০৩:২৬ এম
গবেষণা ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশি অধ্যাপক প্রফেসর ড. শফিক সিদ্দিকী, যিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকভাবে স্থান পেয়েছেন।
ড. শফিক সিদ্দিকী তার দীর্ঘ গবেষণাজীবনে ১৫০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ১০৮টি গবেষণাপত্র উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন জার্নালে, ২২টি নন-ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে এবং ২০টি নন-ইনডেক্সড প্রকাশনায় রয়েছে। তার চারটি পেটেন্ট এবং চারটি ট্রেডমার্কও রয়েছে। তিনি ৩৯টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় উপস্থাপন করেছেন।
ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহতে (ইউএমএস) দায়িত্ব পালনকালে, ড. শফিক মাস্টার্স ও স্নাতক পর্যায়ে ১২টি কোর্স পড়িয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানে ২৭ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি ও এমএসসি পর্যায়ে গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জন ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অন্যদের গবেষণা কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
গবেষণার জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩৭টি গবেষণা অনুদান পেয়েছেন। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প সরাসরি কমিউনিটি ও শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণার আন্তর্জাতিক প্রভাবের সূচক সাইটেশনেও তার উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। বর্তমানে স্কোপাসে তার এইচ-ইনডেক্স ৩৩ এবং গুগল স্কলারে ৪০।
মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ এর ২২তম আসরে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে ‘ভিভিফাই’ ও ‘ট্রিয়াল’ নামের গবেষণালব্ধ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেন ড. শফিক। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের উৎসাহিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির অংশ হিসেবে তিনি এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
মিহাসে ড. শফিক সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি তার গবেষণা ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, “তুমি নিজেকে যতটুকু সক্ষম বলে মনে করো, তার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারো। সংকল্পকে দৃঢ় করো এবং প্রচেষ্টা অবিরাম ও ধারাবাহিক রাখো। লক্ষ্যের প্রতি অটল থাকলে একদিন অবশ্যই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।”
বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে, ড. শফিক বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে ২৫ বার মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য তার ঝুলিতে রয়েছে ৭০টি পুরস্কার।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
এসব পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাবাহ রাজ্যের ‘এসই কিনাবালু ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’, কোরিয়া ইনভেনশন একাডেমির ২০২০ সালের চতুর্থ আসরের বিশেষ ও স্বর্ণ পুরস্কার, জার্মানির আইইএনএ-২০২১ পুরস্কার, ২০১৫ সালের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোক্তা প্রকল্প পুরস্কার, পিইসিপিটিএ-২০১৫ ও ২০১৯ এবং আইটিইএক্স-২০১৯-এর স্বর্ণপদক।
২০১৪ সালে তিনি প্রসপার-নেট-স্কোপাস তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালে আইএসআই ও স্কোপাসে সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে সর্বাধিক প্রকাশনাসম্পন্ন শীর্ষ পাঁচ লেখকের তালিকাতেও স্থান পান তিনি।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে স্কোপাস-সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনার জন্য ইউএমএসের সর্বোচ্চ সাইটেশন পুরস্কার অর্জন করেন ড. শফিক। এর আগে ২০১২ ও ২০২১ সালে তিনি ইউএমএসের উৎকৃষ্ট সেবা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় সেরা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিও অর্জন করেন।
গবেষণাপত্র ও পুরস্কার অর্জনেই থেমে নেই ড. শফিকের কাজ। তিনি গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে এসে সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণেও কাজ করছেন। তার গবেষণালব্ধ পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে। গবেষণা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অন্তর্ভুক্তি ড. শফিকের গবেষণাকর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। শিক্ষকতা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গবেষণালব্ধ পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ সব মিলিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের অবদানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
ড. শফিকের গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে মালয়েশিয়ার জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি১, টিভি২ ও টিভি৭-এ প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদপত্রেও তার গবেষণার ফলাফল ও উদ্ভাবন গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন