্থানীয়দের না জানিয়ে ও সমন্বয় না করে গোপনে এই আয়োজন করা হলো? একই সঙ্গে রাজস্ব খাতের সরকারি পোনা বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈধ অভিবাসনের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্য নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে নৈতিক অভিবাসন, বৈধ পথে কর্মী পাঠানো উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইইউ। বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ট্রেনিং ফাউন্ডেশন আনয়ন এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনেও ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় শ্রম আইন সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে একাধিক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইইউকে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ (RAISE)’ প্রকল্পের কার্যক্রমও সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, যদি বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়, তবে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে কিংবা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; বরং এর মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব উদ্যোগ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি হবে।
শিক্ষক উন্নয়নের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, হিট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নয়নের এসব কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্রে হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, দেশে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা কার্যক্রমের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান প্রদান ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, হিট প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে হিট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনসহ হিট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান।
এ সময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ