০৫:০২ পি.এম
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কার্যক্রম চলছেই। বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এটি দেখা যায়। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলার কাজ হচ্ছে। এই বালু কৃষিজমি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবৈধভাবে বালু তোলার কাজ চলছে। সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে পাইপ বসিয়ে বালু কৃষিজমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দোকানদাররা জানিয়েছেন, এখানে সব সময়ই ড্রেজার মেশিন থাকে। প্রশাসন এসে জরিমানা করে চলে গেলে পরে আবারও বালু তোলার কাজ শুরু হয়। তারা আরও জানিয়েছেন, একই চক্র নদীর তীর দখল করে দোকান বসিয়ে নিয়মিত ভাড়া নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালু তুলে কৃষিজমিতে ফেলার জন্য গত ১০ জুন কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে পাইপ বসানো হয়। এই পাইপ কোনো দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই বসানো হয়েছে এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই পাইপ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি করছে।
এ الرغم, স্থানীয় প্রশাসন এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয়রা জানান, উত্তর ভাদার্ত্তী বাইপাসের আশপাশের কৃষিজমিতে বালু ফেলা হচ্ছে। এই জমি ভরাটের ফলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, অথচ এই কাজে কোনও দপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, শীতলক্ষ্যায় ড্রেজার দিয়ে উত্তর ভাদার্ত্তী এলাকার কৃষিশ্রেণির জমিতে প্রায় ৩০ লাখ ঘনফুট বালু ভরাট করা হবে। এই বিপুল পরিমাণ বালু ফেলা হলে পৌর শহরের পানিপ্রবাহ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
সামান্য বৃষ্টিতেই শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে অল্প বৃষ্টিতেই শহরের সড়ক-ঘাট ডুবে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়া। আশপাশের নিচু জমিও একই কারণে দ্রুতগতিতে ভরাট হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, ‘সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাইপ বসানোর পর এবং বালু ভরাট শুরুর পর বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। পৌরসভার নিজস্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় চাইলেই অনেক সময় ব্যবস্থা নিতে পারি না।’
ইউএনও জানান, বালু ব্যবসায়ীরা পৌরসভা থেকে কোনো অনুমোদন নেননি, এমনকি তাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্সও পৌরসভা থেকে দেওয়া হয়নি। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এ টি এম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কাউকে অনুমতি দিইনি। অনিয়ম হলে অবশ্যই ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন