ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীমান্ত অপরাধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত বিজিবি-বিএসএফ


সীমান্ত অপরাধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত বিজিবি-বিএসএফ

ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসাথে, সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথ টহল, নজরদারি এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) এক প্রেস রিলিজে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনটি বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: শাহবাগে এনসিপির চার দফা দাবিতে গণবিক্ষোভ আজ

সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এছাড়াও মানবপাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবেলার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের বিষয় এবং সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ সম্পর্কেও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।

বৈঠকে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত এলাকায় আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর আলোচনা হয়। সীমান্তে উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা মো. ফরিদ হোসেন গ্রেফতার

সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যৌথ টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার, নজরদারি বাড়ানোর এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে দুই বাহিনী সীমান্তবর্তী অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও পেশাগত সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

১১ জুন যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে চার দিনের এই সম্মেলন শেষ হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেছেন, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কিমের বিরোধ হঠাৎ কেন তুঙ্গে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংকট নিরসনে হাইকমিশনের উদ্যোগ, কোম্পানির প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংকট নিরসনে হাইকমিশনের উদ্যোগ, কোম্পানির প্রতিশ্রুতি

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এই উদ্যোগের কারণে সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্ল্যাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

গত সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন যে, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং কোম্পানি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।

হাইকমিশনকে দেওয়া একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় অ্যারোফোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। একটি সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে, বেতন সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখা পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া, আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, চিকিৎসা ও পরিবহন সেবা বৃদ্ধি এবং বেতন থেকে আমানত কর্তনের প্রথা বাতিলের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ভবিষ্যতে প্রতিটি কর্মীকে মাসিক পে-স্লিপ বিস্তারিত তথ্যসহ দেওয়া হবে।

শ্রমিক নিয়োগের সময় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে অ্যারোফোম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ অর্থ বাংলাদেশের তৃতীয় পক্ষের রিক্রুটিং এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোম্পানির কোন সম্পৃক্ততা এই বিষয়ে নেই। তবে শ্রমিকদের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম, মানসিক হয়রানি কিংবা যেকোনো ধরনের অবমাননাকর আচরণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিকদের অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা এই বিষয়টির ওপর নিবিড় নজর রাখবে এবং প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে নৈশপ্রহরী সততার নজির স্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে নৈশপ্রহরী সততার নজির স্থাপন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আলম বাচা।

তার এই মানবিক ও সৎ উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) রাত প্রায় ১২টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে নাজিরহাট বাজারের উত্তর পাশে গরুহাটা সোসাইটির মাঠসংলগ্ন সড়কে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান নুরুল আলম। ব্যাগটি খুলে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান। এরপর তিনি টাকাগুলো নিরাপদে নাজিরহাট পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করেন এবং প্রকৃত মালিকের খোঁজ শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, টাকার মালিক নাজিরহাট বাজারের এম আর জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর। এরপর পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মীর মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে বুধবার মধ্যরাতে টাকাগুলো মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নুরুল আলম বাচা বলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম কেউ হয়তো গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হারিয়েছেন। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। পরে মালিকের সন্ধান পেয়ে সবার উপস্থিতিতে তার হাতে টাকাগুলো তুলে দিই।

টাকা ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এমন সৎ মানুষ খুবই বিরল। এই টাকা আমার গ্রাহকদের আমানত ছিল। টাকা ফেরত না পেলে ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। নুরুল আলমের সততা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

উল্লেখ্য, টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নুরুল আলম বাচার সততার ভূয়সী প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল-মনে করে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


সীমান্তের লাইট বন্ধই পুশ ইনের বড় সিগন্যাল-মনে করে বিজিবি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অঞ্চলে চলতি কিছুদিন ধরে 'পুশ ইন' বা 'পুশ ব্যাক' নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়েছে, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটেছে।

একাধিকবার ধাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা পুশ ইন করানোর একটি প্যাটার্ন খুঁজে বের করেছেন। پুশ ইন-এর আগে ভারতের সীমান্তে লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা এটি 'সিগন্যাল' হিসেবে ধরে সতর্ক অবস্থানে চলে আসেন।

বিজিবির রবাত সূত্রে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মে মাসের শেষ থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাক নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর সীমান্ত সড়ক রয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন স্থানে গেট রয়েছে। সীমান্ত সড়ক দিয়ে রাতে বড় গাড়িতে করে মানুষ নিয়ে যাওয়া হয়, লাইট বন্ধ করে, কোনো একটি গেট খুলে দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় তারা।"

প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রেই বিএসএফের এই পুশ ইন প্যাটার্ন বা ঘটনাপ্রবাহ একই রকম রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন, "প্রতিটি পুশ ইন-এর আগে ওই এলাকায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, এটি সবচেয়ে বড় সিগন্যাল।"

মে মাসের শেষদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সংলগ্ন সীমান্তের ভারত অংশে কয়েকশো মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবির। এই ঘটনার পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সব এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে বিজিবি।

ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেয় বিজিবি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসানের দাবি, সীমান্তের কাছে থাকা গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ যদি এই নজরদারি এবং টহলের কাজে বিজিবিকে সহায়তা না করতেন, তাহলে 'পুশ ইন' ঠেকানো তাদের পক্ষে সম্ভব হত না।

তিনি জানিয়েছেন, বিজিবি নিয়মিত স্থানীয় স্কুল, মসজিদ, বাজারে মাইকিং করে। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জানানো হয়, সীমান্তে এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে, পুশ ইন হতে পারে।

গত ৩ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে একজন চৌকিদারের কাছ থেকে পুশ ইন-এর তথ্য পায় বিজিবি। চৌকিদার জানান, বিজিবি কয়েকদিন আগে থেকেই তাকে সীমান্তের লাইট বন্ধ হওয়া বা রাতে সীমান্তের ওপারে গাড়ি চলাচলের শব্দ শুনলে সতর্ক থাকার জন্য বলেছে।

বিজিবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বিএসএফের কর্মকর্তারা বিজিবির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠকে একাধিকবার এই পুশ ইন-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলছেন বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন হচ্ছে স্টেডিয়ামে, বাইরে সংঘর্ষ চলছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন হচ্ছে স্টেডিয়ামে, বাইরে সংঘর্ষ চলছিল

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোর ঝলকানি, মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপস্থাপনা এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে, স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচের পূর্বে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মেক্সিকো স city's নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যে জানা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ২০০ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হলেও পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের কারণে শহরের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া একটি ফ্যান জোনেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এসব ঘটনার প্রভাব মাঠে পড়েনি; অধিকাংশ সমর্থক কোনো বড় ধরনের বিলম্ব ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনের আগে থেকেই দেশটির সরকার এবং শিক্ষক সংগঠন সিএনটিই-র একাংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৭ সালের বিতর্কিত আইএসএসএসটিই আইন বাতিল করা। এই আইন রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল।

সিএনটিই টানা দশম দিনের মতো দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছে। সংগঠনটির দাবি হলো, শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার। এই ধর্মঘটের ফলে দেশজুড়ে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক-সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ নিয়েও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা আজতেকা স্টেডিয়ামের প্রধান সড়ক অবরোধ করে এবং ‘ফিফা, চলে যাও’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকো সরকার ম্যাচের দিন রাজধানীর সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। যদিও এর আগে শিক্ষাবর্ষ ছয় সপ্তাহ আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পরে তা বাতিল করা হয়।

বিশ্বকাপের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের আড়ালে মেক্সিকোর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উদ্বোধনী আয়োজন নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%