০৫:৪০ পি.এম
ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টোকিও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বুধবার জাপানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের পথে এগিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে জাপান ধীরে ধীরে সরে আসছে। দেশটি সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তি সম্প্রসারণ করছে এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।
আরও পড়ুন: গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে তুরস্ক, মুসলিম-প্রধান দেশ হিসেবে নবম স্থান
মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জরুরি অবস্থা ও সংকটবোধ’ সম্পর্কে দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের নতুন নিরাপত্তা মূল্যায়নে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেছেন, ‘জাপানের এই রূপান্তরের কারণে পিয়ংইয়ংয়ের নেতৃত্ব অতিরিক্ত সামরিক বিকল্প গ্রহণ করবে।’
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত উক্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র জাপান দ্রুতই নিজেকে একটি যুদ্ধরাষ্ট্রে রূপান্তর করছে।’
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, সম্প্রতি জাপানের টমাহক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া-এসবই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সমর্থনে ‘বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতার’ প্রমাণ।
আরও পড়ুন: অভিজিৎ দীপকে মোদি সরকারকে দুর্গোৎসবের জন্য সাময়িক স্বস্তি
তিনি সতর্ক করে বলেন, জাপান আগাম আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জাপানের সামরিক সক্ষমতার এই বিকাশ যদি গুরুতর হুমকিতে পরিণত হয়, তাহলে আমরা চুপচাপ বসে থাকব না।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালে আত্মসমর্পণের আগে জাপান পুরো কোরীয় উপদ্বীপ দখল করে রেখেছিল। পরে ৩৮তম অক্ষরেখা বরাবর কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া-দুটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনের সহিংস অতীতের প্রভাব এখনো উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বিদ্যমান।
কিম ইয়ো জংয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সামরিকবাদের উত্তরসূরিরা, যাঁরা ধূর্ততা ও আগ্রাসনের উত্তরাধিকার বহন করছেন, যদি তাঁদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়, তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটবে।’
আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণের পর থেকেই জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
২০২৫ সালে জাপান তার সামরিক ব্যয় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। এই ব্যয় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়।
উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও সম্প্রতি জাপানের এই সামরিক সম্প্রসারণকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নভেম্বরে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে জাপানের সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন হতে পারে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্যারিস শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হতে পারে: ট্রাম্প
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়নি।
২০১৯ সালে নেতা কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া বৈঠক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ভেঙে গেছে। ওই সময় থেকে পিয়ংইয়ং বারবার নিজেকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন