১০:৪৭ পি.এম
বরিশাল জেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ভিতরে সরকারি বরাদ্দে প্রাপ্ত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘর নিয়ে উত্তরণাধিকার বিরোধের বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার একপাক্ষিক সালিশের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলের কাছে ঘরের মালিকানা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে করে মুক্তিযোদ্ধার দুই সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী, যারা বৈধ উত্তরাধিকারী, তারাও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় যে, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমজাদ আলী ফকির সরকারি উদ্যোগে একটি ঘর পেতে পেরেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অংশীদার হয়ে উঠেছেন। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসারে সরকারের সুবিধাপ্রাপ্ত সম্পদের জন্য সকল বৈধ উত্তরাধিকারীর অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
তবে অভিযোগ রয়েছে যে, গত ১৯ জুন অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বড় ছেলে শাহ আলমের পক্ষেই একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যেমন মনসুর হাওলাদার, দাবি করেছেন যে, সালিশে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এর পাশাপাশি, শাহ আলমের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন যে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপালনরত প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ গ্রহণ, একপাক্ষিক সালিশ, জমি দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধার ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফা এই প্রসঙ্গে বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা নিশ্চিত করেন যে, উত্তরাধিকারীদের সমান অংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তারপরও, সালিশের মাধ্যমে তাঁর বড় ভাইকে এককভাবে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি, তাঁর বোন এবং তাঁদের সৎমা বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায়, প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, তিনি কোনও ধরনের ঘুষ গ্রহণ করেননি। তাঁর দাবি সেই মুক্তিযোদ্ধা জীবদ্দশায় এ ঘরটি তাঁর বড় পুত্রের বংশধরের জন্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এই বক্তব্য এবং উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীর মতামতের ভিত্তিতে সালিশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দৃঢ়ভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন