ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্যুটকেসে থাই কিশোরীর মরদেহ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলীয় নাগরিক


স্যুটকেসে থাই কিশোরীর মরদেহ, গ্রেপ্তার অস্ট্রেলীয় নাগরিক

থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় একটি স্যুটকেসের ভেতর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

থাই পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে ৪০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাতায়ায় ওই কিশোরীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাতায়া শহরটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং সেখানে একটি স্যুটকেসের ভেতর কিশোরীর মরদেহ পাওয়া গেছে, যা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সাইমন পিটার কারম্যান। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মরদেহ গোপন করা, মরদেহ সরানো বা ধ্বংসের চেষ্টা এবং যৌন উদ্দেশ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

থাই পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কারম্যান ওই কিশোরীকে নিয়ে একটি কনডোমিনিয়ামে প্রবেশ করেন। কয়েক ঘণ্টা পর, তিনি একাই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তার সঙ্গে একটি স্যুটকেস ছিল।

পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পোস্টে জানায়, পরে তিনি স্যুটকেসটি একটি মোটরসাইকেলে তুলে রেললাইনের পাশের ঘাসে ঢাকা একটি এলাকায় নিয়ে যান। তদন্তের একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে, অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার জন্য বিমানে ওঠার প্রস্তুতির সময় ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এখন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ স্টেশনের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে, পাতায়া প্রাদেশিক আদালতে নেওয়ার আগে অভিযুক্ত সাইমন পিটার কারম্যান নিহত কিশোরীর পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’

নিহত কিশোরীর বাবা, থংচাই ডনহোমলা (৪৬) বলেন, তিনি এখনো মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তার ভাষায়, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমার মেয়ের মা ছিল না। তাই যখনই তার কোনো কিছু প্রয়োজন হতো, সে নিজেই তা জোগাড় করার চেষ্টা করত। সে আমাকে সবসময় সাহায্যও করত।’

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

কিশোরীর সৎমা ওরাডি বুসারাকুম বলেন, তিনি চান অভিযুক্ত সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি পাক। তিনি জানান, ‘আমি পুলিশকে বলেছি, আমি চাই তার মৃত্যুদণ্ড হোক। একজন (সৎ)মা হিসেবে আমি আর কী বলব জানি না। আমি শুধু চাই সে তার কাজের সম্পূর্ণ পরিণতি ভোগ করুক।’

এদিকে, থাই পুলিশ এখনো জানায়নি, কারম্যানকে কবে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধীদলীয় নেতার ধন্যবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধীদলীয় নেতার ধন্যবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান শিগগিরই এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ মজলুমদের সংসদ। সুতরাং আমরা প্রত্যাশা করছি, এখানে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে।

সরকারি দলের উচিত বিরোধীদলকে সম্মান করার মানসিকতা রাখা। পাশাপাশি বিরোধীদলেরও উচিত সব সঙ্গত ক্ষেত্রে সরকারি দলকে সহযোগিতা করার মানসিকতা রাখা, বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে এই সংসদ ব্যক্তিগত তোষামোদে অভ্যস্ত ছিল। ভবিষ্যতে সংসদ এমনটা হওয়া উচিত নয়। অতীতের সংস্কৃতিকে আমাদের অস্বীকার করতে হবে। এই বাজেটের মাধ্যমে জনকল্যাণের পরিবর্তে কোথাও জনগণের ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা বিরোধীদলকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ কিভাবে ফিরিয়ে আনা হবে সে বিষয়ে বাজেটে খুব একটা দিকনির্দেশনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাচার করা অর্থ ফেরানো গেলে বাজেটের ঘাটতি থাকবে না। শুধু অর্থই নয়, পাচারকারীকেও ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং বিচার করতে হবে।

বিরোধী দলের নেতা আরও বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খুবই খারাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সময়, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরुल-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশের চরহামকুড়িয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ময়মনসিংহের গলগন্ডা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. আরবী মিয়া (৩৩) এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার খিলপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. ফারুক (১৯)।

র‍্যাব-১২ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি পিকআপের উপর তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি চলাকালীন পিকআপের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ১০ কেজি গাঁজাসহ ওই দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করেন এবং পিকআপের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তা সরবরাহ করে আসছিলেন।

এ ব্যাপারে র‍্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে মাদক ও নগদ টাকাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৪ পি.এম


গাজীপুরে মাদক ও নগদ টাকাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

গাজীপুর, ২৯ জুন, ২০২৬ : মহানগরীর টঙ্গীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আফরিনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬৬টি বোতল ফেনসিডিল, ইয়াবা ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল এবং নগদ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। এই অভিযান চলাকালীন সময়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে জিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযানটি পরিচালনা করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আফরিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তির জনৈক আমির হোসেনের ঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। আফরিনার একাধিক স্থাপনা ও গোপালপুর এলাকায় মাদকের টাকায় নির্মিত ৬তলা ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১ পুঁড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬টি মোবাইল এবং মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বাসস’কে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদক নির্মূলের পূর্ব পর্যন্ত অভিযানের এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি, মাদক সেবী ও গডফাদার আইন থেকে মুক্ত থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে চীন-রাশিয়ার কৌশলগত নীরবতা কি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


ইরান যুদ্ধে চীন-রাশিয়ার কৌশলগত নীরবতা কি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ?

ইরান যুদ্ধে চীন-রাশিয়ার কৌশলগত নীরবতা কি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ?


মধ্যপ্রাচ্য আজ কেবল একটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পরীক্ষাগার। এখানে যে সংঘাত চলছে, তার ফলাফল শুধু একটি রাষ্ট্র ইরানের বিজয় বা পরাজয় নির্ধারণ করবে না—নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক দশক বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাবে-দীর্ঘদিনের এক মেরু ব্যবস্থায় বহাল থাকবে নাকি বহুমেরু ভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার দিকে যাবে-ফলাফল নির্ধারণি যুদ্ধ।

ইরান যুদ্ধ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ইরানের বিপক্ষে কিংবা ইরান ধ্বংসের যুদ্ধ নয়, এটি সম্ভাব্য পরবর্তী সুপার পাওয়ার চীন ও রাশিয়ার নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত বাধা দানের একটি যুদ্ধ। যেখান থেকে চীনের প্রাণ ভোমরা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে চীনকে জ্বালানি শক্তিতে দুর্বল করা এবং চীনের দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে বন্ধু প্রতিম রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি চীন ও ইরানকে দুর্বল করতে পারলে রাশিয়ার বিপক্ষেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে।

কাজেই বর্তমান ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া যদি কূটনৈতিক কারণে মুখে ঘোমটা দিয়ে কুলুপ এঁটে বসে থাকে তাহলে তাদেরকে আরো দীর্ঘকাল জঙ্গলের শাসন মেনে নিতে হবে এটা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। সুতরাং তারা বসে থাকবে নাকি প্রকাশ্য অবস্থান নেবে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন থেকেই বিশাল বাজেটের অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে ইজরায়েলের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। আবার অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দাবি করে, তাদের উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মিত্রদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। এই দুই বিপরীত বয়ানের মধ্যেই বর্তমান সংকটের বাস্তবতা নিহিত। ইরান, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া কর্তৃক একমেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার ভেঙে যদি বহু মেরু বিশ্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য থাকে,, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—চীন ও রাশিয়া কি কেবল বিবৃতি দিয়েই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে? নাকি ইরানের পাশে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আরও দৃশ্যমান কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক সামরিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে?

ইরান আজ শুধু একটি রাষ্ট্র নয়; এটি এমন একটি আঞ্চলিক শক্তি, যার অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলে ইরানকে ঘিরে যে কোনো সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়ার নীরবতা বা সংযত অবস্থানকে কেউ কেউ কৌশলগত ধৈর্য হিসেবে দেখেন, আবার অন্য বিশ্লেষকেরা এটিকে ভূরাজনৈতিক দ্বিধা হিসেবে মূল্যায়ন করেন। কারণ, যদি তারা সত্যিই বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে সেই অবস্থান কেবল বক্তব্যে নয়, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন—এমন যুক্তিও রয়েছে। চীন এযাবৎকাল পর্যন্ত সব সময় তারা সরাসরি কোন সংঘাত কিংবা কোন দেশের রাজনৈতিক সরকার বদলে হস্তক্ষেপ করেনি যে কারণে এশিয়ায় তারা ইতিমধ্যে অনেক সুযোগ হারিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের বাস্তবতাও তার থেকে ভিন্ন নয় যদি ইরান যুদ্ধেও চীন এখনো তেমন মধ্যপন্থা নীতি অবলম্বন করে তাহলে ভবিষ্যৎ তাদের জ্বালানি চাবিকাঠি হয়তো হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে যদি ইরান কোন কারণে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ব্যর্থ হয়। এই প্রভাবটি রাশিয়ার ক্ষেত্রে হয়তো চীনের পরে পড়বে কিন্তু সেটিও কম নয়।

ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে বড় শক্তিগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—তারা কি ঘটনাপ্রবাহকে দূর থেকে দেখবে, নাকি নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নেবে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটও সেই ধরনের একটি মুহূর্ত। যাতে চীন ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ক্ষমতার বহু মেরুকরণ ও জ্বালানি শক্তির বিশাল এক স্বার্থ নিহিত রয়েছে, যেখানে ইরানের শক্তি ধ্বংস হওয়া মানেই পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে চীন ও রাশিয়া।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি, প্রকাশ্য সামরিক সমর্থন বা সংঘাতের বিস্তার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে ভেবে যদি তারা চুপ করে বসে থাকে তাহলে নিকট ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে পশ্চিমা সুপার পাওয়ার এর সাথে নিজেদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হতে পারে। তাই হরে আগুন লাগার আগেই যদি সে আগুন নিভিয়ে ফেলা না যায় বা আগুনের সেই শক্তিকে দমন করা না যায় তাহলে তা যে কোন সময় তাদের নিজেদের ঘর পুড়তে ধেয়ে আসবে । যে কোনো পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত কূটনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ তাতে অনেক সময় প্রয়োজনে শক্তি প্রদর্শনও করতে হতে পারে।

আজকের প্রশ্ন তাই এই যুদ্ধ শুধু ইরানের বিরুদ্ধেই নয়, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরও নয়। প্রশ্ন হলো—বিশ্ব কি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সংঘাতময় পথে এগোবে, নাকি আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক সহযোগিতা ও ভারসাম্যের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হবে?


মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কিন্তু এই মোড় থেকে কোন পথে বিশ্ব এগোবে, তা নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জয় কিংবা পরাজয়ের উপর; বরং এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া যদি শুধু কৌশলগত প্রজ্ঞা, সংযম এবং কার্যকর কূটনীতি বজায় রাখতে চায় তাহলে ইরান কোনভাবেই দুর্বল হলে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মত অনাগত শক্তিকে।

ইরানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে চীন ও রাশিয়া তাদের কূটনীতির খোলস ছেড়ে যদি বেরিয়ে না আসে আর যদি নীরব থাকে, কূটনৈতিক মঞ্চে কথা বলা ছাড়া তাদের যদি কোন ভূমিকা না থাকে তাহলে বিশ্ব থেকে একমেরু ব্যবস্থার অবসান কিংবা জঙ্গলের শাসনের অবসান ঘটানোর আর কোন সুযোগ হয়তো ভবিষ্যতে নাও আসতে পারে। সুতরাং যা করার তা এখনই করার সময়, অন্যথায় পরাশক্তি চীন ও রাশিয়াকে অদূর ভবিষ্যতে আরো চরম মূল্য দিতে হতে পারে যা তাদেরকে আরো ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন কথা আজকের দিনে বলা অমূলক নয়। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র তার পরাশক্তির যে ঐতিহাসিক চেয়ারটি দখল করেছে সেটি আরো নতুন করে ৫০ কিংবা ১০০ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত হবে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%