১১:২৬ এম
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির সংসদ (নেসেট) রবিবার এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।
এই নির্বাচনকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর জনগণের রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
আগামী শুক্রবার বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী জোট সরকার টানা চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করবে।
গত প্রায় ৫০ বছরে এটিই ইসরায়েলের প্রথম সরকার, যা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে।
দেশটির সংসদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'বর্তমান নেসেট (ইসরায়েলের সংসদ) তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
আইন অনুযায়ী আগামী সাধারণ নির্বাচন ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদের মেয়াদ কমানোর কোনো পরিকল্পনা না থাকায় নেসেট বিলুপ্ত করার জন্য আলাদা কোনো আইন পাস করার প্রয়োজন নেই।'
ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জুন মাসে ঘোষণা দেন, তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার পর থেকে এই নেতা তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই হামলার জন্য সমালোচকরা একাধিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, এসব ব্যর্থতার সুযোগে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ২৫১ জনকে জিম্মি করতে সক্ষম হয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
আইজেনকোট এর আগে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
তবে গাজা যুদ্ধে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি ২০২৪ সালের জুনে পদত্যাগ করেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় তার ছেলে নিহত হন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
শুক্রবার সংসদ অধিবেশন স্থগিত হওয়ার আগে সরকার বেশ কয়েকটি আইন পাস করতে চাইছে।
নেতানিয়াহু আশা করছেন, এই আইনগুলো তার নির্বাচনী সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে।
প্রস্তাবিত বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগ সংস্কারসংক্রান্ত আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশ না নেওয়া অতি গোঁড়া ইহুদিদের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ স্থগিত করার একটি বিল।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা মনে করেন, গাজা যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা প্রমাণ করে যে, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী হামাসকে পুরোপুরি পরাজিত করা যায়নি।
একই সময়ে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা গাজার অভিযানে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
নেতানিয়াহু বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন।
এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে নিজের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন