প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ইমোর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কেউ সালাম প্রদান করে, তাহলে তার উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব? ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এই বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে?
সালাম হলো ইসলামের একটি অত্যন্ত সুন্দর অভিবাদন। এর মাধ্যমে একজন মুসলমান অপরজনের শান্তি, কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনা করেন। সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইসলামে সালাম প্রদান একটি সুন্নত, আর সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। যখন কেউ সালাম দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে উত্তর দেওয়া উচিত।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা তার অনুরূপ করবে।’ (সুরা নিসা: ৮৬)
মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি উত্তর দিতে হবে?
এই প্রসঙ্গে ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসারে, কেউ সরাসরি সালাম দিলে যেমন তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব, তেমনি মেসেজের মাধ্যমে সালাম দিলেও এর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াতে সালামের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম উল্লেখ করা হয়নি। তাই মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে কেউ সালাম দিলে তার জবাব দিতে হবে।
সালামের উত্তর কি লিখে দিতে হবে?
এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, লিখিতভাবে সালাম পাওয়ার পর মুখে সালামের উত্তর দিলেও জবাব আদায় হয়ে যায়। তবে সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া, পাল্টা মেসেজ পাঠানো কিংবা ফোন করে জানানো আবশ্যক নয়।
তবে মেসেজিং অ্যাপে সালাম দিলে লিখিতভাবে উত্তর দেওয়াই উত্তম। কারণ, প্রেরক সালাম পাঠানোর পর উত্তর না পেলে তিনি কষ্ট পেতে পারেন বা মনে করতে পারেন, তার সালাম উপেক্ষা করা হয়েছে।
সালামের জবাব কীভাবে দেবেন?
যদি কেউ ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখে সালাম দেয়, তাহলে উত্তরে ‘ওয়ালাইকুমুস সালাম’ বলা যায়। আর সালামের সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও বরকতের দোয়া থাকলে উত্তরে সেভাবেও বলা উত্তম।
সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ হলো, সালামের চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে জবাব দেওয়া। তাই সালামকে অবহেলা না করে যথাযথভাবে উত্তর দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরস্পরের মধ্যে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)
অতএব, মেসেঞ্জার বা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপে কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। মুখে উত্তর দিলেও তা আদায় হয়ে যায়। তবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বজায় রাখতে লিখিতভাবে সালামের উত্তর দেওয়াই উত্তম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন