০৯:২৯ পি.এম
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে শক্তিশালী করতে চীনের তৈরি কাধে রেখে নিক্ষিপ্ত বিমান ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র ‘ম্যানপ্যাডস’ ইরানের হাতে পৌঁছাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ মডেলের মধ্যে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি শর্ট-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ইরান একটি চুক্তি করেছে, যার মূল্যের পরিমাণ ছয় থেকে সাত কোটি ডলার। কয়েক মাসের টানা মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের স্থায়ী ও ভারী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার পর, সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশের নিম্ন-উচ্চতার আকাশসীমাকে শত্রুমুক্ত রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
হংকংভিত্তিক একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাকিস্তানের আকাশ বা স্থলপথ ব্যবহার করে এই অস্ত্র ইরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই অস্ত্র চালানের খবর ভিত্তিহীন বলে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হতে পারে। মার্কিন পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারণ অতীতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার ব্যাপারে ব্যক্তিগত আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গেও তাদের ভেরবা ম্যানপ্যাডস কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা তাদের স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা বলয়কে আরও মজবুত করছে।
এই চীনা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুব দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং ইনফ্রারেড প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় রাডারে এদের উপস্থিতি গোপন রাখা কঠিন। এর ফলে মার্কিন ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারে আচমকা আক্রমণ চালানো সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তি ৬ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৪ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম, যা মূলত কম উচ্চতায় উড়তে থাকা এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের জন্য বিশাল হুমকি তৈরি করেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও তল্লাশি চালাতে গিয়ে একাধিক মার্কিন বিমান ও ড্রোন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। কম উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার ও বিমান আক্রান্ত হওয়ায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত এবং রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
যদিও এই হালকা ম্যানপ্যাডস দিয়ে উচ্চ-উচ্চতার বা দূরপাল্লার যুদ্ধবিমান ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে যুদ্ধের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ, উদ্ধার অভিযান ও সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার কার্যক্রমকে এটি মারাত্মকভাবে ধীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। ইরান হয়তো উচ্চতার দিক থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর পূর্ণ আধিপত্য থামাতে পারবে না, তবে মাটির কাছাকাছি অবস্থিত আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন ও এয়ারক্রাফটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে বিমান হামলা কার্যক্রমকে একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন