বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১২ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : সাবেক মন্ত্রী এবং সাংবাদিক নেতা আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুর বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের মসজিদে, যেখানে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, সিনিয়র সাংবাদিক কাজিম রেজা, বুলবুল আহমেদ এবং ডিইউজের অন্যান্য সদস্যরা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক, মেধাবী রাজনীতিক এবং সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ ২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট ইন্তেকাল করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সম্প্রসারণের লক্ষ্যে, থাইল্যান্ডের সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবার-এর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) পরিদর্শন করেছে।
এ উপলক্ষ্যে, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বোয়েসেলের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবার-এর চেয়ারম্যান মি. নিরুত্তি সুটিনন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অপরদিকে, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বোয়েসেল প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল, নৈতিক, নিরাপদ এবং স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ কর্মী প্রেরণের বিদ্যমান মডেল সম্পর্কে থাই প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। এ মডেল সম্পর্কে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে বোয়েসেলের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
বৈঠকে, থাইল্যান্ডের নির্মাণ, কৃষি, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য থাইল্যান্ডের সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবার-এর প্রতি বোয়েসেলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
এ সময় বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রেরণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাদের অভিযোজন এবং নিরাপদ ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে শ্রমবাজারভিত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য থাইল্যান্ডে অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
একই সঙ্গে, স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বৈঠকটি শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ফাঁসির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু হয়ে এই বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে থামে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, গহনা ও টাকা লুট করার উদ্দেশ্যে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারের নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়েছে।
তারা তাদের দাবি জানান যে, ঘুমন্ত অবস্থায় ফরিদাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর তাঁর মরদেহকে কুপিয়ে খণ্ডিত করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত লাইলী আক্তারসহ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তাঁরা অভিযোগ করেন যে, বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বারবার অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া বক্তারা দাবি করেন যে, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে একটি শিশু হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তাঁরা জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়ে যান।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যদি ওই মামলায় যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হত, তাহলে পরবর্তীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটত না।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। এমন সাজা দিতে হবে, যা ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা হয়ে থাকে।’
প্রতিবাদ সভায় নিহতের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির উদ্দিন, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
পরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে ফরিদার মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, ফ্যাক্ট-চেকিং ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল, বুধবার, সকাল ১০টায় শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
শাহরাস্তি মেডিল্যাব হসপিটাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ও প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য ডাক্তার আরিফ উল হাসান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার শুরুতে ‘সংবাদের উৎস, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা ও সাংবাদিকতায় নৈতিকতা’ এই বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণ দেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত। তিনি এসময় তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এর পরস্থ ‘সংবাদ সংগ্রহ ও রিপোর্টিং’ বিষয়ের প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রহিম বাদশা।
দুপুর ১টায় ‘এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ বিষয়ক প্রাণবন্ত প্রশিক্ষণ দেন বুম বাংলাদেশের ফ্যাক্ট-চেকার ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাস্টার ট্রেইনার তৌসিফ আকবর।
দুপুরের খাবারের বিরতির পর বেলা আড়াইটায় ‘মফস্বল সাংবাদিকদের ক্যারিয়ার প্ল্যান’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।
দিনের শেষ প্রশিক্ষণ সেশনে ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতার কলাকৌশল’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন আরটিভির ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যান্ড মোবাইল জার্নালিজমের ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন।
বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও কার্য নির্বাহী সম্পাদক ফয়েজ আহমেদের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।
দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণে শাহারাস্তি প্রেসক্লাবের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিরাপদ রাখতে অত্যন্ত গোপনীয় এক বিমান পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তাও জানতেন না, প্রেসিডেন্ট যে বিমানে উঠেছিলেন বলে তারা মনে করছেন, সেটিতে তিনি আদৌ ছিলেন না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই রাতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার বিমানবন্দরে এই গোপন অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করার পর বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তার নির্ধারিত বিমান থেকে গোপনে নামিয়ে একটি সাধারণ ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয়। পরে ওই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে পাশের একটি সামরিক উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আলাদা বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প নিজেও বিমানের গোপন পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই তাকে অন্য বিমানে যেতে হয়েছিল।
মাত্র ৬০ সেকেন্ডে পুরো অভিযান। প্রতিবেদনের মতে, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে নামানো হয়। এর কিছুক্ষণ আগেই তাকে ওই বিমানটিতে উঠতে দেখা গিয়েছিল।
এরপর মাত্র প্রায় এক মিনিটের মধ্যে ট্রাম্প এবং তার সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিমানের পাশে থাকা খাবার ও পানীয় সরবরাহের ক্যাটারিং ট্রাকে উঠে পড়েন। ট্রাকটি তাদের নিয়ে দ্রুত রানওয়ের অন্য প্রান্তে অপেক্ষমাণ একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানের কাছে যায়।
সেখান থেকে ট্রাম্প ও তার দলকে বিমানে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়, যাতে বিমানবন্দরে থাকা সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা কোনও অস্বাভাবিকতা টের না পান।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা দলের এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিকর বিমান হিসেবে রেখে দেওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন কারা? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বিমানে ওঠা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তার নির্বাহী সহকারী নাটালি হার্প এবং ওভাল অফিসের কার্যক্রমবিষয়ক পরিচালক ওয়াল্ট নাউটা।
অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনোও ওই তিন সদস্যের দলে ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনে। একটি সূত্র তাকে প্রেসিডেন্টের ‘সংযোগের সেতু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আরেক সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বিমানে যাওয়ার জন্য হার্পই ছিলেন প্রেসিডেন্টের ‘প্রথম পছন্দ’।
হার্পকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘মানব প্রিন্টার’ বলেও ডাকা হয়। কারণ প্রেসিডেন্ট যে সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্যান্য লেখা পড়তে চান, সেগুলোর প্রিন্ট কপি তিনি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগী- হার্প, নাউটা ও স্ক্যাভিনোকে একটি সূত্র ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ বা ‘তিন তলোয়ারধারী’ বলেও উল্লেখ করেছে।
কেন এই তিনজনকে নেওয়া হয়েছিল? একটি সূত্রের ভাষ্য, ট্রাম্পের খুব কাছের হলেও হার্প, নাউটা ও স্ক্যাভিনো এমন পর্যায়ের কর্মকর্তা নন, যাদের প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্রটির ভাষ্যায়, তারা প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তার কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাশাপাশি তারা এমন পর্যায়ের নন, যাদের সবাইকে একসঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে রাখলে প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে না গিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থেকে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এবং রাষ্ট্রদূত মনিকা ক্রাউলি।
তাদের বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মাইল্ডেনহল ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা যায়।
সবাই কি জানতেন ট্রাম্প বিমানে নেই? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনের খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা জানতেন।
শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রিসভা সদস্য- বিশেষ করে রুবিও-বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। তবে বিমানে থাকা অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা জানতেন না যে, তারা আসলে একটি ‘ডিকয়’ বিমানে অবস্থান করছেন।
রুবিওর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, পরিকল্পনার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও যুক্ত ছিলেন এবং নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে জানার পর খুব দ্রুত পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়।
সূত্রটির ভাষ্য, ট্রাম্প প্রতিদিন যাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের কয়েকজনই ওই বিমানে ছিলেন। ফলে কারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকবেন আর কারা মূল বিমানে থাকবেন- এ তথ্য খুব সীমিত পর্যায়ে রাখা হয়েছিল।
জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন কিছু কর্মকর্তা। রুবিওর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আরও দাবি করেছে, কিছু মন্ত্রিসভা সদস্য প্রেসিডেন্টের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন।
সূত্রটির বক্তব্যের সারমর্ম হলো, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গোপন বিমানে না গিয়ে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই হয়তো জানতেন না যে, তারা সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প বা ‘ডিকয়’ বিমানে পরিণত হয়েছেন।
তবে কারা পুরো পরিকল্পনা জানতেন এবং কারা জানতেন না- এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা দেওয়া হয়নি।
কী ছিল ইরানের হুমকি? প্রতিবেদনে অনুযায়ী, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
এর পরই ট্রাম্পের জন্য বিকল্প বিমান ও রুট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রকে সাধারণত ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) বলা হয়। এগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট ও বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যা নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত উড়োজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট হুমকির উৎস, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার মাত্রা কিংবা ইরানের কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী হামলার পরিকল্পনা করেছিল কি না- এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আমি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কথা মেনে চলি: ট্রাম্প। ঘটনাটি নিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই গোপনে বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য বিমানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল এবং তিনি তাদের নির্দেশ মেনে চলেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, তিনি নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্য ফ্লাইটে যান। তার ধারণা, যে বিমানে তিনি প্রথমে উঠেছিলেন, সেটিই হয়তো ইরানের সম্ভাব্য হামলার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
কারণ শত্রুপক্ষ যদি হামলা চালাত, তাহলে সেটিকে প্রেসিডেন্টের বিমান হিসেবেই চিহ্নিত করার সম্ভাবনা বেশি ছিল বলে তিনি মনে করেন।
‘ঘোস্ট ফ্লাইট’ কৌশল নতুন নয়। ট্রাম্পের বিদেশ সফর সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ‘ঘোস্ট ফ্লাইট’ বা বিভ্রান্তিকর বিমান ব্যবহারের কৌশল নতুন নয়।
সূত্রটির দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও নিরাপত্তা হুমকি থাকলে ট্রাম্পের জন্য একাধিক বিমান ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন বিমানে ভিন্ন ভিন্ন কর্মী রাখা হতো, যাতে সম্ভাব্য হামলাকারীরা ট্রাম্পের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারে।
তবে এর আগে ঠিক কোন কোন ঘটনায় এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সূত্রটি বিস্তারিত জানায়নি।
এক মাস গোপন রাখা হয়েছিল ঘটনা। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই গোপন বিমান বদলের ঘটনা এক মাসেরও বেশি সময় গোপন রাখতে সক্ষম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের অনেকেই তখন মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গেই একই বিমানে রয়েছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসের সফরসঙ্গী অনেক কর্মীও বিষয়টি জানতেন না বলে সূত্রের দাবি।
ফলে ট্রাম্পকে ক্যাটারিং ট্রাকে করে সামরিক বিমানে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে গোপন রাখা সম্ভব হয়। সূত্র: ডেইলি মেইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ