মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
০৬:১৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং আশপাশের এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ নম্বর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই কার্যক্রমটি নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমে সহায়তা করছে এই সংস্থাটি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) খাল পুনঃখননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন মাসব্যাপী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, খালটির নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম উল্লেখ করেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাজাখালী, চাক্তাই, ফিশারি খাল, মহেশখালসহ অন্যান্য খালের মোহনায় জরুরি ভিত্তিতে গ্র্যাব ও কাটার সাকশন ড্রেজারের মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
যদি এসব খালের মুখ থেকে পলি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা যায়, তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি দ্রুত কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে এবং জলাবদ্ধতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দুর্গত মানুষের উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
১. সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।
পাশাপাশি গবাদি পশুকেও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।
৩. স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।
৪. আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া পরিবারের বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. বন্যা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৬. সব ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. কেন্দ্রীয় সংসলের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।
৮. বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
৯. বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা থাকায় ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।
১০. ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সার্বিকভাবে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সব তথ্য ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাইফুন বাভির ফলে ফিলিপাইন হামলা হতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন হারিয়েছেন প্রাণ। গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে ফিলিপাইনেও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে। এবং তাইওয়ানে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার টাইফুন বাভি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে আঘাত হানবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর এটি চীনে আছড়ে পড়তে পারে। চলতি সপ্তাহে প্রাণঘাতী ঝড়ে চীন ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের কিলুং হতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানায়, বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিতে ফিলিপাইন-এর দক্ষিণাঞ্চলে মিন্দানাও দ্বীপে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখানে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন।
তাইওয়ানের বন্দরনগরী কিলুংকে দ্বীপটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে। সেখানে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করেছেন এবং জানালায় টেপ লাগিয়েছেন। দোকানের সামনে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মেনে তারা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
সোমবার সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এর গতি কিছুটা কমেছে।
এ বিষয়ে সিডব্লিউএর আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-শিয়াং এএফপিকে জানান, 'পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' তিনি আরও জানান, 'তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকায়।'
বাভির প্রবল বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিমি। ফলে এটি ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানী তাইপে ও উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের বহু স্কুল এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
কিলুংয়ে বাসিন্দারা তাজা ফল ও সবজি কিনতে বাজারে ভিড় জমান। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা তাঁদের স্টল সুরক্ষিত করছেন। এক মন্দির কর্তৃপক্ষও ঝড়ের আগে বাইরে রাখা একটি মূর্তি ঢেকে বেঁধে রাখছে।
বাভির প্রভাবে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে দুইটি প্রাকৃতিক বাঁধ পর্যবেক্ষণে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে বেশি ঝুঁকি থাকায় সহস্রাধিক মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বাভিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ সহস্রাধিক সেনাসদস্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাপানের দূরবর্তী সাকাশিমা দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি এলাকায় টাইফুনের কারণে স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা উঁচু ঢেউ, ঝড়ো আবহাওয়া ও ভূমিধসের সতর্কতা দিয়েছেন।
জাপানের দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনে এবং তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত অতিক্রম করার পর সপ্তাহান্তে পূর্ব চীনে বাভির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের তাণ্ডবের ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটির আক্রমণে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের পূর্বদাপুনিয়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে রাস্তায় হাঁটার সময় মো. মামুন করিম নামে এক ব্যক্তিকে পাগলা কুকুরটি পায়ে কামড়ে গুরুতর জখম করে। এতে তার পায়ের কিছু অংশের মাংস ছিঁড়ে যায়। পরে তিনি দ্রুত গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে একই কুকুরের কামড়ে আহত আরও ১০-১২ জনকে চিকিৎসা নিতে দেখতে পান।
এদিকে শনিবার সকালে পৌর শহরের পাটবাজার মোড়ে দোকান খুলতে গিয়ে একজন ব্যবসায়ীও ওই কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকাল থেকে কুকুরটি পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এলাকা, বন বিভাগ, আর.কে. হাই স্কুল রোড, নয়াপাড়া, খেলার মাঠ, কলাবাগান ও নিমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে একের পর এক মানুষকে কামড়াচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গৌরীপুর পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পাগলা কুকুরটি শনাক্ত করে অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে ক্ষতস্থান সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার অনুরোধ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ