০৪:৫১ পি.এম
ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, খুরশীদ আলম ঋণ খেলাপি নন।
তিনি এ বিষয়ে বলেন, তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ রয়েছে, তবে খুরশীদ আলমের নিজস্ব কোনো ঋণ নেই। জানানো হয়েছে, স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানটির ঋণটি খেলাপি হয়ে গেছে। এর পেছনে যে আলোচনা চলছে, বাস্তবে বিষয়টি এটাই।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরবর্তীতে খেলাপি হয়েছে। তবে খুরশীদ আলম নিজে ঋণের গ্রহীতা নন, তাই তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে অভিহিত করাও সঠিক হবে না।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, খুরশীদ আলমকে নিয়ে আরেকটি আলোচিত বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন। জানান, রংপুর অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সময় তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।
তিনি জানান, তদন্তে দেখা যায়, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না বলে পরে প্রতীয়মান হয়। ফলস্বরূপ, তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং পরে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অনুসারে, রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করে এবং কোনো আন্দোলন বা চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রশ্ন আসে না।
আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
তিনি বলেন, যদি কোনও পক্ষের আন্দোলনের কারণে একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য পক্ষও একইভাবে দাবি তুলবে। এইভাবে কোনো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে না।
এছাড়া, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভার অনুমতি বিষয়ে তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে অনলাইন সভার অনুমতি চাওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন