প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাইফুন বাভির ফলে ফিলিপাইন হামলা হতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন হারিয়েছেন প্রাণ। গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে ফিলিপাইনেও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে। এবং তাইওয়ানে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার টাইফুন বাভি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে আঘাত হানবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর এটি চীনে আছড়ে পড়তে পারে। চলতি সপ্তাহে প্রাণঘাতী ঝড়ে চীন ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের কিলুং হতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানায়, বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিতে ফিলিপাইন-এর দক্ষিণাঞ্চলে মিন্দানাও দ্বীপে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখানে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন।
তাইওয়ানের বন্দরনগরী কিলুংকে দ্বীপটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে। সেখানে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করেছেন এবং জানালায় টেপ লাগিয়েছেন। দোকানের সামনে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মেনে তারা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
সোমবার সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এর গতি কিছুটা কমেছে।
এ বিষয়ে সিডব্লিউএর আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-শিয়াং এএফপিকে জানান, 'পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' তিনি আরও জানান, 'তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকায়।'
বাভির প্রবল বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিমি। ফলে এটি ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানী তাইপে ও উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের বহু স্কুল এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
কিলুংয়ে বাসিন্দারা তাজা ফল ও সবজি কিনতে বাজারে ভিড় জমান। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা তাঁদের স্টল সুরক্ষিত করছেন। এক মন্দির কর্তৃপক্ষও ঝড়ের আগে বাইরে রাখা একটি মূর্তি ঢেকে বেঁধে রাখছে।
বাভির প্রভাবে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে দুইটি প্রাকৃতিক বাঁধ পর্যবেক্ষণে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে বেশি ঝুঁকি থাকায় সহস্রাধিক মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বাভিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ সহস্রাধিক সেনাসদস্যের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাপানের দূরবর্তী সাকাশিমা দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি এলাকায় টাইফুনের কারণে স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা উঁচু ঢেউ, ঝড়ো আবহাওয়া ও ভূমিধসের সতর্কতা দিয়েছেন।
জাপানের দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনে এবং তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত অতিক্রম করার পর সপ্তাহান্তে পূর্ব চীনে বাভির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন