০৭:২৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ও কূটনৈতিক আলোচনা যখন বড় ধরনের অচলাবস্থায় বা জটিলতায় পড়ছে, তখন পাকিস্তান আবারও দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে। এবারও তা ব্যতিক্রম হয়নি। দুই দেশের মধ্যে স্থলবদ্ধ হয়ে পড়া আলোচনা নতুন করে গতিশীল করার জন্য এবং একটি বড় ধরণের ‘ব্রেকথ্রু’ বা যুগান্তকারী অগ্রগতির লক্ষ্যে আকস্মিকভাবে ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় যখন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখন পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী তেহরানে পৌঁছান। সেখানে, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। মূলত সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধি দলের অনুপস্থিতি এবং মহসিন নকভির এই ঝটিকা সফর প্রমাণ করছে যে, পর্দার আড়ালের আলোচনা কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।
কূটনীতিবিদরা বলেন, মহসিন নকভি এই আলোচনার একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী বা ‘হেভিওয়েট’ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত। অতীতে দেখা গেছে যে, যখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা থমকে গেছে, তখনই নকভি তেহরানে উড়ে গেছেন এবং ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন বা সবুজ সংকেত নিয়ে এসেছেন। ফলে, প্রতিবারই এই আলোচনা সচল হয়েছে।
আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নকভি এই মধ্যস্থতার কাজ শুরু করেছেন। তার এই সফর দুইটি বিষয় স্পষ্ট করে তুলে ধরছে— প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, সেভাবে হচ্ছে না; এবং দ্বিতীয়ত, এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের সরাসরি ও স্থায়ী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পুরো বিশ্বের এখন তেহরানের বৈঠকের ফলাফল দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন