বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে রহস্য ও ধোঁয়াশা এখনও বজায় রয়েছে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে। চীনা প্রেসিডেন্ট এই সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে বেইজিং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেনি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না, সে সম্পর্কেও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি বেইজিংয়ের তরফ থেকে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নেই।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর থেকেই ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ধরনের সংশয় ও সতর্কতা বিদ্যমান। বিশেষ করে ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
তবে গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বরফ কিছুটা গলতে শুরু করে। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশই অস্থিরতার মুখোমুখি হওয়ায় বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের গতিপথ পরিবর্তন হতে শুরু করে। গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত যে চীনা বিনিয়োগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, নতুন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি তা কিছুটা শিথিল করেছে।
সম্প্রতি মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে আয়োজিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিং। সেই বৈঠকের সূত্র ধরে চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, উভয় নেতাই বিশ্বাস করেন যে ভারত ও চিন পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং অংশীদার। দুটি দেশই একে অপরের বিকাশের ক্ষেত্রে হুমকি না হয়ে সুযোগ হিসেবে কাজ করে।
যদিও কূটনৈতিক বার্তা ইতিবাচক, তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কিছু জটিলতা এখনও বিদ্যমান। বার্তা সংস্থার সূত্রে জানা যায়, চীনা কোম্পানিগুলোর ভারতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখন কড়া নজরদারি ও স্ক্রুটিনি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চমানের প্রযুক্তি বা অত্যাধুনিক উৎপাদন শিল্পের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে চীন সরকার নিজের দেশের প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এত সব টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত ও চীনের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য নতুন রেকর্ড গড়েছে। চীনের কাস্টমস তথ্যানুযায়ী, গত বছর দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ১২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও বাণিজ্য বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যের এই পরিসংখ্যানের আড়ালে দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে গভীর একটি ‘আস্থার সংকট’ এখনও বিদ্যমান। রেগুলেটরি জটিলতার কারণে ঝুলে থাকা বিনিয়োগ, ভিসা প্রদানে বিলম্ব এবং শিল্পসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে কড়াকড়ির মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট করে যে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সম্পর্কে বাস্তব বাধা এখনও কাটেনি। এ কারণেই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং জানিয়েছেন, চীন অবশ্যই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায়, তবে ভারত প্রকৃতপক্ষে কতটা সদিচ্ছা দেখাবে বেইজিং তার ওপর নজর রাখছে। তবে তিনি এটাও ইঙ্গিত দেন যে, এক বৈঠকে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে নয়াদিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পন্থ জানান, দুই দেশের মধ্যকার আস্থার ঘাটতি এখনও অনেক বেশি। তবে বিশ্ব বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি যখন দু দেশের ওপর প্রভাব ফেলছে, তখন চীনের অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও চীনের সম্পর্ক একটি নির্ভরযোগ্য জায়গায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পাঁচটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে নদ-নদীর পানির বৃদ্ধি নিয়ে। বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাউবো জানায়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকা এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
গঙ্গা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বিতীয় দিন স্থিতিশীল থাকবে, পরবর্তী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া, পদ্মা নদীর পানির সমতল আগামী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় গঙ্গা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সামরিকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আগামী ২৪-৭২ ঘণ্টায় গড়াই নদী ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। তিস্তা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, গত আগস্ট মাসটি বিশ্বব্যাপী এযাবৎকালের সর্বাধিক উষ্ণ মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সময়কালে সমুদ্রের তাপমাত্রাও নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পশ্চিম ইউরোপে, মাসটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল।
বৃহস্পতিবার, এই তথ্য প্রকাশ করেছে ইইউ জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মূল্যায়নের পর, মানবজাতি যদি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে সরে না আসে, তবে পৃথিবী আরও গভীরভাবে অজানা পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাবে।
কোপার্নিকাসের পর্যবেক্ষণের তথ্য ১৯৪০ সাল পর্যন্ত রয়েছে। তবে বরফের স্তর, গাছের বলয় ও প্রবালের কঙ্কালের মতো অন্যান্য প্রমাণ বিজ্ঞানীদের বর্তমান জলবায়ুকে আরো দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনা করার সুযোগ দেয়।
ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টসের সামান্থা বার্গেস বলেন, "মানুষ আজকের মতো এতো উষ্ণ তাপমাত্রা দেখেনি। যুক্তিসঙ্গতভাবে বলা যায়, অন্তত গত ১ লাখ বছরে এমনটা ঘটেনি।"
কোপার্নিকাস জানিয়েছে, আগস্টে বৈশ্বিক গড় বায়ুর তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রেকর্ড হওয়া আগের সর্বকালের মাসিক রেকর্ডকে ০.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। তবে, ব্যবধান খুবই সামান্য হওয়ায় কোপার্নিকাস দুই মাসকেই যৌথভাবে সর্বোচ্চ উষ্ণ বলে বিবেচনা করেছে।
বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, মানব কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। একই সঙ্গে চরম আবহাওয়ার তীব্রতা ও সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তাপ আটকে রাখা গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ২০২৫ সালে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সূত্র: এএফপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরভাগে অবস্থিত লাদাখ অঞ্চল, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, এবার সংবিধানের ৩৭১ ধারার আওতায় সুরক্ষা প্রদানের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মতি পেয়েছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে একটি নির্বাচিত পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটি প্রচলিত কোনো রাজ্য বা বিধানসভাসম্পন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আদলে প্রতিষ্ঠিত হবে না; বরং এটি ‘সুই-জেনারেস’ বা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি মডেলে পরিচালিত হবে।
লাদাখের মুখ্য সচিব আশিস কুন্দ্রা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, লাদাখকে পর্যাপ্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য ভারতীয় সংসদ সংবিধানের ৩৭১ ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে লাদাখকে সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং একটি নির্বাচিত পরিষদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আশিস কুন্দ্রা বলেন, "আমরা একটি অনন্য মডেল নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি সুই-জেনারেস বা স্বতন্ত্র মডেল হবে। লাদাখে একটি নির্বাচিত পরিষদ থাকবে, কিন্তু এটি বিধানসভাসহ কোনো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা রাজ্যের মতো হবে না।"
‘সুই-জেনারেস’ একটি লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ ‘নিজস্ব ধরনের’ বা ‘অনন্য’। বিশেষ ও স্বতন্ত্র কোনো পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়।
লাদাখের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে দলটি কাজ করছে, আশিস কুন্দ্রা সেই দলের সদস্য। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও লাদাখের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সময়, লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠন করা হয়। শুরুতে লাদাখের একাংশের মানুষ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সরাসরি আমলাতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। স্থানীয়রা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬’-এ বাংলাদেশ আমন্ত্রিত অতিথি দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। তিনি উল্লেখ করেন, এই আয়োজন আঞ্চলিক ফুটবলের মান উন্নয়নের পাশাপাশি সমর্থকদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের চমৎকার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশসহ তিনটি আমন্ত্রিত অতিথি দল অংশগ্রহণ করবে। আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি মূল পর্ব বা ‘ডিভিশন ১’-এ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত সময়ে জাতীয় দলগুলোকে অর্থবহ ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই ফিফা আসিয়ান কাপের সূচনা। এটি খেলোয়াড়দের তীব্র আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেবে। এই টুর্নামেন্ট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ফুটবলের মেলবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমর্থকদের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের অসাধারণ সব মুহূর্ত উপহার দেবে।’
২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে ১৪ দলের এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে। প্রায় ২০০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও মান আরও বাড়াতে এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। জাকার্তার গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় জামাল ভূঁইয়ার দল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর একই ভেন্যু ও সময়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ মোট তিনটি ম্যাচ খেলবে। ১ অক্টোবর একই মাঠে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ওই ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ