০১:৫৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র খরা ও প্রাকৃতিক খাদ্যের চরম সংকটের কারণে বন্য ভাল্লুকের লোকালয়ে হানা দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।
কলোরাডো থেকে শুরু করে নিউ মেক্সিকো, উটাহ এবং মন্টানার মতো রাজ্যগুলোর শহর ও জনপদে ক্ষুধার্ত ভাল্লুকদের অবাধ বিচরণ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় কলোরাডোর গ্র্যানবি শহরের এক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরের সাইজের দুটি ভাল্লুক শাবক দেখতে পান। শুধু তাই নয়, শহরের একটি ভ্যাপ শপ এবং ডেনভারের কৃষিপণ্যের বাজারের পাশেও ভাল্লুক ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত শীতের তীব্র খরায় বনভূমির ফলমূল, বাদাম ও ঘাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা এই প্রাণীগুলোর স্বাভাবিক খাদ্যের প্রায় নব্বই শতাংশ পূরণ করত। খাদ্যের তীব্র অনটনে পড়ে ভাল্লুকগুলো তাদের প্রখর ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে মানুষের বসতির দিকে ছুটে আসছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এই আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে, যার পরিণতিতে রেকর্ড সংখ্যক ভাল্লুকের মৃত্যু হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিপজ্জনক ভাল্লুকগুলোকে গাড়িচাপা পড়ে, গুলি খেয়ে কিংবা ইউথানাইজেশনের মাধ্যমে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। কলোরাডো রাজ্যে চলতি বছর সাত হাজারের বেশি ভাল্লুক দর্শনের রেকর্ড হয়েছে, যা ২০১৯ সালের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে নিউ মেক্সিকোতে এ বছর ১৮৭টি ভাল্লুক মারা পড়েছে, যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে নিউ মেক্সিকোতে ভাল্লুকের আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা গত পঁচিশ বছরের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রথম কোনো প্রাণঘাতী হামলা। উটাহ রাজ্যে ইতিমধ্যে ৩৯টি ভাল্লুককে হত্যা করা হয়েছে এবং মন্টানাতেও গ্রিজলি ভাল্লুকের সংখ্যা ও আক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানুষের আবাসস্থল বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ায় এবং নেভাডাসহ কয়েকটি রাজ্যে ভাল্লুকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে খরার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভাল্লুকগুলো মানুষের খাবারের ওপর পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে এবং শীতকালীন নিষ্ক্রিয় থাকার অভ্যাস হারিয়ে ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিয়ার-প্রুফ ডাস্টবিন ব্যবহারের পাশাপাশি ঘরের বাইরে পোষা প্রাণীর খাবার বা আবর্জনা ফেলে না রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ভাল্লুকেরা যখন শরীরের ওজন বাড়াতে ব্যস্ত থাকে, তখন এই মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন