ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফোন আলাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসাইন কারাগারে


ফোন আলাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসাইন কারাগারে

‘পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন সদ্য বিলুপ্ত জেলা গণ অধিকার পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। পুলিশ পরে ফারুককে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারুক গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এই বিষয়টি জানার পর জেলা গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়। তবে তথ্য-প্রমাণের অভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ফারুকের একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে তাঁকে ইয়াকুব হাসান সাকিব নামের এক যুবকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। এ সময় তিনি জানান, ওই টাকা ভিপি নুরের নির্দেশে চাওয়া হচ্ছে। পরে নুরুল হক নুর তাঁর ফেসবুক আইডিতে ফারুককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারুকের বক্তব্যের কারণে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ফলে মানুষের মধ্যে নুরের সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের অডিও বার্তায় ফারুককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার পাসপোর্টটা জমা দিমু, তারপর ওয়ার্ক পার্মিট ভিসার জন্য পাঠাবো, যে দেশে বলবা সে দেশেই পাঠাবো। এজন্য পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না বাবা। এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ, কথাটা বুঝছো।’

অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফারুককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার

এদিকে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকেও বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে গ্রেপ্তারের আগে ফারুক হোসাইন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বললে তিনি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে।

সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা সহ ৪ জন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


গোবিন্দগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে অবৈধ মাদকসহ দুই মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উভয়কে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন - উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের শহরগছি (রাজস) এলাকার হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩৭) এবং সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩২)।

এঅভিযান সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এসময় শাখাহার এলাকা থেকে ২ পিস ইয়াবাসহ ঝর্ণা বেগমকে এবং সাপমারা এলাকা থেকে ২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আবুল কালাম আজাদকে হাতেনাতে আটক করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান এর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তারা অপরাধ স্বীকার করায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ঝর্ণা বেগমকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং আবুল কালাম আজাদকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎রাঙামাটিতে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


‎রাঙামাটিতে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

‎রাঙামাটি শহরে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে এসব জরিমানা করা হয়।

‎মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‎
‎অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-মুনতাসির মামুন মনি এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎অভিযান সূত্রে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, পণ্যের মেয়াদ ও মূল্যতালিকাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদারকি করা হয়। এ সময় অনিয়মের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
‎
‎জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এবিসি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা, বনরূপা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২৫ হাজার টাকা এবং প্যানাসিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
‎
‎অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যসেবা ও ভোক্তা অধিকার-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
‎
‎জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এবং শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার। এ সময় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল, শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী, শাহজাদপুর উপজেলা জামাতের আমির মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শাহজাদপুর থানার কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ারা সাংবাদিকবৃন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি শুধু আইনগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যাধি। আইন প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের পরও এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সম্মান ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবার থেকেই গড়ে তুলতে হবে। একজন বাবা, ভাই, সন্তান কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য যখন কোনো নারীকে হয়রানি করে বা তার প্রতি সহিংস আচরণ করে, তখন সেটি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাই অন্যের মা, বোন ও মেয়েকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। উপাচার্য মহোদয় আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীরা নারীকে দুর্বল হিসেবে নয়, বরং শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় নারীদের বাদ দিয়ে কোনো সমাজের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী নারী শিক্ষার্থী কিংবা স্কুলগামী শিশুদের পথ নিরাপদ করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে সম্মিলিতভাবে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতি চর্চা ও যুব কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হবে। সবশেষে উপাচার্য মহোদয় বলেন, নারীকে সম্মান করা এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু নারীর বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে ইভটিজিং, যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। সংস্কৃতি দিয়ে মাদক রুখবো, নারীর হাত দিয়েই দেশ গড়বো বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শৈশব থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও নারীকে সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাহজাদপুরে এসে পড়াশোনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তাদের নিজেদের সন্তান ও বোনের মতো সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে পরিবহন খাতে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমান সরকার অতীতের যেকোনো সরকারের চেয়ে অধিক জনবান্ধব উল্লেখ করে ট্রেজারার মহোদয় বলেন, ধর্ষন, যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতনসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সাথে সাথে অপরাধীদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের হয়রানি বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ৯৯৯ ও নারী-শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করার এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, পরিবার, পরিচিতজন, সহপাঠী কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারীরা হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের হয়রানির নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা সীমিত হওয়ায় শুধু পুলিশের পক্ষে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রত্যেক নাগরিকের বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম জাগ্রত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ব্যক্তিগত বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় আরও বলেন, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সিরাজগঞ্জ জেলায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হবে। পুলিশ, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা এক ও অভিন্ন অবস্থানে থাকব, একত্রে এগিয়ে যাব।

র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে ইভটিজিং, যৌন হয়রানি এবং নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভবঘুরে শিশুদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশনে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভবঘুরে শিশুদের

যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সে বয়সে ভবঘুরে হয়ে তাদের কাটাতে হচ্ছে শহর কিংবা স্টেশনের ফুটপাতে । ঘুমাতে হচ্ছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। বেঁচে থাকার তাগিদে ও ক্ষুধার জ্বালায় তারা স্টেশন এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মেও জড়িয়ে পড়ছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মচারীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব ছিন্নমূল শিশু-কিশোর ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। সম্প্রতি ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ভাসমান ছিন্নমূল শিশুদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে এসেছে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপন লালের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্বল্প টাকার বিনিময়ে এক ভাসমান শিশুকে (১২) ঝাড়ু দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্টেশনের ব্যবসায়ী মিঠু মিয়াসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপন নিজে 'সরদার' সেজে ভাসমান ও পথশিশুদের দিয়ে প্রায়ই প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দেওয়ান। অথচ এসব শিশুই আবার সুযোগ বুঝে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মালামাল, টাকা, মানিব্যাগ ও মোবাইল চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এমন শিশুদের দিয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতার কাজ করানোর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপন দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গেও জড়িত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ বা তোষামোদ করে সে নিয়মিত নানা অনিয়ম করে আসছে।

পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় অভিযুক্ত শিশুটির সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দিলে আপন ভাই আমাকে টাকা দেবে বলেছে, তাই কাজটা করে দিচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সময়মতো কাজে আসতে পারিনি।

অন্যদিকে, বিষয়টির সত্যতা জানতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউছুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সে নিজে উপস্থিত থেকে অন্য লোক দিয়ে কাজ করিয়ে থাকে। তবে গতকাল সে উপস্থিত ছিল কি না, তা আমার জানা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%