ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমপি শিমুল বিশ্বাসকে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে পাবনায় এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


এমপি শিমুল বিশ্বাসকে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে পাবনায় এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে পাবনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। একইসাথে তারা পাবনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শহরের থানা রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে আব্দুল হামিদ রোডের বাণী সিনেমা হল হয়ে শহীদ চত্বরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য প্রদান করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান, সদস্যসচিব কমল শেখ টিটু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক দীপঙ্কর সরকার জিতু সহ আরো অনেকে।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বক্তারা উল্লেখ করেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সরকার দলের বিতর্কিত এই নেতাকে তার অশালীন বক্তব্য প্রত্যাহার করা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় বক্তারা আরও জানান, পাবনা জেলায় এনসিপিকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি এবং তাদের কোনো কর্মকাণ্ড এ জেলায় হতে দেব না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাক খাতের উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চায় বিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


পোশাক খাতের উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চায় বিজিএমইএ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএমইএ এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব) এর মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে রুগ্ণ এবং বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ, যৌথ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় পক্ষের মত হলো, বিদেশি মূলধন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বৈঠকে ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান কাস্টমস এবং বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ওকাইবের প্রতিনিধিরা জানান, যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দেয়, এ বিষয়ে কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সাসটেইনেবিলিটি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর আলোচনার সময়, ওকাইবের প্রতিনিধিদল সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং খাতে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ওকাইবের পক্ষ থেকে সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য পুরনো জ্যাকর্ড মেশিন ফিরিয়ে নিয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি মেশিন সরবরাহের একটি বিশেষ ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিজিএমইএ’র নেতারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সাথে আলোচনা করে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেই চীনা অংশীদারিত্বে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ ধরনের অংশীদারিত্বের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির উপরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চমূল্য সংযোজিত ও টেকসই পোশাক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানে চীনা উদ্যোক্তারা আগ্রহী। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন ফলাফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন ফলাফল

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মহানগর ডেস্ক ২ মিনিটে পড়ুন আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। যেভাবে জানা যাবে ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে অনলাইন এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারছেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিসিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে খুব সহজেই। এদিকে টেলিটকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ফল জানতে হলে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে DPE লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। (উদাহরণ: DPE 123456)। আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিএমপির জরুরি নির্দেশনা পরীক্ষার্থী ও বৃত্তির তথ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশের মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ট্যালেন্টপুল’ বা মেধাবৃত্তি পেয়েছে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। সরকারী বিদ্যালয়ের জন্য ২৭ হাজার ৫০০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০টি কোঠা নির্ধারিত ছিল। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪১ হাজার ২৫০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তির হার বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টি কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


বৃষ্টি কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টির ফলে পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কয়েকটি উপজেলায় ইতিমধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, রোববার দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির এই দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীতে শুরু হয়েছে তুমুল বৃষ্টি। অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, দেশের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা আরও জানান, সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিশেষ করে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশেই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি পটুয়াখালীতে হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ভূমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ভূমিকা

 

ফাইল ছবিতে উপরের সারির বাঁ থেকে ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক), সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মুশতারী শফী, তারামন বিবি (বীর প্রতীক) এবং নিচের সারির বাঁ থেকে কাকন বিবি (বীর প্রতীক), সুফিয়া কামাল ও জাহানারা ইমাম।

১. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক): ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (১৯৪৬–২০২৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের অধীন মুক্তিবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাদান পরিচালনার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স এবং সহায়ক কর্মীদের তত্ত্বাবধানও করতেন। যুদ্ধকালীন অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে তিনি শত শত আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করতে সক্ষম হন।

যদিও তিনি সরাসরি কোনো যুদ্ধরত বাহিনীর নেতৃত্ব দেননি, তবুও সামরিক চিকিৎসাসেবার কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কার্যকর দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নারী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা করেছে এবং মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতার পরও তিনি চিকিৎসক হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত হয়ে ছিলেন এবং নারী ক্ষমতায়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রগণ্য নারী নেত্রী হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

২. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (১৯৩৫–২০২২) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম সংগঠিত করেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় করেছিলেন, নারীদের সংগঠিত করার কাজ করেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মী ও প্রবাসী সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভারতে অবস্থানরত শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের মনোবল অটুট রাখতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রীতে পরিণত করে। স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

৩. বেগম মুশতারী শফী: বেগম মুশতারী শফী (১৯৩৮–২০২১) মুক্তিযুদ্ধের সময় বেসামরিক পর্যায়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তিনি বেসামরিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন, জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করেন এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে তাঁর বাসভবন স্বাধীনতাকামী কর্মী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। লেখালেখি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

যদিও তিনি কোনো সামরিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেননি, তার পরেও তাঁর নেতৃত্ব বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল। স্বাধীনতার পরও তিনি একজন সম্মানিত লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বীকৃতির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন।

৪. তারামন বিবি (বীর প্রতীক): তারামন বিবি (১৯৫৭–২০১৮) গেরিলা যুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান নারী মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হন। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, শত্রুপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান (রেকি) এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। অল্প বয়সেই তিনি উত্তরাঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করতে গিয়ে অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। প্রথমদিকে তাঁর অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। তবে পরবর্তীকালে তদন্তে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

যদিও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন না, তবু যুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে প্রচলিত নারীর ভূমিকা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এইভাবে তিনি প্রমাণ করে দেন যে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে নারীরা সরাসরি ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। আজ তিনি সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের এক চিরস্মরণীয় প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।

৫. কাকন বিবি (বীর প্রতীক): কাকন বিবি (১৯৫০–২০২৪) ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রাহক। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কাকন বিবি পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর অভিযানে সহায়তা করতেন এবং দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তবে তিনি বেঁচে ফিরে আবারও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান।

অসীম সাহসিকতা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। যদিও তিনি কোনো সামরিক কমান্ডার ছিলেন না, তথাপি তাঁর অবদান প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অনিয়মিত যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর জীবন অসাধারণ প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

৬. সুফিয়া কামাল: বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১–১৯৯৯) ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এবং যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব প্রদান করেন। একজন কবি, সমাজসংস্কারক এবং নারী অধিকারকর্মী হিসেবে তাঁর অবদান অসংখ্য বাংলাদেশিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে তাঁর মূল প্রভাব ছিল অসামান্য। স্বাধীনতার পরও তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় জনবুদ্ধিজীবী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন।

৭. জাহানারা ইমাম: জাহানারা ইমাম (১৯২৯–১৯৯৪) বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর পরিবার এবং যুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহের অভিজ্ঞতা একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, যা পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন না, তবে তাঁর লেখনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অপরিসীম অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন এবং এ আন্দোলনে নেতৃত্বও দেন। ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম বড় অবদান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%