প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় 'বাংলাদেশি' শনাক্ত করার কথিত অভিযানে আটক হয়েছে শত শত পরিযায়ী শ্রমিক, এমন অভিযোগ করেছে চারটি নাগরিক অধিকার, আইনজীবী ও শ্রমিক সংগঠন।
এই অভিযোগে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশুরাও। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিচালক ও বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারের কাছে উত্থাপন করা অভিযোগে এমন দাবি করা হয়েছে।
পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস ইউনিয়ন এবং অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নসের পক্ষ থেকে অভিযোগে জানানো হয়েছে, পুলিশি অভিযানে 'বেআইনি আটক, মারধর ও অমানবিক আচরণের' ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, শনিবার ভোরে বিভিন্ন বস্তি ও শ্রমজীবী এলাকায় পুলিশ বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছে। নথি দেখানোর পরও পুলিশের বিরুদ্ধে অনেককে জোর করে আটক করার অভিযোগ রয়েছে, যাদের পুলিশের জিপ বা বাসে তুলে থানায়, কনভেনশন সেন্টার এবং ম্যারেজ হলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত বাংলাদেশিদের শনাক্ত করার অভিযানে ব্যান্ডেপাল্যা এলাকায় দুই শতাধিক, হেব্বাগোডিতে প্রায় একশ’ ৫০ জন এবং পারাপ্পানা অগ্রহারা এলাকায় চারশ’ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভার্থুর, সোমাসুন্দরাপাল্যা, হোয়াইটফিল্ড, মহাদেবপুরা ও মারাঠাহাল্লি এলাকাতেও অনেক মানুষকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভার্থুর থানায় আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, হেব্বাগোডিতে পুলিশ একটি বসতির দরজা ও সিসিটিভি ভেঙে ৫০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় আটক ব্যক্তিদের ফোন থেকে ব্যক্তিগত বার্তা ও কলের তথ্য যাচাই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নম্বরে ফোন বা কলের তথ্য পাওয়ার মতিয়ে কয়েকজনকে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য হলো, 'ফোনে অন্য দেশের নম্বর থাকা কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।'
অভিযোগকারীরা এই অভিযানকে 'বেআইনি ও সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য' বলে দাবি করেছেন এবং জানান, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা সম্ভব নয়।
চার সংগঠন আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি, আহতদের চিকিৎসা, পুরো ঘটনাটির স্বাধীন তদন্ত এবং অভিযানে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য নথি সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণেরও দাবি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন