শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৮ এম
ফেনীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি, চোর-ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ফেনী মডেল থানার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও তার আশপাশ থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়াকে (৩৭) আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই চক্রটি বিদেশফেরত যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে মলম লাগিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত।
এছাড়া, মহিপাল থেকে লেমুয়াগামী সিএনজি যাত্রীদের নকল সোনার বার দেখিয়ে ও চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে অলংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামাল ও অপরাধের ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ফেনীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি আবার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন। বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, হ্রদের পানির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি ১০৫ ফুট এমএসএলে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করা হবে।
এর আগে, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তখন প্রথমে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হয়। পরে পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে জলকপাটের খোলার পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ ফুট করা হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।
পানি কমে আসার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পানি আবার ১০৫ দশমিক ৫১ ফুটে পৌঁছেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং হ্রদের তীরবর্তী এলাকায় প্লাবনের ঝুঁকি এড়াতে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি শীত মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আরিফুল হক সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় এলাকায়ই সিলেটের বেশির ভাগ পাথর কোয়ারি। বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েই গত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন সিলেট সিটি করর্পোরেশনের সাবেক এই মেয়র।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) ফেসবুক ভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরিফুলহ হক চৌধুরী বলেন, এই মৌসুমেই সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো চালু হবে বলে আমার আশা।
তিনি বলেন, সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা জাফলংকে সংরক্ষিত রেখে বাকি এলাকা গুলোতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ভাবে এগোচ্ছে সরকার। চলতি মৌসুমেই এ বিষয়ে সুখবর আসতে পারে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পাথর উত্তোলন নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয়জন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তিনি জানান, আদালতের আদেশে সংরক্ষিত জাফলং এলাকাকে অক্ষত রেখে বাকি এলাকা গুলোতে হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের পক্ষে এই কমিটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং সরকার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্তই আসুক, তার পরদিন থেকেই সরকার সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
চলতি মৌসুমে পাথর উত্তোলন শুরু হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মামলার বাদীপক্ষ আদালতের সামনে তাদের বক্তব্য যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে সরকারপক্ষও নিজেদের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।
দীর্ঘ দিন থেকে সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি গুলো থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ ও প্রাণ ঝুঁকিতে পড়ায় অনেক গুলো কোয়ারি থেকে বালু-পাথর উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও আছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রমিকরা দীর্ঘ দিন ধরেই পাথর উত্তোলনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধুপুরে এআই দিয়ে নারীর পর্নোগ্রাফি তৈরি, চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১' ১০ লাখ টাকা না দিলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আদালতে জবানবন্দি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাবেক স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তৈরি করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর বাজার এলাকার একটি পোল্ট্রি খামারের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম শিকদার।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শালিকা উত্তরপাড়া গ্রামের ওই নারীর সঙ্গে একই উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে রাসেল রানার ২০২১ সালের ১৫ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২৪ সালের ১ মে ওই নারী রাসেলকে তালাক দেন। এরপর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর তিনি আজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে রাসেল রানা ওই নারীর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে এসব ছবি দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে রাসেল কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। ওই নারী ও তাঁর বর্তমান স্বামী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাসেল তৈরি করা অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করেন। আদালত মধুপুর থানাকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে মধুপুর থানায় মামলা নেওয়া হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম শিকদার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাসেল রানার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মধুপুর থানার এসআই মো. সেলিম শিকদার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মৌলভীবাজার সদর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে আসন্ন শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ‘মদনমোহন জিওর আখড়াবাড়ি’র ২০২৬ সালের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট শারদীয়া দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে পলাশ কর্মকার সভাপতি, দুলাল শীল ধলু সাধারণ সম্পাদক এবং পল্লব সিকদার কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন,
সহ-সভাপতি: গোপাল সাহা, উদাস চক্রবর্তী ও অসীম কুন্ড।
সহ-সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুন্ড, সুমন পাল, রাহুল দে ও জয়দেব শীল।
সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দেব রায়,
প্রচার সম্পাদক বিধান দে,
পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক লোকনাথ
কুন্ডু, সাজসজ্জা সম্পাদক বাপ্পি দাস।
সভা শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব সম্পন্নের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ