ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেঙে পড়ল রাবি শিক্ষার্থীদের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ


ভেঙে পড়ল রাবি শিক্ষার্থীদের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শুধুমাত্র শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, বরং এর সবুজ ও শ্যামল পরিবেশের জন্যও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।

ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে পুরোনো গাছগুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া এমন একটি গাছ এবার ভেঙে পড়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে অবস্থিত সেই ছায়াদানকারী কৃষ্ণচূড়া গাছটি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী: রাসিক প্রশাসক

কৃষ্ণচূড়া গাছটি ছিল কেবল একটি গাছ নয়; এটি ছিল ক্যাম্পাসের এক টুকরো স্মৃতি। রোদে ঘেমে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিয়েছেন। কেউ বই খুলে পড়েছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছেন। পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝে কিংবা ক্লাস শেষে অনেকের জন্য এটি ছিল স্বস্তির একটি স্থান।

কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে দৃশ্যটি হয়ে উঠত আরও বিশেষ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুলে গাছটি যেন পুরো ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের একটি আলাদা প্রতীক হয়ে উঠত। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। কেউ হয়তো প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কেউবা একা দাঁড়িয়ে গাছটির সৌন্দর্য স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন।

সময়ের সাথে সাথে গাছটির বয়স বেড়েছে। কাণ্ডে এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, ডালপালা হয়েছে দুর্বল। তথাপি, ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে ছিল। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুরোনো প্রজন্ম বিদায় নিয়েছে, কিন্তু কৃষ্ণচূড়াটি একই স্থানে থেকে গেছে। তাই এটি অনেকের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি।

গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই সেখানে ছুটে যান। কেউ বিস্মিত হয়ে দেখেন তার বিশাল কাণ্ড, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন শেষ দৃশ্যটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই দাখিল হবে: কুমিল্লা পুলিশ সুপার

জুবায়ের রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী গাছটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, "আমরা যারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী আছি তাদের কষ্টটা একটু বোধহয় বেশি। এইতো, কয়েকদিন আগেই আমরা এখানে প্রোগ্রাম করলাম। ডিপার্টমেন্টে যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢুকার আগে পরে চোখে পড়ে। এত এত স্মৃতি কীভাবে ভুলি?"

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "ক্যাম্পাসের একটা জীবন্ত প্রাণ ও ইতিহাসের একটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল। থমকে যাওয়া এই ডালে ডালে আজও লেগে আছে অজস্র শিক্ষার্থীর স্মৃতির মায়া।"

মুবতাসির ফুয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটা ভেঙে পড়েছে। প্রেমিকা মারা গেলে হয়ত এত বেশি দুঃখ হতো না। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এই রাস্তাটা দিয়ে আর হাঁটবো কীভাবে? কীভাবে তাকাবো এই অনুপস্থিতির দিকে?"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, "কৃষ্ণচূড়া গাছটি অত্যন্ত সুন্দর একটি গাছ ছিলো। এই গাছটির নিচে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এত ছবি তুলেছে যে এটা এতটাই জনপ্রিয় ছিলো। গাছটার গড়নও খুব সুন্দর ছিল। গাছটাকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে এটা ভেঙে পড়ে যাবে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বয়স্ক কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোর চেয়ে এ গাছটির গঠনও আলাদা ছিলো। আসলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন একটি সুন্দর গাছ হারালাম।"

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ বিতরণ

একটি গাছ পড়ে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলে, পুরোনো ছবিতে আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া সেই গাছটি হয়তো বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বিএমপি কোতোয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সাংবাদিক আসলামের ওপর হামলাকারী মাদক সম্রাট 'গাঁজা রফিক' গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ এম


বরিশাল বিএমপি কোতোয়ালী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: সাংবাদিক আসলামের ওপর হামলাকারী মাদক সম্রাট

বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত মাদক কারবারি রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’কে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৭ বোতল ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ বরিশাল নগরীর আলোচিত সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের অন্যতম সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের দাবি।
সোমবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর আলেকান্দা রিফিউজি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে রফিককে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে রাব্বি, রানা, মিঠুন মৃধা ও সিফাত নামের আরও কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৭ বোতল ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আলেকান্দা রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা রফিক দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কীর্তনখোলা নদীর পূর্বতীরের হিরননগর, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকের মাদক ব্যবসার কারণে ওইসব এলাকার তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রফিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রফিকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে হুমকির অভিযোগ
সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ নতুন করে আলোচনায় আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের সঙ্গে রফিক সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পুলিশের ওপর হামলা করে পালানোর অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অতীতে রফিককে গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তনের পর রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিককে’ মাদকসহ দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার অর্থে আলেকান্দা রিফিউজি কলোনিতে একটি বহুতল ভবন ও বিপুল পরিমাণ জমি অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রফিককে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে রফিকের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলাগুলোও আইনগত প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কৃতি  ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব : সংস্কৃতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


সংস্কৃতি  ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব : সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন একটি রেনেসাঁর সূচনা ঘটেছে। তিনি বলেছেন, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যদি একত্রে কাজ করে, তবে পর্যটন খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে।

আজ (সোমবার) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সাথে পর্যটন উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন। সভার শুরুতে, তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ২২-২৩ বছরের অন্ধকার যুগের অবসানের পর, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একত্রে কাজ করলে দেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ব্র্যান্ডিং করে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। তিনি মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে জানান যে, পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও উন্নতি করতে পারে।

নিতাই রায় বলেন, আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত স্থাপনাগুলোর প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো বাছাই করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও যৌথ কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, উভয় মন্ত্রণালয় যদি যৌথভাবে কাজ করে, তবে পর্যটন থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব, যা বর্তমানে ২ থেকে ৩ শতাংশ। তিনি পর্যটন খাতের বিকাশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘আনলকিং বাংলাদেশি’স ক্রিয়েটিভ ইকোনমি থ্রু কালচারাল টুরিজম’ শিরোনামে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ এম


অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং তৃণমূলের বাস্তবতার মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

আজ (সোমবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে নতুন সরকারি উদ্যোগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এর শুরুটা দেশের অভ্যন্তরে প্রতিরোধের মাধ্যমে হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, দেশের নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের অভিবাসন প্রত্যাশীদের বাস্তবতার সঙ্গে আরও নিবিড় সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদারে সরকার নতুনভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপটে গন্তব্য দেশগুলোর কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি, বিদেশে শ্রমবাজারের পরিধি বাড়ানো এবং নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও তিনি জোর দেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত নিয়োগ জালিয়াতির নতুন ধরন সম্পর্কে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।

অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অভিবাসনের প্রবণতা, দক্ষতার ঘাটতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অনিয়মিত অভিবাসন ও অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করতে সরকারের অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন।

তৃণমূল বাস্তবতা যাতে জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় আলোচনায়।

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা, গন্তব্য দেশের প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত অভিবাসনের নতুন সুযোগসংক্রান্ত তথ্যও জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।

কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে, দাবি নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ এম


ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে, দাবি নেতানিয়াহুর

নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তবে এই হামলার চেষ্টা কখন এবং কীভাবে হয়েছিল, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

সোমবার, ইসরায়েলের চ্যানেল ফোর্টিনে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই দাবি করেন। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেট’ নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের পরিবারের ওপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে, হামলার লক্ষ্য ছিলেন ইয়াঈর নাকি আবন। নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার পরিবার যে নিরাপত্তা পাচ্ছে, তা কোনো বিলাসিতা নয়। এই নিরাপত্তা প্রোটোকল না থাকলে হামলাকারীরা হয়তো সফল হতে পারত। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় মানুষের সংযত হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, নির্বাচনে পরাজিত হলেও তার স্ত্রী ও সন্তানেরা পাঁচ বছর শিন বেটের নিরাপত্তা পাবেন বলে একটি চুক্তি রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন নেতানিয়াহু। তার বড় ছেলে ইয়াঈর ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস করবেন। সেখানে তার নিরাপত্তা করদাতাদের টাকায় দেওয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, ছোট ছেলে আবন দেশেই অবস্থান করছেন।

নেতানিয়াহু আইজেনকোটের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানান, তিনি শিন বেট প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং যেকোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকেই যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%