১২:০২ পি.এম
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব কারখানার চাকা সচল রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সেই অনুযায়ী, বন্ধ থাকা সরকারি সকল চিনিকলকে পর্যায়ক্রমে চালুর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বনির্ভর করে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি মতিঝিলের বিএসএফআইসি’র প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর আহ্বান: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে
শামছুজ্জামান সুরুজ আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ১৫টি সরকারি চিনি কলের মধ্যে ছয়টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব কারখানার আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ অব্যাহত রেখেছে। পর্যায়ক্রমে এসব মিলগুলোকে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিএসএফআইসি কাজ করে যাচ্ছে। কারণ বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদন বাড়বে, সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
চিনি কলগুলোর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব মিল হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং আশপাশের রাস্তাঘাট উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া চিনিকলগুলো জ্বালানি সাশ্রয়েও ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখছে বলেও শামছুজ্জামান সুরুজ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয় হত। কিন্তু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এই ব্যয় কমানোর কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে অপসারিত হলো ইমাম হোসেনের পিঠের দুই কেজির টিউমার
ভবিষ্যতে আখের ছোবড়া বা ব্যাগাস ব্যবহার করে ‘কো-জেনারেশন’ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান সরকারি চিনি কলের লোকসানের কারণ হিসেবেও মন্তব্য করেন যে, ঋণের সুদ এবং 'ট্রেড গ্যাপ' হচ্ছে লোকসানের অন্যতম কারণ। বেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সুবিধা পেলেও সরকারি চিনি কলগুলো সে সুবিধা যথাযথভাবে পায় না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।
তিনি জানান, ঋণের সুদ ও শুল্ক বাদ দিলে বিএসএফআইসির প্রকৃত লোকসান তেমন নেই। গত অর্থবছরেই কর্পোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট প্রদান করেছে।
শামছুজ্জামান সুরুজ আরও উল্লেখ করেন, নতুন নতুন বাই প্রোডাক্ট তৈরি করে লোকসান কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির বিপদ টের পেতে শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা
আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাষিদের প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান চাষিদের দ্রুত অর্থ পরিশোধের বিষয়েও বলেন, মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাষিদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। আগে কয়েকটি টেবিল ঘুরে অর্থ পেতে যে সময় লাগত, এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদসংশ্লিষ্ট পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি চিনিকলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য এ চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আখের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিএসএফআইসি বছরে প্রায় ৬৬ হাজার ৪৫ টন কার্বন শোষণে অবদান রাখছে। এছাড়া ১০টি আখের ঝাড় একটি বড় বটগাছের সমপরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে। কাজেই চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে বিএসএফআইসি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: মায়ের ঠাঁই জীর্ণ ঘরে, বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন অধ্যক্ষ ছেলে
শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং স্বনির্ভর চিনি শিল্প গড়ে তোলায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন