১০:১৩ এম
ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রচার করছে, যা পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা থেকে রক্ষা করতে সহায়ক। পাঁচ দফা সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে প্রাণ রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ তুলে ধরছে। নির্দেশনাগুলোতে বিস্ফোরণের মুহূর্তে করণীয়, তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা, এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হঠাৎ করেই ইরানের টিভি চ্যানেলগুলোতে সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার শুরু হয়। সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের প্রথমেই বিস্ফোরণের দিকে সরাসরি তাকানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হামলার সময় শক্ত কাঠামোর ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে, এবং বিস্ফোরণের অভিঘাত অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত নিচের দিকে মুখ করে শুয়ে থাকতে হবে।
বিস্ফোরণের তরঙ্গ থেমে গেলে দ্রুত নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করার নির্দেশনা রয়েছে। এ সময় জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর বাইরে অবস্থান করা কিংবা ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করারও নির্দেশনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজয় দাবি করে আবদুল আল-সাইয়েদ বললেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার গুরুত্ব
তৃতীয় নির্দেশনায় তেজস্ক্রিয় কণা থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শরীরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ লেগে গেলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, যা কন্ডিশনারবিহীন। গোসলের সুযোগ না থাকলে মুখ, হাত এবং শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশনা রয়েছে।
এছাড়া পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় খাবার ও পানীয় গ্রহণেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র বোতলজাত পানি এবং প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে, আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি নিরাপদ মনে করা যাবে না। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আশ্রয় নেয়া ভবনে আগুন লাগার বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত অন্য নিরাপদ ভবনে সরে যেতে হবে।
পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা মোকাবিলায় এসব নির্দেশনা প্রচার করছে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা এবং তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি কমাতেই এই সতর্কবার্তা বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
আরও পড়ুন: মিশিগানে ইতিহাস গড়ার পথে আবদুল এল-সায়েদ
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকাশযান লক্ষ্য করে ইরানের সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
হরমুজের পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি। কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন নামানোর দাবিও করেছে তারা। তেহরানে ফের হামলা হলে সামরিক সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। যদি তারা আরেকবার আমাদের পরীক্ষা করে, তবে নিজেরাই আগের চেয়েও খারাপ জবাব পাবে। আর যদি তারা সততার সাথে কূটনীতিতে প্রবেশ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরাও প্রস্তুত।’
তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি যেকোন সময় তেহরানের সঙ্গে চুক্তির কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডা পেতে যাচ্ছে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর
ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো টাকা নেই এবং তাদের যা আছে তা হলো গত ১৫ বছরে যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, যা ৩০০ শতাংশেরও বেশি। এবং তারা একটি চুক্তি করতে চায়, এবং তা হতেও পারে।’
ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে। কাতার, তুরস্ক, জর্ডান ও মিসরের শীর্ষ কূটনীতিকেরা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চীনও সামরিক সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন