০৫:৩১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বললেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি হল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি মন্তব্য করছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বর্তমানে নানা মহলে বিতর্ক ও বিভাজন দেখা যাচ্ছে। এটি পূর্বে থেকেই অনুমেয় ছিল।
বুধবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজিত ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথাগুলি বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের বিতর্ক, বিভাজন অথবা হতাশার সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। এগুলো আগেই অনুমান করা হয়েছিল। এসব নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে বাস্তবতা বিবেচনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সকলকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির
আরও উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশে তা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনও আকস্মিকভাবে ঘটেনি, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের ফলেই সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বছরের পর বছর মামলা, কারাবাস, গুম, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও জীবিকা হারানোর মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও অসংখ্য মানুষ আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এইসব ত্যাগ ও প্রতিরোধই ধীরে ধীরে স্বৈরশাসনকে দুর্বল করে তুলেছিল। একই সাথে হাজারো মানুষের এই আত্মত্যাগই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। যদিও পরবর্তীকালে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা সামনে এসেছে, তথাপি গণঅভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর কোনও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারিপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুধু রাজনীতিবিদদের নয়, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে গুম করে পুরো বাংলাদেশকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তবে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই গুমের রাজনীতির অবসান হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
অন্য দিকে, বিশেষ অতিথি হিসেবে মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু রাজনীতিবিদদেরকেই গুম করেননি, পুরো বাংলাদেশকেই গুম করে রেখেছিলেন। পেশাজীবী, সাংবাদিক কোনোভাবেই বাদ যায়নি। এভাবে প্রত্যেক শ্রেণির মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র দেশকে জিম্মি করে রাখার উদ্দেশ্যে। এসব কিছুর শেষ গল্পের সমাপ্তিই হলো জুলাই আন্দোলন।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ নিসতার জাহান কবির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন