প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় একটি স্যুটকেসের ভেতর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
থাই পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে ৪০ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাতায়ায় ওই কিশোরীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাতায়া শহরটি ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং সেখানে একটি স্যুটকেসের ভেতর কিশোরীর মরদেহ পাওয়া গেছে, যা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সাইমন পিটার কারম্যান। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মরদেহ গোপন করা, মরদেহ সরানো বা ধ্বংসের চেষ্টা এবং যৌন উদ্দেশ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
থাই পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কারম্যান ওই কিশোরীকে নিয়ে একটি কনডোমিনিয়ামে প্রবেশ করেন। কয়েক ঘণ্টা পর, তিনি একাই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তার সঙ্গে একটি স্যুটকেস ছিল।
পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পোস্টে জানায়, পরে তিনি স্যুটকেসটি একটি মোটরসাইকেলে তুলে রেললাইনের পাশের ঘাসে ঢাকা একটি এলাকায় নিয়ে যান। তদন্তের একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে, অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার জন্য বিমানে ওঠার প্রস্তুতির সময় ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এখন হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ স্টেশনের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে, পাতায়া প্রাদেশিক আদালতে নেওয়ার আগে অভিযুক্ত সাইমন পিটার কারম্যান নিহত কিশোরীর পরিবারের উদ্দেশে একটি বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’
নিহত কিশোরীর বাবা, থংচাই ডনহোমলা (৪৬) বলেন, তিনি এখনো মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তার ভাষায়, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমার মেয়ের মা ছিল না। তাই যখনই তার কোনো কিছু প্রয়োজন হতো, সে নিজেই তা জোগাড় করার চেষ্টা করত। সে আমাকে সবসময় সাহায্যও করত।’
কিশোরীর সৎমা ওরাডি বুসারাকুম বলেন, তিনি চান অভিযুক্ত সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি পাক। তিনি জানান, ‘আমি পুলিশকে বলেছি, আমি চাই তার মৃত্যুদণ্ড হোক। একজন (সৎ)মা হিসেবে আমি আর কী বলব জানি না। আমি শুধু চাই সে তার কাজের সম্পূর্ণ পরিণতি ভোগ করুক।’
এদিকে, থাই পুলিশ এখনো জানায়নি, কারম্যানকে কবে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন