মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৫ পি.এম
ইয়েমেনে গত জুলাই মাস থেকে নতুন সংঘাতের শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) জানিয়েছে, হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের ফলে এই মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ (Taiz) শহরটি বাস্তুচ্যুতি সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মোট বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৭৬ শতাংশই তাইজ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, এবং তাদের ৫২ শতাংশকে এই অঞ্চলে আশ্রয় নিতে হয়েছে। লাহিজে ২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী আদেনে ১৩ শতাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আশ্রয়, খাদ্য এবং বহুমুখী আর্থিক সহায়তা বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ পরিবার এখনও যথাযথ আশ্রয়ের বাইরে রয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) সতর্ক করে জানিয়েছে যে তাইজে চলমান তীব্র লড়াই ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৬ লাখ শিশু রয়েছে। পানির সংকটপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত তাইজে এই নতুন সংকট লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সউদী সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও উত্তপ্ত রাজপথের পরিস্থিতির জন্য পুনরায় অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি ইউরোপ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তাদের দেশের সীমান্ত কঠোরভাবে বন্ধ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, 'ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা মূলত অভিবাসনের ফল; অন্য কোনো কারণ বা স্কুলের শিক্ষার বিষয় নয়। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে স্পষ্ট করে বলেছি, আপনার সীমান্ত বন্ধ করুন।'
সম্প্রতি ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরবর্তীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার রূপ নেয়।
৮০ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতীতের এক কথোপকথনের কথা স্মরণ করে বলেন, 'আমি অনেক আগেই তাকে (ম্যাক্রোঁ) বলেছিলাম, ফ্রান্স একটি বড় ভুল করছে। আপনারা সারা বিশ্বের মানুষকে ঢোকার সুযোগ দিচ্ছেন। সারাবিশ্ব থেকে মানুষ সেখানে দলে দলে আসছে।'
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করে ট্রাম্প যোগ করেন, 'খুব শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইউরোপ যদি এখনই তাদের সীমান্ত বন্ধ না করে এবং বিক্ষোভকারীদের মতো অপরাধীদের বের করে না দেয়, তবে ইউরোপের অস্তিত্বই ধ্বংস হয়ে যাবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার কার্যক্রম হাইকোর্ট স্থগিত করেছে। প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি আদালত মামলাদুটি কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছে।
এই আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রদান করে। মঙ্গলবার ফুডপান্ডার পক্ষে আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী এরশাদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে সরবরাহসংক্রান্ত বিরোধের কারণে মামলার বাদী মো. শিহাব মাহমুদ বশিরকে একটি চেক প্রত্যাখ্যানের (ডিসঅনার) মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আদালত। গত ১১ অক্টোবর এই রায় প্রদান করা হয়। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের করা তিনটি চেক ডিজঅনার মামলার মধ্যে একটির রায়ে তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। অন্যান্য দুটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বনানী থানায় বশিরের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এই আদেশটি ডেলিভারি হিরো স্টোরস লিমিটেডের (প্যান্ডামার্ট) সাবেক এক সরবরাহকারীর করা মামলায় দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, প্যান্ডামার্ট ফুডপান্ডা বাংলাদেশের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
আসামিপক্ষের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। গত ১৮ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করে। মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ কর্মকর্তা আসামি হিসেবে রয়েছেন।
আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী এরশাদুল আলম জানান, পূর্বে এই পাঁচ কর্মকর্তা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিচারিক আদালতে গিয়ে নিয়মিত জামিনও পেয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ডেলিভারি হিরোর পাওনার একটি অংশ মওকুফ করতে সম্মত হওয়ার পর বশির বাকি অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনটি চেক দিয়েছিলেন। তবে ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকগুলো একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালে ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেড নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট বা এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় তিনটি পৃথক মামলা করে। বকেয়া পাওনা আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মামলাগুলো করা হয়েছিল।
বকেয়া পাওনা আদায়ে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা করার পর ২০২৫ সালে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাল্টা চারটি ফৌজদারি মামলা করেন বশির। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারিন রেজা এবং জুবায়ের বিএ সিদ্দিকীও রয়েছেন।
আইনজীবীরা জানান, মামলাগুলোতে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং পণ্য ফেরত নেওয়া বা ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) হিসাবের সমন্বয় নিয়ে বিরোধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মূলত ব্যবসায়িক লেনদেন, বকেয়া পাওনা এবং হিসাবের সমন্বয় সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এসব মামলার সূত্রপাত।
চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা দায়েরের পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মামলাগুলোকে ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে মনে করছে ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ চুক্তি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে নয়। ব্যবসায়িক বিরোধে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তটি গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত যৌথসভায় গৃহীত হয়েছে।
বাচসাসের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এরফানুল হক নাহিদ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ৮ অক্টোবর বাচসাস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যৌথসভায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা স্থানান্তরিত করা হয়।
সভায় নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কমিশনার এরফানুল হক নাহিদ বলেন, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি যথাসময়ে আমাদের দায়িত্ব স্থানান্তর করেছে। এজন্য তিনি কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, "আমরা এই কমিটির সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।"
২০২৪-২৬ মেয়াদের সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল জমজমাট এবং উপভোগ্য নির্বাচন হবে বলে প্রত্যাশা করেন। তারা যৌথভাবে বলেন, "নির্বাচন নিয়ে অনেকেই মুখিয়ে আছেন আগ্রহভরে। আমরা আশা করছি, সবার অংশগ্রহণে এবারও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন হবে।"
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাচসাস জানায়, আগামী ২০ নভেম্বর, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন।
যৌথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, অর্থ সম্পাদক রুহুল সাখাওয়াত, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন ভূঁইয়া, নির্বাহী সদস্য সাজু আহমেদ প্রমুখ।
এবার বাচসাস’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এরফানুল হক নাহিদ। কমিশনে আরও রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইমরুল শাহেদ, আমিনুল ইসলাম রাজু, হাফিজুর রহমান সুরুজ ও আবুল হোসেন মজুমদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, হাজার ডিসেম্বর চলে গেলেও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না।
তিনি মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন এ সময় বলেছেন, আওয়ামী লীগ এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশে ফিরে তাদের আর রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ৫ আগস্ট দেশবাসী আওয়ামী লীগকে চূড়ান্তভাবে বিদায় জানিয়েছে এবং তিনি দাবি করেছেন যে, আর কখনোই তাদের এদেশে স্বাগত জানানো হবে না।
তবে তিনি দাবি করেছেন যে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের নতুন প্রেম শুরু হয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে বিএনপি।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ‘হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা সনাতন ধর্মের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক সহকারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, ইসরাইল হোসেন জীবন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ