০৮:২২ পি.এম
‘পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন সদ্য বিলুপ্ত জেলা গণ অধিকার পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। পুলিশ পরে ফারুককে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারুক গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এই বিষয়টি জানার পর জেলা গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়। তবে তথ্য-প্রমাণের অভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ফারুকের একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে তাঁকে ইয়াকুব হাসান সাকিব নামের এক যুবকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। এ সময় তিনি জানান, ওই টাকা ভিপি নুরের নির্দেশে চাওয়া হচ্ছে। পরে নুরুল হক নুর তাঁর ফেসবুক আইডিতে ফারুককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারুকের বক্তব্যের কারণে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ফলে মানুষের মধ্যে নুরের সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের অডিও বার্তায় ফারুককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার পাসপোর্টটা জমা দিমু, তারপর ওয়ার্ক পার্মিট ভিসার জন্য পাঠাবো, যে দেশে বলবা সে দেশেই পাঠাবো। এজন্য পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না বাবা। এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ, কথাটা বুঝছো।’
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফারুককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার
এদিকে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকেও বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে গ্রেপ্তারের আগে ফারুক হোসাইন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বললে তিনি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে।
সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা সহ ৪ জন গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন