প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র তিন ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে কুমিল্লা নগরী বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে। রেকর্ড ১০৭ মিলিমিটার আকস্মিক বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো পানি দ্বারা তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে প্রাণক্লান্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তা-ঘাট উপচে নোংরা পানি সাধারণ মানুষের শোবার ঘর ও রান্নাঘরে ঢুকে পড়ছে। এই কারণে প্রচুর বাসিন্দা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পরীক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা এ দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চাকরিজীবীরা কর্মস্থলে যেতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। শিক্ষার্থীদের কাকভেজা অবস্থায় স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী উম্মে কুলসুম জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে বাসা থেকে এক ঘণ্টা আগে বের হলেও কলেজে প্রবেশের আগেই তার জামাকাপড় ভিজে গিয়েছে। তিনি বলেন, শহরের কোনো সড়কই শুকনো নেই, সবই পানির নিচে। কুমিল্লা মহিলা সরকারি কলেজের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয় নৌকাযোগে।
এদিকে, নিজের ছেলেকে জিলা স্কুলে পৌঁছাতে গিয়ে জলাবদ্ধতার মধ্যে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে যায়। পরে বাবা-ছেলে মিলে গাড়িটি ঠেলে নিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, তার ঘরে হাঁটুসমান পানি জমেছে। এই বর্ষা মৌসুমে এটি তৃতীয়বারের মতো ঘটে।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলির ছায়াবিতান এলাকায়। বিভিন্ন বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সাধারণ যাত্রীরা উপায় না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। দিনভর আরও ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন