ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপেশাদার চর্চা আমাকে কষ্ট দেয়: দীঘি


অপেশাদার চর্চা আমাকে কষ্ট দেয়: দীঘি

অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি অনলাইনে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামের প্রবণতা এবং অপসাংবাদিকতা নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মূল ঘটনা আড়াল করে এ ধরনের চর্চা বাড়ছে।

সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করে দীঘি বলেন, সাংবাদিকতার প্রথম নীতিই হলো কাউকে হেয় বা ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রশ্ন না করা। কিন্তু বর্তমানে চটকদার ক্যাপশন এবং সংবেদনশীল শিরোনাম দিয়ে খবরের মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নিজের অভিনীত ১১টি সিনেমাকে সেরা মনে করেন পরেশ রাওয়াল

গণমাধ্যমের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে দীঘি বলেন, তার নানা সাংবাদিক ছিলেন এবং মরহুম মায়েরও অনেক সাংবাদিক বন্ধু ছিলেন। নিকটজনদের মধ্যে অনেকেই এই পেশায় আছেন। তাই বর্তমান এই অপেশাদার চর্চা তাকে কষ্ট দেয়।

তিনি আরও বলেন, এখন নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও দিয়ে চটকদার কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ভিউ বাড়ানোর জন্য সাক্ষাৎকারের অপ্রাসঙ্গিক অংশ কেটে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দেওয়া হচ্ছে, যা পাঠক এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত করছে।

উল্লেখ্য, দীঘি ২০০৬ সালে ‘কাবুলিওয়ালা’ সিনেমা দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় আসেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৬টি সিনেমায় কাজ করেন। এরপর পড়াশোনার জন্য বিরতি নিয়ে পরে নায়িকা হিসেবে ফিরে আসেন। গত বছরের ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘জংলি’ সিনেমা দিয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তার অভিনীত ‘বিদায়’ নামে একটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাঘবের সঙ্গে মাঝ আকাশে উপবাস ভাঙলেন পরিণীতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলাম ও প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


ইসলাম ও প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন

ধর্ম মানুষের কাছে শুধুমাত্র কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়। এটি তার বিশ্বাস, আত্মপরিচয়, নৈতিকতা এবং জীবনদর্শনের একটি গভীর ভিত্তি। মানুষের আবেগ ও আত্মমর্যাদা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকে। তাই, কারো ধর্মকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অবমাননা করা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত হানে না, বরং কখনো কখনো তা সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনশান্তিকেও বিপন্ন করে। এই কারণে, ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা করতে হলে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা, বিচারিক কর্তৃত্ব এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনকে সমন্বিতভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি শরিয়তে ধর্ম অবমাননার বিষয়টি গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ইচ্ছাকৃতভাবে গালমন্দ বা অবমাননা করার বিষয়টি ধ্রুপদি ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ফিকহের পরিভাষায় এ-সংক্রান্ত আলোচনায় ‘সাব্বুর রাসুল’ একটি পরিচিত পরিভাষা।

তবে, শরিয়তের বিধান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। নবী (সা.)-এর অবমাননা, ধর্মত্যাগ, ধর্মীয় বিরোধিতা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এক বিষয় নয়। ইসলামি ফিকহে এসব বিষয়ের শ্রেণিবিন্যাস, শর্ত এবং শাস্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্যও দেখা যায়। কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য বা আচরণের শরয়ি বিধান নির্ধারণ করতে হলে তার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং প্রাসঙ্গিক দলিল বিবেচনা করা জরুরি।

ইসলামি ফিকহে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীর শাস্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।’ (বুখারি : ৩০১৭)

এ হাদিসের ভিত্তিতে ধর্মত্যাগের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামি ফিকহের বহু আলোচনায়। তবে এর প্রয়োগের শর্ত, প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি এবং ব্যাখ্যা নিয়ে ফিকহি আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের শাস্তি কার্যকরের বিষয়টি ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত নয়; বরং বৈধ বিচারিক কর্তৃত্ব, অপরাধের প্রমাণ এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো তাঁর রাসুলের ও তোমাদের মধ্যকার শাসন কর্তৃপক্ষের।’ (সুরা আন-নিসা, ৪ : ৫৯)

তবে, ধর্মত্যাগের বিধান ও ধর্ম অবমাননার বিধানকে এক করে দেখা উচিত নয়।

শাস্তির প্রশ্নে মৌলিক বিষয় হলো বিচারিক কর্তৃত্ব। কোনো কাজ ধর্মীয়ভাবে নিন্দনীয় হওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়ন এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ব্যক্তিগত ক্রোধ বা জনতার আবেগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, হামলা, ভাঙচুর কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের বৈধতা এভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও ধর্মসংক্রান্ত অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫ ধারায় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মকে অপমান করার উদ্দেশ্যে উপাসনালয় বা পবিত্র বলে বিবেচিত বস্তু ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত বা অপবিত্র করার অপরাধের কথা বলা হয়েছে। ২৯৫এ ধারায় ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে কোনো নাগরিক গোষ্ঠীর ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অপরাধের বিধান রয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া ২৯৬ ধারায় আইনসম্মত ধর্মীয় উপাসনা বা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি, ২৯৭ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপাসনালয় বা সমাধিস্থলে অনধিকার প্রবেশ ও সংশ্লিষ্ট অবমাননাকর কাজ এবং ২৯৮ ধারায় কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি ব্যবহারের মতো অপরাধের বিধান রয়েছে। এসব ধারার প্রতিটির অপরাধের উপাদান আলাদা। ২৯৬, ২৯৭ ও ২৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্‌স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা আইন নির্ধারিত যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার অধীন। ফলে ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষমূলক অপমান এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গবেষণা কিংবা কোনো মতবাদের সমালোচনা এক বিষয় নয়।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কোনো বক্তব্য, ছবি বা ভিডিওর খণ্ডিত অংশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো মিথ্যা তথ্য কিংবা সম্পাদিত উপস্থাপনও জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। যাচাইয়ের আগেই কাউকে অভিযুক্ত করা হলে নিরপরাধ মানুষ বিপদের মুখে পড়তে পারেন। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের বিকল্প নেই।

ধর্ম মানুষের অন্তরের গভীরে প্রোথিত। ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। কিন্তু সেই সম্মান প্রতিষ্ঠার উপায়ও হতে হবে ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীল। ইসলামি শরিয়তে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তা যথাযথভাবে বুঝতে প্রামাণ্য দলিল, ফিকহি ব্যাখ্যা ও বিচারিক শর্তের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগ হতে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক বিচারের মাধ্যমে।

ধর্মের প্রতি ভালোবাসা তখনই সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষকে ন্যায়পরায়ণ, সংযমী ও দায়িত্বশীল করে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নতুন অন্যায় সৃষ্টি করা যায় না; ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে ন্যায়বিচারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যায় না। তাই ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে অবস্থান হোক প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে, শাস্তি নির্ধারিত হোক যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আর প্রতিটি প্রতিক্রিয়ায় অটুট থাকুক ন্যায়, সংযম ও মানবিক মর্যাদা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


নতুন ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাংক থেকে নতুন করে দেওয়া ঋণের অর্থ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না।

তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিষয়টি উত্থাপন করেন।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মন্তব্য করেন, ‘নতুন ঋণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? আগে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেভাবে অর্থ তছরুপ করা হয়েছিল, এখন যে তা হচ্ছে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?’

তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছিল। তবে খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক খাতে সংকটের সূচনা ঘটে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণ যদি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে আবারও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়, তাহলে অতীতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলো খারাপ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যেক সরকারই বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার নামে এসব ব্যাংকের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এ সমস্যা বাংলাদেশ ব্যাংক একা সমাধান করতে পারবে না। সরকারকেই এর সমাধান করতে হবে।’

ব্যাংক ও করপোরেট খাতে নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘করপোরেট ও ব্যাংকিং খাতে যারা রয়েছেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিকতা থাকতে হবে। যত আইনই থাকুক না কেন, নৈতিকতা ছাড়া কোনো দেশেই ভালো করা সম্ভব নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিন্নরকম সমাজসেবার গল্প: হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


ভিন্নরকম সমাজসেবার গল্প: হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য

উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে ছিল এবং রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে আত্মশুদ্ধি ও দয়ার দীক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে আসেন মাওলানা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসৈনিক শায়খুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রিয় ছাত্র ও খলিফা। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে শায়খুল ইসলাম মাদানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির সুপারিশে তিনি তৎকালীন মৌলভীবাজার সাবডিভিশন শহরের দারুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পাঠদান ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি ছাত্রদের চরিত্র গঠন এবং আত্মশুদ্ধির দিকে তিনি বিশেষ মনোযোগ দেন।

মাদরাসার জায়গির হিসেবে তিনি মনু নদীর অপর পারে বালিকান্দি গ্রামে অবস্থান করতেন। বালিকান্দিতে একটি মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর উরস অনুষ্ঠিত হতো। শায়খ বর্ণভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মানুষের ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি গ্রামের কিশোর ও যুবকদের সংগঠিত করেন এবং তাদের তাফসির মাহফিল, দ্বীনি কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত করেন। দৌড়, লাঠিখেলা সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো; তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করতেন। এইভাবে যুবকদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। তাদের নিয়ে গঠিত কমিটির নাম রাখা হয় ‘হেফাজতে ইসলাম কমিটি’। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই কমিটিই পরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে বিকশিত হয়।

বৃহত্তর সাংগঠনিক রূপ

পরে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী ও ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমও ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামে সংস্কারমূলক কাজ পরিচালনা করছেন। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত থাকায় তারা পরস্পরের কার্যক্রম সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর ঢাকার সিদ্দিকবাজার জামে মসজিদে তাদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের উদ্দেশ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংগঠনের নেতৃত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হলেও আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির বিচক্ষণ উদ্যোগে তা ঐক্যে পরিণত হয়। তিনি দ্বীনের কাজকে ব্যক্তিগত নেতৃত্বের ঊর্ধ্বে রেখে শায়খ বর্ণভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে আমির হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। সবাই এতে সম্মত হন।

এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ বিস্তারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। শায়খ বর্ণভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সিলেট ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সফর করেন। অন্যদিকে আল্লামা ফরিদপুরী ঢাকা বিভাগে এবং ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিভাগে দাওয়াত ও ইসলাহি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম বৃহত্তর জনপরিসরে বিস্তৃত হয়।

মূল দর্শন ও কর্মসূচি

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোকিত, নৈতিক ও কল্যাণমুখী জাতি এবং সমাজ গঠন করা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম কোরআন-সুন্নাহ, খুলাফায়ে রাশেদীন ও সালাফে সালেহীনের অনুসৃত আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

আঞ্জুমানের প্রধান কর্মসূচি ছয়টি—১. দাওয়াত বা মানুষকে ভালো কাজের আহ্বান, ২. সংগঠন বা মানুষকে সংঘবদ্ধ করা, ৩. তালিম বা সৎশিক্ষা, ৪. তারবিয়াত বা ভালো আচরণে অভ্যস্ত করা এবং তাজকিয়া বা ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি, ৫. খেদমতে খালক তথা মানবসেবা ও ৬. আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার বা সমাজে ভালো কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করা।

ছাত্র, যুব ও নারী কার্যক্রম

নতুন প্রজন্মকে আদর্শবান ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আঞ্জুমানের রয়েছে পৃথক অঙ্গসংগঠন। এর মধ্যে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম যুবকাফেলা ও আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম ছাত্রকাফেলা উল্লেখযোগ্য। দ্বীনদার ও আদর্শবান নারী সমাজ গঠনের জন্য রয়েছে আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে হেফাজতে ইসলাম।

অন্যান্য কার্যক্রম

দ্বীনি জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আঞ্জুমানের মুখপত্র ‘মাসিক হেফাজতে ইসলাম’সহ বিভিন্ন দ্বীনি গ্রন্থ ও প্রকাশনা প্রকাশিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে জরুরিয়াতে দ্বীন, ঈমান-আকিদা, আমল-আখলাক, আত্মশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা শায়খ বর্ণভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির পর তার জানিশীন মাওলানা খলীলুর রহমান দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আমির হিসেবে মুফতি মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী আঞ্জুমানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি দাওয়াত, তালিম, তারবিয়াত, তাজকিয়া, মানবসেবা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো বিস্তৃত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্জুমানের ঐতিহ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—মতভেদ ও বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি এবং সংকীর্ণতার পরিবর্তে বৃহত্তর দ্বীনি কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি এই আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের ঈমান, আমল ও আখলাকের উন্নয়ন এবং একটি নৈতিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ এম


হরমুজে মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকালে তিনটি তেলবাহী জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয় এবং আগুন ধরে যায়।

পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্বদিকে আরও একটি তেলবাহী জাহাজে মাইন বিস্ফোরণে আগুন লাগে। এই জাহাজটি ‘নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায়’ চলাচল করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।

তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় এবং জাহাজগুলোর পতাকাবাহী দেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানায়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে।

এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি ঘটনার খবর দিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি ছিল সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার পর আগুন ধরে ডুবে যায় একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় নৌযান। অন্যটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেলবাহী জাহাজ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান একাধিক জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে দাবি করে, নৌযান চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার এই দাবি চ্যালেঞ্জ করেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের দাবির পক্ষে বিবৃতি নয়, স্বাধীন প্রমাণ দেখান।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিশ্বে মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে তারা।

ইরানের অবস্থান, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচল অননুমোদিত।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথটি মাইন পুঁতে বিপজ্জনক করে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের। সামাজিক মাধ্যমে সেন্টকমের বিভ্রান্তিকর দাবিতে তাদের কান দেওয়া উচিত নয়।’

এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে এক অভিযানে আইআরজিসি নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ মডেলের একটি ড্রোন জব্দ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%