শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের বিয়েবাড়িতে হামলার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন সিরিক কাউন্টির কুহেসতাক গ্রামে একটি আবাসিক ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় এই বিমান হামলা সংঘটিত হয়।
এই হামলায় আহত একজন ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে, যার মধ্যে রয়েছে একটি চার বছরের শিশু। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াশিংটন ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং তদন্তের কাজ করছে। তিনি বলেন, "আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি কারণ আমরা সত্য জানতে চাই। যদি আমাদের বাহিনীর তরফ থেকে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে আমরা তা থেকে শিক্ষা নিই।" তবে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং স্বাধীন মানবিক সংস্থাগুলো ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা হামলায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, তারা ঘটনার তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলের সামরিক অবকাঠামো। এই ঘটনার ফলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উল্লেখ করেছেন যে, সরকার বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ একটি দেশ গড়তে চায়। তিনি বলেন, "এখানে ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার।"
আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের শ্যামসুন্দর মন্দির প্রাঙ্গনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হুইপ আরও বলেন, "শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল এই পৃথিবীতে শান্তির জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই ছিলো তাঁর মূলমন্ত্র।"
তিনি জানান, "অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি শান্তির জন্য। আমি বিশ্বাস করি, যে অন্যায়-অবিচার, যে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ সংগ্রাম করে গেছেন, সে আদর্শকে ধারণ করে আমাদের হিন্দু সমাজ, এ দেশের মানুষ আগামী দিনে এ দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা পালন করবেন।"
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "এ দেশে ধর্মগত পার্থক্য থাকবে না, কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা এক, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশটা সবার।"
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উদয় কুমার সাহা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, এবং পূজা উদযাপন পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রসাদ কুমার তালুকদারসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে, তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে "অসমমাত্রিক" (Asymmetrical) এবং "বহুমাত্রিক" (Multi-layered) উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার জন্য তীব্র হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তেহরানের মূল নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশ এবং সামরিক কৌশলকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত করেছে। নতুন কৌশল অনুযায়ী, ইরান আগ্রাসনকারীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি পুরোপুরি বিনাশ করার লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবে, যা প্রথাগত লড়াইয়ের বাইরে যাবে।
আমেরিকান জনগণের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা প্রদান করে রেজা আরেফ বলেন, "আমেরিকাবাসীদের এখন থেকেই জ্বালানি ও পেট্রোল জমিয়ে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। মার্কিন অর্থনীতির জন্য সামনে অত্যন্ত কঠিন ও অন্ধকার দিন অপেক্ষা করছে।"
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপে ফেলাটাই ইরানের নতুন 'অসমমাত্রিক' কৌশলের একটি অংশ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও সামরিক ঘাটিগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য এই বহুমাত্রিক জবাব নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট তৈরির আশঙ্কাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা বলে।
এই আদর্শকে ধারণ করে বিএনপি দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে উন্নতি সাধন করছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর তাঁত বোর্ড ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এবং জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেছিলেন।
তার সময় অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো এসব খাত।
তিনি জানান, নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নরসিংদীর সন্তান মরহুম আবদুল মোমেন খানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, বিএনপির প্রাথমিক সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তার নেতৃত্বে নরসিংদীতেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তার লাভ করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে।
বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘হায়রে পুত, হায়রে পুত’—কফিনের পাশে বাবার আহাজারি জামশেদুল ইসলাম আলাউদ্দিনের প্রবাসের কর্মজীবন শেষ করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। মায়ের এবং বোনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নতুন বর হিসেবে সাজবেন, বরযাত্রী নিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করবেন—এমন স্বপ্ন দেখছিল তার পরিবার। ছয় বোনের একমাত্র ভাই, পরিবারের একমাত্র ছেলে এবং উপার্জনের অন্যতম ভরসা জামশেদুলকে ঘিরে বাড়িতে ছিল আনন্দের অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার সমাপ্তি হলো কফিনে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫ বছর বয়সী জামশেদুলের মরদেহ এসে পৌঁছায়।
পরে জুমার নামাজের সময় তার মরদেহ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিন বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
কফিনের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন বাবা মো. নুরুল ইসলাম। তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।
তিনি কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছিলেন। বুকচাপড়ে বিলাপ করে বলছিলেন, ‘হায়রে পুত, হায়রে পুত।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, জামশেদুল প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবা-মা ও বোনদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আদরের।
সংসারের আর্থিক দায়িত্বও অনেকটা তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
এবার দেশে ফিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তার। ছয় বোনের একমাত্র ভাইকে নতুন বর হিসেবে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু আনন্দের সেই দিন আর এলো না। তিনি দেশে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
গত ১৬ আগস্ট আবুধাবির মুসাফফা এলাকা থেকে আল আইন এলাকায় নির্মাণকাজে যান জামশেদুল। সেখানে একটি ভবনে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৯ আগস্ট বিকেলে চিকিৎসক জামশেদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। শুক্রবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তবে যে ছেলেকে জীবিত ফিরে আসার আশায় পরিবার দিন গুনছিল, তাকে ফিরতে হলো নিথর হয়ে।
জামশেদুলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে একে একে জড়ো হন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ছয় বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই আনন্দের অপেক্ষায় থাকা বাড়িটি পরিণত হয় শোকের বাড়িতে।
নিহতের বোনের স্বামী ওসমান জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে জামশেদুলের মরদেহ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ