০৬:০০ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অধিকাংশ সরকারি খাল বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, উপজেলায় ৩১টি খালের নাম পাওয়া গেলেও, এর মধ্যে ১৬টি খালের কোন অস্তিত্ব একেবারে নেই। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য অনেকাংশে নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষি জমিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
স্থানীয়居民রা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খননের মাধ্যমে খালগুলোকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে যে, খাল খনন ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সবগুলো খাল সচল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরলে দেখা যায় যে, সরকারি খালগুলোর অধিকাংশই দখল হয়ে গেছে বা ভরাট করা হয়েছে। আত্ননির্মিত অসংখ্য ঘর-বাড়ি, দালান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি মসজিদ ও মাদ্রাসাও গড়ে ওঠেছে। এর ফলে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং শত শত একর কৃষি জমি পানির নিচে চলে গেছে।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
স্থানীয়রা জানান, নবীগঞ্জ থেকে কাইক্কারটেক পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল ছিল, যা শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই খালটি মাধ্যমে পাট ও অন্যান্য পণ্যবাহী বড় নৌকা এবং যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল করতো। তবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ভরাটকারণে এক সময়ের খরস্রোতা সেই খালটি ক্রমশ বিলীন হয়ে গেছে।
সরকারি তালিকায় আরও ৩১টি খালের নাম রয়েছে যার মধ্যে চর ঘারমোড়া খাল, দীঘলদি খাল, বুরুমদী খাল, ত্রিবেনী খাল, নোয়াদ্দা রুহিয়ার খাল, অক্ষনদী কুড়িপাড়া খাল, নূরপদী খাল, মোহনপুর খাল, সুচিয়ারবন্দ খাল, সাবদী খাল, মাধবপাশা খাল, কল্যান্দী খাল, লাঙ্গলবন্দ নগর খাল, বাঙ্গালবাড়ি খাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
বৃটিশ শাসন আমল থেকে এসব খালগুলি কৃষি জমিতে সেচের জন্য ব্যবহৃত হতো। খালের কারণে জমিতে পলি জমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেত এবং হাজার হাজার মণ ধান, পাট এবং অন্যান্য ফসল উৎপন্ন হত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ খালের অস্তিত্ব নেই। বিগত সময়ে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালগুলো দখল করে নিয়েছে, যার কারণে বর্ষাকালে বন্দরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খালগুলোর দখল হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি খাল দিয়ে অপসারণ হবে না, ফলে মানুষ জলাবদ্ধতায় ভোগেন। তাই, স্থানীয়রা পুরোপুরি অবৈধ দখলমুক্ত করে খালগুলো খনন ও সচল করার দাবি জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
সম্প্রতি প্রথম ধাপে তিনটি খাল উদ্ধার ও খননের জন্য অনুমোদন পেয়েছে এবং যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার জানিয়েছেন, "আমরা ৩১টি খালের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। তবে এর মধ্যে ১৫টি খাল খননযোগ্য।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রিবেনী খাল, নোয়াদ্দা খাল এবং কুঁড়িপাড়া খাল এই তিনটি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করার অনুমোদন আমরা পেয়েছি। ১২ মে থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি খাল উদ্ধারের প্রকল্প কাজ শুরু হয়েছে, বর্তমানে তিনটি খালের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারিত করা হয়েছে। শিবানী সরকার আরও বলেন, "এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড আলাদাভাবে পাঁচটি খাল উদ্ধার ও খননের জন্য তালিকা পাঠিয়েছে।"
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, "খাল উদ্ধার ও খনন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ ছিল।" তিনি বলেন যে, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সবগুলো খাল খনন করা হবে এবং বাজেট বরাদ্দের কারণে এটি করা হবে। পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রতি বছর প্রকল্পের মাধ্যমে সবগুলো খাল দখলমুক্ত ও খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন