ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ


কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ

 

 
পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে চাই (বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ) ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট পোনা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই শত শত চাই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। এসব চাই ব্যবহার করে খাল-বিল থেকে বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা মাছও ধরা হচ্ছে। এতে করে জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উপজেলার কাউখালী বন্দরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন,
আগে আমাদের খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চাই দিয়ে ছোট মাছ পর্যন্ত ধরে ফেলায় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,
মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষার জন্য ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চাই ব্যবহারের ফলে যদি পোনা মাছ ব্যাপক হারে ধরা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।
আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
দেশীয় মৎস্য সম্পদ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক জলাশয়ে চাই বা কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক ফাঁদ পেতে যারা পোনা ও রেণু মাছ ধ্বংস করছে, তারা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা কোনোভাবেই এই আইনবহির্ভূত কাজকে প্রশ্রয় দেব না।
 মৎস্য সম্পদ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও বাজারে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে আত্মহত্যা প্রবাসীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে আত্মহত্যা প্রবাসীর

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিজের স্ত্রীর পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক কুয়েত প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর দূর সম্পর্কের ভাগনেকে বিয়ে করার পর দেশে ফিরে মাত্র ১০ দিনের মাথায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

নিহত আনোয়ার উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের কেরামত আলী বেপারী বাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে প্রবাস ছিলেন।  

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আনোয়ার। পরে দুপুরের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার প্রায় নয় বছর ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি দুম্বা পালন করতেন। প্রবাসে থাকাকালে তিনি স্ত্রী আকলিমা আক্তারের কাছে টাকা পাঠাতেন। সেই অর্থ দিয়ে স্ত্রী তার নামে জমিও কিনেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার (৩৪) স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ওই যুবককে বিয়ে করেন। কাকতালীয়ভাবে ওই যুবকের নামও আনোয়ার। প্রায় ৯ -১০ দিন আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন প্রবাসী আনোয়ার। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তিনি চেয়ে ছিলেন দুই ছেলের দিকে তাকিয়ে তাকে পুনরায় নিয়ে আসতে। তবে একপর্যায়ে আকলিমা তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার আকলিমা তার স্বামীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অভিমান ও ক্ষোভ থেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার জন্য আকলিমাকে দায়ী করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছাতে মঠবাড়িয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছাতে মঠবাড়িয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা
 
 
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে দিনব্যাপী পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
 
মঙ্গলবার (১৬ জুন) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার।
 
কর্মশালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ, মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমী, গ্রাম আদালত মঠবাড়িয়ার সমন্বয়কারী মো. বেল্লাল হোসাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, স্বল্প সময় ও স্বল্প ব্যয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
 
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালত একটি কার্যকর মাধ্যম। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত সহযোগিতা ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
 
আলোচনা শেষে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও বেগবান করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
 
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের বার্ষিক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রচারপত্র বিতরণ, মাইকিং, আলোচনা সভা, ভিডিও প্রদর্শনী এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরার রাজকীয় মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরার রাজকীয় মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি খাস জায়গা দখল করে ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসিটিভিতে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আস্তানা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ পদক্ষেপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ওই স্থাপনাটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত স্থাপনাটি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেদে পল্লীর সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিলাসবহুল আস্তানা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। দিন-রাত বহিরাগতদের আনাগোনায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং স্থানীয় যুবসমাজ নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

গত রোববার বিকেলে চাটখিল থানা পুলিশ প্রথম দফায় ওই আস্তানায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি এসির রিমোট, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাতটি মাদক মামলার আসামি এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে আটক করে পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ওই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। একই স্থানের ওপর দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারলেন সড়ক নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ববিতা আক্তার সুমাইয়াসহ এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চারলেন সড়কের উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সামাজিক অপরাধমুক্ত রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ খুললেও এশিয়ার অর্থনীতি ধুঁকবে বহুদিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


হরমুজ খুললেও এশিয়ার অর্থনীতি ধুঁকবে বহুদিন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি ফের সচল হওয়ার পথে রয়েছে। এই ঘটনা এশিয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তির ব্যাপার।

কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এই অঞ্চলটিই গত কয়েক মাসের যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক অভিঘাত বহন করে চলেছে। তবে সংকটের ধাক্কা খুব দ্রুত সামলে ওঠা সম্ভব নয়। বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা বছরের শেষ পর্যন্ত, এমনকি তার পরেও বজায় থাকতে পারে।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গত সাড়ে তিন মাসে মুদ্রার মানে ব্যাপক পতন ঘটেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের জট শিল্প উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের ওপর এশিয়ার ব্যাপক নির্ভরতাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। জলপথটি দিয়ে যাওয়া পেট্রলিয়াম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের চার ভাগেরও বেশি ভোক্তা হলো এশিয়ার বাজার।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের’ অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সব ঠিক থাকলে শুক্রবার এই চুক্তি সই হওয়ার কথা।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো।’ ‘তেল প্রবাহিত হতে দাও!’

প্রণালিটি ফের খুলে দেওয়ার চুক্তি কার্যকর হলে তাৎক্ষণিক কিছু স্বস্তি মিলবে। তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিবোঝাই শত শত ট্যাঙ্কার আবারও এশিয়ার বন্দর অভিমুখে মাসব্যাপী যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হবে। তবে শিল্প বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগবে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ বছরের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী মনে হচ্ছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস চেয়ারম্যান জশুয়া এনগু বলেন, এশিয়ার জন্য ‘সুখবর হলো, প্রণালি খুলে গেলে তেল এবং কিছু গ্যাসের সরবরাহ আবার নিশ্চিত হবে।’ তবে খারাপ খবর হলো, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘প্রতিদিন প্রণালিটি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় অনেক বেড়ে গেছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা আরো গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে।’ এনগুর আশঙ্কা যে এই বিপর্যয়ের সমাধান ‘স্বল্প মেয়াদে সম্ভব নয়।’

এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। অঞ্চল জুড়ে শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যাচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক সোমবার প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্সে লেখেন, এই চুক্তি ‘সংকট সমাধানের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল বাস্তব অর্থেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এক যৌথ বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানান, সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি ফের চালু করা এবং অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করায় তারা সন্তুষ্ট। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্ষতির মাত্রা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ পুনরুদ্ধার করার বিষয়টি জ্বালানির দাম ও অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর জন্য অপরিহার্য। অন্যান্য বহু দেশের মতো আমাদের দেশও হরমুজ বন্ধের অভিঘাতের শিকার হয়েছে।’

পশ্চিমা দেশগুলো মূলত জ্বালানি পাম্পে সংকট এবং উড়োজাহাজের জ্বালানির বাড়তি দামের মাধ্যমে সংকটের প্রভাব অনুভব করেছে। তবে এশিয়া অঞ্চল মাসের পর মাস ধরে প্রচণ্ড জ্বালানি সংকটের বাস্তব সমস্যার মুখে রয়েছে। এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ে বাধ্য হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। ফিলিপাইন ইতিমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং তারা জ্বালানি ব্যবহার কমানোর বাধ্যতামূলক নির্দেশনাও দিয়েছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ধনী অর্থনীতিগুলোও সংকটে রয়েছে। দেশ দুটি নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা ও কৌশলগত মজুদ ব্যবহার করে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই শিল্পশক্তিগুলোকে আকাশছোঁয়া তেলের দামের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। এটি তাদের মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। বাণিজ্য প্রবাহ আবার শুরু হলে এই অবস্থান থেকে কিছুটা উত্তরণ ঘটতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, বর্তমান চাপ তাৎক্ষণিক ভূরাজনৈতিক সংকটের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। জাহাজগুলোর প্রণালি অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং আবার ফিরে আসতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আবার ইরানে নতুন আগ্রাসনের আশঙ্কা অথবা বীমা সুরক্ষার অভাব জাহাজগুলোকে নিরাপদ দূরের দূরত্ব বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করতে পারে, যার ফলে সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

তেল, গ্যাস ও সেগুলোর উপজাত পণ্য সরবরাহে বিঘ্নের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাধারণত তেলের দামের সাথে সম্পর্কিত এবং তিন থেকে ছয় মাস দেরিতে কার্যকর হয়। অর্থাৎ জুনে তেলের দাম কমে গেলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চ মূল্য বছরের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

উড ম্যাকেঞ্জির এনগু বলেন, ‘দামের বৃদ্ধির দিক থেকে আমরা এখনো সামগ্রিক প্রভাবের মুখোমুখি হইনি। মার্চে যে তেলের দাম আমরা ১০০ ডলার দেখেছি, তার পূর্ণাঙ্গ প্রভাব তিন থেকে ছয় মাস পরে পুরোপুরি দেখা যাবে। ফলে আমরা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ের মধ্যেই আছি।’

জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলের জটও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতিগুলোর একটি হলো বৈশ্বিক সার সরবরাহ ব্যবস্থা। ইরান, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন—এই পাঁচটি প্রধান রপ্তানিকারক দেশ যৌথভাবে বিশ্বের ইউরিয়া মজুদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সরবরাহ করে। ইউরিয়া নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের প্রধান একটি ধরন। সার সরবরাহের বিঘ্ন ইতিমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা প্রধান রোপণ মৌসুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনূদিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%