ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প


হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, একই সঙ্গে প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান বিষয়ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে। তার জানান মতে, হরমুজ প্রণালি এখন আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

তিনি আরও বলেন, ওই প্রণালি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ইরান সেখানে মাইন পেতেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এখন ওই জলপথকে মাইনমুক্ত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে।

তিনি দাবী করেন, শিগগিরই পুরো প্রণালি মাইনমুক্ত করা সম্ভব হবে।

ইরান বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান নিয়মিত তাকে মিথ্যা বলেছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে এখন ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত। এই প্রণালির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার। এক দিকে ইরান এবং অন্য দিকে ওমান অবস্থিত। ঐ জলপথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন

সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহাগী ছবি ভাগ করলেন মোহসিন! প্রাক্তন স্ত্রী উর্মিলা কোন ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহাগী ছবি ভাগ করলেন মোহসিন! প্রাক্তন স্ত্রী উর্মিলা কোন ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন?

মোহসিন তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রীতিভোজের একটি গুচ্ছ ছবি সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন। গোলাপি শেরওয়ানিতে মোহসিনকে দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে লাল পোশাকে নজর কেড়েছেন তাঁর স্ত্রী নিধা। মোহসিন তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কে জানান, “তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও। তুমি আমার ঘর, আমার শান্তি এবং প্রতিদিনের সবচেয়ে প্রিয় অংশ হয়ে উঠেছ। তোমাকে আমার জীবনে নিয়ে আসার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তোমাকে আগলে রাখব, তোমার পাশে থাকব এবং ভালবাসব, এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এই ভালবাসার জন্য চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।” এর পরেই উর্মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রহস্যময় বার্তা প্রকাশ পেয়ে যায়।

উর্মিলা মাতোণ্ডকরের প্রাক্তন স্বামী মোহসিন অখ্তরের এই আবেগঘন বার্তার মাঝে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে উর্মিলা লিখেছেন, “আমি দামি জিনিস পছন্দ করি— যেমন ভালবাসা, আনুগত্য এবং সময়।”

চলতি বছরের জুন মাসে মোহসিন প্রকাশ্যে দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানান। আবেগঘন বার্তায় নতুন করে ভালবাসা পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এই সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন জীবন শুরুর কথাও জানিয়েছেন। মোহসিন লিখেছিলেন, “বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য, সৎ ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয়। নিজের আত্মাকে পবিত্র রাখুন। বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ্‌র লেখা চিত্রনাট্য সব সময়েই ভাল। তাঁর নির্ধারিত সঠিক সময়ে আমার সুন্দরী স্ত্রী নিধাকে আমি পেয়েছি। উপরওয়ালা আশীর্বাদ করেছেন। তুমি আমার জীবনে আলো এনেছ। তাই তোমাকে ধন্যবাদ, ভালবাসা।”

মোহসিন এর আগে অভিনেত্রী উর্মিলার স্বামী ছিলেন। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আড়ম্বরহীন অনুষ্ঠানে বিয়ে হয়েছিল তাদের। তাঁদের সম্পর্ক খুব আলোচিত ছিল, কারণ বয়সে তাঁদের মধ্যে ১০ বছরের ফারাক ছিল। ভিন্‌ধর্মী বিয়ের তাত্ত্বিক আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। কাশ্মীরের ব্যবসায়ী এবং মডেল মোহসিনের সঙ্গে উর্মিলার প্রথম সাক্ষাৎ ২০১৪ সালে হয়েছিল। তখন পোশাকশিল্পী মনীশ মলহোত্রের ভাইঝির বিয়েতে তাঁদের ডানা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লিন্টফের ছেলের ৬৫ বলে সেঞ্চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১১ এম


ফ্লিন্টফের ছেলের ৬৫ বলে সেঞ্চুরি

বাবার পথেই এগিয়ে চলছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফের ছেলে রকি ফ্লিন্টফ। এই তরুণ ব্যাটার মাত্র ১৮ বছর বয়সেই পেশাদার ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ওয়ানডে কাপে সমারসেটকে ১৭৪ রানে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ল্যাঙ্কাশায়ার।

ল্যাঙ্কাশায়ার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৪৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। দলের হয়ে কিটন জেনিংস ১২৭ বলে ১৫৬ রান করেন। এরপর রকি ফ্লিন্টফ মাত্র ৬৫ বলেই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান। ৭৬ বলে ১২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ইতিমধ্যে তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৭টি ছক্কা।

ল্যাঙ্কাশায়ারের এই ইনিংসে মোট ২০টি ছক্কা এসেছে, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দলটির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছে।

১৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে রকি জেনিংসের সঙ্গে ২১৪ রানের দুর্দান্ত জুটি তৈরি করেন। তাদের ব্যাটিং তাণ্ডবেই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে ওঠে ল্যাঙ্কাশায়ারের।

এরপর সমারসেট ২৬৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে জর্জ বাল্ডারসন ও টম অ্যাসপিনওয়াল ৪টি করে উইকেট নেন। গ্রুপ পর্বে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে কোয়ার্টার ফাইনালে ডারহামের মোকাবেলা করবে তারা।

রকির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটি প্রথম বড় কীর্তি নয়। ২০২৪ সালে মাত্র ১৬ বছর ১১৩ দিন বয়সে ওয়ানডে কাপে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে অভিষেক করেছে এবং দলটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও হয় রকি।

এবং পরের বছর ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে বাবার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লায়ন্সের হয়ে সেঞ্চুরি করে দলের সর্বকনিষ্ঠ শতকধারী হয়ে ওঠে রকি। উল্লেখ্য, সেই ম্যাচে লায়ন্সের কোচ ছিলেন তার বাবা অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির বিরোধিতায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বাদ পড়ল মিশর: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


সৌদির বিরোধিতায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বাদ পড়ল মিশর: রিপোর্ট

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের সদ্য স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিশরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছে রিয়াদ। যদিও আঙ্কারার পক্ষ থেকে কায়রোকে এই চুক্তিতে নেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তবুও সৌদি আরব সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এই আলোচনা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল সৌদি তিনটি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সৌদি রাজপরিবারের এক সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা জানান, রিয়াদ অন্তত এই মুহূর্তে মিশরকে এই চুক্তিতে যুক্ত করতে চায়নি। রিয়াদের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ। রিয়াদের বিশ্বাস, মিশর আর আগের মতো সামরিক বা কৌশলগত কোনো সুবিধা দিতে পারছে না। গত ৫ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সূত্রগুলোর মতে, রিয়াদ ও কায়রোর মধ্যে তৈরি হওয়া প্রচ্ছন্ন উত্তেজনাই মিশরকে দূরে রাখার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানের পর সিসির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়ে সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কায়রোর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না পাওয়ায় রিয়াদ চরম হতাশায় ভুগছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধে মিশরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নগণ্য ও অনির্ভরযোগ্য। একই সাথে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়েও মিশরের অবস্থান রিয়াদকে হতাশ করেছে।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতি কায়রোর অনুগত অবস্থান নিয়েও রিয়াদ চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ইউএই-র সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রিয়াদ ও আবুধাবির সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা সৌদির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। তবুও সিসি ইউএই-র সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছেন। যেখানে ইরানি হামলার জবাবে মিশর আবুধাবিতে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল এবং যুদ্ধের সময় সিসি একাধিকবার ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, সেখানে সৌদি আরবের জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কায়রোর এই ধরনের আচরণ রিয়াদের মনে মিশরের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

মিশরের এই ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সৌদি রাজপরিবারের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা বলেন, "মিশর সর্বদাই আমাদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই দেয়নি। তারা কেবল নেয় আর নেয়, প্রতিদানে কিছুই দেয় না।" অন্যদিকে আঙ্কারার অবস্থান ছিল ভিন্ন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইঙ্গিত দেন যে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান হলে কায়রো শেষ পর্যন্ত এই জোটের অংশ হতে পারে। তুর্কি সূত্রগুলো জানায়, আঙ্কারা মিশরকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে তুরস্কের এই দাবি খণ্ডন করে সৌদি সূত্রগুলো মিশরের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার ধারণাকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছে। সাবেক ওই উপদেষ্টা জানান, সিসির আনুগত্য ও সততা নিয়ে রিয়াদের গুরুতর সংশয় রয়েছে।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সিসিকে বিশ্বাস করা যায় না বলেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সামরিক সক্ষমতার বিচারেও মিশরকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে রাখছে রিয়াদ। সূত্রগুলো জানায়, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং পাকিস্তানের বিশ্বমানের অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিশাল সামরিক বাহিনী রয়েছে। অন্যদিকে মিশরের সামরিক বাহিনীর উৎপাদন ক্ষমতা মূলত বেসামরিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। সৌদির এক সূত্র প্রশ্ন করে বলেন, "একটি সামরিক বাহিনীর কাজ হওয়া উচিত নিজেদের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, খাদ্য কারখানা তৈরি ও পরিচালনা করা নয়।"

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতেও মিশরের আঞ্চলিক ভূমিকা সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। যেখানে ১৯৯১ সালের কুয়েত যুদ্ধে মিশর প্রধান সামরিক অংশীদার ছিল, সেখানে বর্তমানে কুয়েতও মিশরের সাথে সামরিক জোটের চেয়ে মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে বেশি আগ্রহী। সৌদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশরকে বাদ দেওয়ার উপরে ব্যাপক চর্চা চলছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানির নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, "আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ না নিয়ে কেবল নিজেদের সমস্যা সমাধান ও লাভবান হতে চায় এমন কারো জন্য এই জোটের দরজা খোলা নেই। যুগের পরিবর্তন ঘটেছে; এখন আর একতরফা দান বা 'আমার ভাগ্য আলাদা' বলার দিন নেই, এটি যৌথ ভাগ্যের সময়।" সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদরাসায় বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। অথচ, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ১৬ জন পরীক্ষার্থী কেউই পাস করতে পারেননি। এমন ফলাফল দেখে অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ১৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ৭ জন ছাত্র ও ৯ জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করে, তবে তাদের মধ্যে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে মাদরাসায় যাওয়ার সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ২০০ জন। কিন্তু নবম, দশম শ্রেণি ও প্রাথমিক শাখা মিলিয়ে মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে একটি শ্রেণীকক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান করতে দেখা যায়। মোট ১০টি শ্রেণিকক্ষ থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোনো কক্ষে ভাঙাচোরা টিনের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান না করানোর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের এই অবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি।

দাখিলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী সিয়ামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এই মাদরাসায় কোনো শিক্ষক পড়ালেখা করান না। শিক্ষকরা গল্প করেন এবং যার যার মতো চলে যান। আমার অর্থ সংকট রয়েছে। গত বছর আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, দুই বিষয়ে ফেল করেছিল। এবছরও ফেল করেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা গুরুত্ব দেননি। আমরা এর পরিবর্তন চাই। প্রায় ২০ বছর ধরে মাদরাসার এই অবস্থা।’

মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী তৌহিদ বলেন, ‘আমি ২০০৭ সালে এই মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। তখন প্রতিষ্ঠানটি খুব জমজমাট ছিল। বর্তমানে রেজাল্টের দিক দিয়েও খারাপ এবং ছাত্রছাত্রীও কম। প্রতি ক্লাসে একজন বা দুজন পাওয়া যায়। শিক্ষকরা বসে থাকেন এবং আড্ডা দেন। পরিচালনা শৃঙ্খলাও নেই। ১৬ জন পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের একজনও পাস করেনি, অথচ ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা তৌফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘একটি মাদরাসায় যদি ১৬ জনের মধ্যে ১৬ জনই ফেল করে, তাহলে সেটি লজ্জাজনক ব্যাপার। শিক্ষক ১৮ জন থাকা সত্ত্বেও ১৬ জন শিক্ষার্থী কীভাবে ফেল করে? পড়াশোনার ব্যবস্থা সঠিক নয়। তাঁদের এবার শিক্ষা হওয়া উচিত।’

তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়ালেখার অব্যবস্থাপনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিক্ষকরা পাঠদান করতে সমস্যায় পড়ছেন। তাঁরা জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এই ফলাফলে আমি নিজেই হতবাক। আমার বলার মতো কোনো ভাষা নেই। যারা ফেল করেছে, কী কারণে ফেল করেছে, তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি ভিতরে কী সমস্যা রয়েছে তা দেখব। সকল শিক্ষার্থীর একসঙ্গে এই ধস নামার কথা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ক্লাস কীভাবে নেব, আমার তো শ্রেণিকক্ষই ঠিক নেই। ৪০ বছরের প্রতিষ্ঠানে সরকারের কোনো ছোঁয়া নেই। দুইটা রুম দিয়ে আমার নয়টি ক্লাস চলে। সামনে বছর আমি ১০০ শতাংশ পাস করব, কথা দিলাম। এ জন্য আমি সব ধরনের চেষ্টা করছি।’

বেলাবো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা মাদরাসায় চিঠি পাঠাব, এই অবস্থা কেন হলো। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এই বিপর্যয়ের কারণ এবং কিভাবে উত্তরণ করা যাবে, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হবে। তাঁদের বক্তব্য শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পড়াশোনার পরিবেশ ভালো না থাকার বিষয়টিকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ‘গাছতলায় লেখাপড়া করলেও পাঁচ থেকে সাতজন পাস করবে। ভবন সংস্কারের জন্য আমি কথা বলব। কিন্তু শতভাগ ফেল করবে, তা মানা যায় না। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা এবং ইতিহাস বিষয়ে ফেল করেছে।’

এভাবে ১৬ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগামী বছরে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%