ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই


সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই। তিনি শুক্রবার দিবাগত রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শরফ উদ্দিন খসরু সিলেট-৬ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-৬ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ৩৯ হাজার ৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সময় এই আসনের ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৬১০ ভোট, এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৮টি।

তিনি ১৯৯৫ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে শান্তি-সম্প্রীতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন

১৯৯৯ সালের শেষের দিকে তিনি আবারও জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান। ২০০৮ সালে যুক্তফ্রন্ট (পিডিপি) থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে তিনি এই আসনে নির্বাচন করলেও পরাজিত হন।

শরফ উদ্দিন খসরু সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বরের দক্ষিণভাগে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আসদ্দর আলী। তিনি গ্রামের স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভক্সওয়াগন উৎপাদন কমাচ্ছে, চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


ভক্সওয়াগন উৎপাদন কমাচ্ছে, চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকরা

উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন তাদের কয়েক দশকের পুরোনো ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি গাড়ির মডেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি, উৎপাদন সক্ষমতা কমানো হবে প্রায় ১০ লাখ ইউনিট। এই ঘটনার ফলে, চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।

 

ভক্সওয়াগন, যা ইউরোপের অটোমোবাইল শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, এখন একটি বড় সংকটের মোকাবিলা করছে। অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়, চীনের গাড়ি নির্মাতাদের সাথে প্রবল প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করতে, তারা এখন বড় ধরনের পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় ভক্সওয়াগন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন রূপান্তরের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। ব্যবসার জটিলতা কমানো, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করবে তারা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়ির মডেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামানো হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ইউনিট থেকে কমিয়ে ৯০ লাখ ইউনিটে আনা হবে। এছাড়া, বিভিন্ন মডেলের সরঞ্জাম ও অপশনের জটিলতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনাটি নিয়ে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা কমলে কয়েকটি কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে, চাকরি হারানোর শঙ্কায় বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করপোরেট দেউলিয়াত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করপোরেট দেউলিয়াত্ব

জার্মানিতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে করপোরেট দেউলিয়াত্বের হার। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএইচ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসে, এই তিন মাসে প্রায় ৫ হাজার কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে।

বাণিজ্য ডেস্কের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, গত ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এটিই সর্বোচ্চ দেউলিয়াত্বের ঘটনা। নির্মাণ, আবাসন, বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সেবাখাতসহ প্রায় সব বড় খাতেই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা জার্মান অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

 

টানা দুই বছর অর্থনৈতিক সংকোচনের পর চলতি বছরও দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস খুবই সীমিত। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও অটোমোবাইল শিল্পে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্র ভঙ্গ করে, তাহলে তেহরান নিজেদের রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জবাব দেবে।

শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণপরামর্শক পরিষদের স্পিকার আহমদ মুজানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা চলাকালে, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকেও এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনার সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা আপনাদের ওপর কোনো আস্থা রাখি না। আমার মতে, শুধু সেই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে, যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা কখনোই আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি বন্ধ করিনি।

যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আমরা দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবেলা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেব।’

এই বক্তব্যটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে পৌঁছেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আবার শুরু করার পথ তৈরি করা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুরুর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বসবাসে বাধ্য হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বসবাসে বাধ্য হাজারো মানুষ

প্রবল বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে গত ছয় দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। তার মধ্যেও হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

 

পাহাড়ধসের এই ঝুঁকি শুধুই প্রাকৃতিক নয়; মানুষের আচরণ এবং আস্থার সংকটের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রের বাস্তব সীমাবদ্ধতাও এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস নিরুৎসাহিত করা এবং সংস্কৃতির সংবেদনশীল মানুষবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বাস

ছৈয়দা খাতুন, ৫০ বছর বয়সী, অসুস্থ স্বামী এবং পরিবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের বাঘঘোনা এলাকার একটি পাহাড়চূড়ার বসতি তার শেষ আশ্রয়। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসে ঘর ভাঙে, কিন্তু তাদের যাওয়ার আর নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। এবারও বাসস্থানের পাশের পাহাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল; যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে সেখানকার সবকিছু। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও তাই পাহাড় ছেড়ে যেতে পারছেন না তিনি।

ছৈয়দা খাতুন বলেন, ‘পাহাড়ের ওপর বসতি করে প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাঁচ-ছয়বার ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। একবার পাহাড়ধসে আমাদের পুরো বসতি তছনছ হয়ে গিয়েছিল। পরে ফিরে এসে দেখি ঘরের সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। আরেক বছর প্রবল বর্ষণের সময় ছেলেমেয়ে আর নাতি-নাতনিদের নিরাপদে স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আমি একা ঘরে ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ধসে একটি বাঁশ এসে আমার শরীরে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতবার জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও আমরা কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। দিনমজুরির আয়েই কোনোরকমে সংসার চলে। আমার স্বামী বয়স্ক ও অসুস্থ। তিনি আর কাজ করতে পারেন না। কয়েক দিন আগে ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি পরিষ্কার করতে গিয়ে আঘাত পান। গত সাত-আট দিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী।’

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছি। কারণ যাওয়ার মতো আমাদের আর কোথাও কোনো জায়গা নেই।’

বিকল্প আশ্রয়ের অভাব

শুধু ছৈয়দা খাতুন নন; কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ, পূর্ব ও পশ্চিম লারপাড়া, ডিককুল, গুচ্ছগ্রাম, শুকনো ছড়ি, দরিয়ানগরসহ ২০টিরও বেশি পাহাড়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। অনেক এলাকায় এখনও চলছে পাহাড় কেটে নতুন বসতি নির্মাণ। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকার অসহায়ত্বই তাদের পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে জীবন বাজি রেখে বসবাসে বাধ্য করেছে।

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘঘোনা এলাকার মাহিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি। আয়-রোজগার কম, নিজের জমি বা নিরাপদ জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে পাহাড় কিনে সেখানে ঘর করে বসবাস করছি। এখন পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে থাকা যাচ্ছে না, আবার ছেড়ে যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গাও নেই। আমাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।’

ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়া এলাকার সাবেকুন্নাহার বলেন, ‘প্রশাসন যখন পাহাড় ছেড়ে যেতে বলে, তখন আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কারণ পাহাড় ছেড়ে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে জীবন চালাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ঝুঁকিমুক্তভাবে বাঁচতে চাই; কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার পথও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আশ্রয়কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা

পাহাড়ধসে প্রাণহানির অন্যতম কারণ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ঝুঁকি নয়, বরং মানুষের অনীহা, সামাজিক বাস্তবতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিগার সুলতানা সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে সামাজিক ও আচরণগত সমস্যার। ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী হন; কারণ এসব কেন্দ্রে তাদের বাস্তব চাহিদা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো অনেক সময় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়া হয় না।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রের অস্বস্তিকর পরিবেশ, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান, খাদ্য ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উদ্বেগ মানুষকে সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আরও মানবিক, কমিউনিটি-ভিত্তিক ও সংস্কৃতিসংবেদনশীল করতে হবে।’

ড. নিগার সুলতানা আরও বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ-পূর্ব ও দুর্যোগ-পরবর্তী প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করতে হবে যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ও পাহাড় কাটা কতটা বিপজ্জনক। মানুষের আস্থা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

প্রশাসনের উদ্যোগ

ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। খুব শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যানার টাঙানো, হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা, যাতে তারা সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%