০৮:১৪ এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দুই পুলিশ সদস্য এবং তাঁদের এক সোর্সকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে মারধর করেন। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। রাত ১০টার দিকে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁরা জানান, টিউশন শেষে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার সময় পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাঁদের গতিরোধ করেন। এ সময় তল্লাশির নামে তাঁদের পকেটে হাত দেওয়া হয়। পরিচয় জানতে চাইলে তাঁদের একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক শিক্ষার্থীর শার্টের কলার ধরেন। তল্লাশির পর কিছু না পেয়ে চলে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় দাবি করেন। তখন তারা পুলিশ পরিচয় হিসেবে ওয়াকি-টকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিচয় হিসেবে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এই কারণে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ছিনতাইকারী সন্দেহ করে। পরে ঈদগাহ থেকে পুলিশ লাইনস হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গামী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার বাসে তাঁদের তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে মারধর করেন। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস নিশ্চিত করেন, ওই তিনজনের মধ্যে দুজন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্য এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে তাঁরা কৌশলে ইউনিফর্মবিহীন টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয়। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আইডিকার্ড দেখতে চাইলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সেখানে আরো শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ না দিয়েই জোরপূর্বক বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন পুলিশ সদস্যরা।
আরও পড়ুন: অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীদের মধ্যরাতের বিক্ষোভ
রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে ঘটনাটিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যায়িত করে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমাদের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনেকে সিভিল ড্রেসে (সাদা পোশাকে) কাজ করেন। আজকে যা ঘটেছে, তা শিক্ষার্থীরা আমাকে জানাতে পারতেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। তারা কি এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন? এতে বাইরে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তল্লাশির সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন, কিন্তু তাঁরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জোর করে বাসে তুলে তাঁদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। এখানে উভয় পক্ষেরই ভুল রয়েছে। উভয় পক্ষের কথা শুনে যুক্তিসংগত জায়গায় এসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।
এ ছাড়া প্রক্টর শিক্ষার্থী ও পুলিশ উভয় পক্ষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আরো সচেতন ও পেশাদার আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: মাদক-জুয়া-যৌতুক সমাজকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে: ত্রাণমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন