১০:১১ পি.এম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দখল বা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না, এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ব্যাংক উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাউকে টানাটানি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
বুধবার (৩ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি সরকারকে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না।
বিগত সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদল পালিয়ে গেছে পাশের দেশে, বাকি দল যাবে কোথায়? জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে এবং কখনো গৃহপালিত বিরোধী দল হবে না বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই, এরা বসন্তের কোকিল। দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্য যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন, তবে দেশ থেকে চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব।
বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে এবার ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস জার্মানির
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকট যদি কৃত্রিম হয় তবে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে হয়, তবে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। জাতীয় সংসদ সঠিকভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গ্যাসের মজুদ কমে গেলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। গ্যাসের দাম ৬০০-৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে মাত্র ৫০ টাকা কমানোকে তিনি জাতির সঙ্গে তামাশা বলে অভিহিত করেন।
সবশেষে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জনগণের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মানে জিহবাটা বের করে হাঁফাচ্ছে: মো. তারেক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন