ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

লক্ষ্মীপুরের মাদরাসায় শিশুশিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল


লক্ষ্মীপুরের মাদরাসায় শিশুশিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদরাসায় বাবুত তাকওয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিশুশিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ভিডিওগুলোর ভাইরাল হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে শিশু শিক্ষার্থী আদনানকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। এক পর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার দৃশ্যও দেখা যায়।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুকে দেওয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় একাধিক আঘাত করা হচ্ছে। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে দেখা যায়। এছাড়া দুটি ছবিতে দেখা যায়, দুটি শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনার সময় অন্যান্য শিক্ষকরা বসে বসে দেখছিলেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে। ভয়ের কারণে শিশুরা বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলত না। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিক্ষকদের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকরা।

মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং তিনি প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, একজন শিক্ষক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন,

প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব জানিয়েছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে এবং তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিভাবকরা তার কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।

মাদরাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে।

আরও পড়ুন: চাপরতলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশায় জামাল আহমদের প্রচারণা শুরু, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে সিজেপি ও পাকিস্তানে পিটিআইয়ের আন্দোলনে ঢাকায় সংহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


ভারতে সিজেপি ও পাকিস্তানে পিটিআইয়ের আন্দোলনে ঢাকায় সংহতি

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং পাকিস্তানে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে একটি কর্মসূচি আয়োজন করেছেন কিছু রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা হাতে লেখা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

কর্মসূচিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, বর্তমানে ভারতে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।" নাঈম আহমাদের দাবি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নেহা বোরা ও ঐশী ঘোষসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদ, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা এবং সংগঠকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ মন্তব্য করেন, "দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট এবং দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাবন্দী রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে। তিনি এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।

নাঈম আহমাদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে পথে ক্ষমতা হারিয়েছেন, সেই পথে নরেন্দ্র মোদি, শাহবাজ শরিফ এবং আসিফ আলী জারদারিরাও ক্ষমতা হারাবেন।’

এ সময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নাঈম আহমাদ উল্লেখ করেন, ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জেন-জি আন্দোলনের সূচনা করেছিল। বাংলাদেশেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, "এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।" প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মসূচিতে জেডিপির ইয়াসিন আরাফাত রাজ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সালমান শরীফ, আসমাইন হাওলাদার ইফরাত প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা হাতে লেখা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সংহতি জানান।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ইমরান খান, অভিজিৎ দীপক, ধ্রুব রাঠিদের মুক্তি দাও’, ‘ভারতে সিজেপি ও পাকিস্তানে পিটিআইয়ের চলমান আন্দোলনে সংহতি’, ‘Solidarity with the ongoing movements of CJP in India and PTI in Pakistan from Bangladesh’ এবং ‘Free Imran Khan, Abhijit Deepak, and Dhruv Rathee!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী আটক, ডিএন নগর থানায় নেয়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী আটক, ডিএন নগর থানায় নেয়া হয়েছে

মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। তার মেয়ে কস্তুরী গান্ধী জানিয়েছেন, তুষার গান্ধীকে আটক করে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমের ডিএন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটক হওয়ার পর তুষার গান্ধী যে বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন, সেটিও তিনি শেয়ার করেছেন। বার্তাটিতে লেখা ছিল, ‘আমার ওষুধ নিয়ে এসো।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কস্তুরী গান্ধী লিখেছেন, গাড়িচালকের কথা শুনুন। তিনি দেখেছেন কীভাবে ভারতের জনকদের এক ৬৬ বছর বয়সি নিরস্ত্র উত্তরসূরিকে তুলে নিয়ে গেছে রাষ্ট্র। এতে তুষার গান্ধীকে আটকের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা এক গাড়িচালকের সঙ্গে তার কথোপকথনও শেয়ার করেছেন তিনি।

কস্তুরী গান্ধীর সঙ্গে কথোপকথনে ওই গাড়িচালককে বলতে শোনা যায়, আমরা গাড়িতে যাওয়ার সময় পুলিশ হঠাৎ করেই চলে আসে... তারা তাকে ধরে নিয়ে যায়। হয়তো কেউ অটোতে করে আমাদের অনুসরণ করছিল... আমরা লিংক রোডের কাছে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পেয়েছিলাম।

তিনি আরও যোগ করেন, তারা (পুলিশ) কিছুই বলেনি। শুধু তাকে গাড়ি থেকে ডেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বান্দ্রা এলাকা থেকে তুষার গান্ধীকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয়েছে। তার এক সহযোগী ও সংগঠনটির সহসভাপতিকেও আন্ধেরি এলাকা থেকে আটক করে এমআইডিসি থানায় নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, শুধু আটক করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক্সে একটি পোস্টের সঙ্গে কর্মসূচির পোস্টার প্রকাশ করে তুষার গান্ধী মুম্বাইয়ের বাসিন্দাদের আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। তাই এ কর্মসূচির অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে অধিকার-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা: মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী,রাজশাহী

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


রাজশাহীতে অধিকার-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা: মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
 
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর আমানা ফুড ভিলের কনফারেন্স রুমে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিকার-এর রাজশাহী সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মঈন উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মানবাধিকার রক্ষা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল না করে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, কোনো আইন যেন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মানবাধিকার সুরক্ষার নামে কিংবা নিরাপত্তার যুক্তিতে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক ও কবি সোহেল মাহবুব, রাজ টাইমস এর সম্পাদক শাহ সুফি মুহিব্বুল আরেফিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের বার্তা সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী তৌফিক ইমাম পান্না, বাসসের রাজশাহী প্রতিনিধি ওমর ফারুক, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, মানবাধিকার কর্মী সানজিদা ইসলাম,  বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী নগর প্রতিনিধি আশিকুর রহমান এবং আইনজীবী নিজাম উদ্দিন, মানবাধিকার কর্মী আরিফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী এম শামিম। 
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক হাবিবউল্লাহ মোহাম্মদ কাওছারী, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন, মানবাধিকার কর্মী এম শামিম, মানবাধিকার কর্মী কাজি নুরুল আলম, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী জুলইকরাম ফেরদৌস ইবতিদা এবং রিপোর্টার্স অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অর্গানাইজেশনের (রোমো) আহ্বায়ক ও মানবাধিকারকর্মী হুজাইফাসহ রাজশাহী জেলার অধিকার’র কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পূর্তিতে সংগঠনটি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের পদোন্নতি ও পদায়নে গোয়েন্দা রিপোর্ট আমলে নিচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


পুলিশের পদোন্নতি ও পদায়নে গোয়েন্দা রিপোর্ট আমলে নিচ্ছে না

পুলিশের পদোন্নতি ও পদায়নে গোয়েন্দা রিপোর্টকে আমলে না নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক সুবিধাবাদী পুলিশ কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এসপি-ওসি পদে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টকে আমলে না নেওয়ার অভিযোগটি দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রমে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আলোচিত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি একজন রেঞ্জ ডিআইজি পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন। তিনি ওই রেঞ্জ থেকে বদলি হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে ৩শ’র অধিক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল বদলি করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়টি তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন (যা তাদের সততা, নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করে) মূল্যায়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত লবিং এবং তদবির পদোন্নতি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্টকে উপেক্ষা করে যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ‘চেইন অব কমান্ড’ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়। বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান। পদোন্নতি ও বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দীর্ঘদিনের ট্র্যাক রেকর্ড এবং দাপ্তরিক নীতি মেনে সম্পন্ন করা হয়। নিয়মবহির্ভূত কোনো বিষয়কে প্রশ্রয় না দিলে চেইন অব কমান্ড ফিরে আসবে পুলিশে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, মেধা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা গেলে পুলিশের কার্যক্রমের গতি বাড়বে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা বাড়বে, আস্থা ফিরবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও দ্রুত হবে। তাদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও মেধাভিত্তিক পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে। সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষের দিকে পুলিশ চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল মুত্তাকিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএমপির ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ এবং লালবাগ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে তিনি ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও কাজ করেছেন একাধিক স্থানে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে বদলি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদারীপুরের শিবচর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে চাকরি করেছেন আমির হোসেন সেরনিয়াবাত। ২৪ মার্চ তিনি একই থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে যোগদানের ৪ দিনের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়। আব্দুল মজিদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তাগাছা ও নান্দাইল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময়ও তিনি ওসি ছিলেন।

৩০ এপ্রিল তাকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হলে এক দিনের মাথায় তাকে পরিবর্তন করে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। নেত্রকোনা জেলায় পূর্বধলা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন, দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সেই সাইফুল ইসলামকেই এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, "ওই সময় নিয়ম অনুযায়ী যা করার আমি তাই করেছি। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।"

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি মো. মাহাবুব আলম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১১টি অভিযোগ দিয়ে ওসি মো. মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে না। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফতুল্লা থানার ওসি মো. মাহাবুব আলম ইনকিলাবকে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।"

আমি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক বছর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ছাত্রলীগ নেতা এএসপি সায়েম নোমান ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ম্যানেজ করে ডিএমপিতে রয়েছেন তিনি। মোবাশশিরা হাবীব খান ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আশুলিয়া থানার অভ্যন্তরস্থ লেগুনার মধ্যে নিরীহ ৫ জন ব্যক্তির লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ও ধৃত আসামি ঢাকা জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর (ডিবি) আরাফতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ফোনে ছিলেন এই মোবাশশিরা হাবীব খান। তৎপরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সিআইডিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাইবার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে শিক্ষা ছুটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় অধ্যয়নরত।

শাহনেওয়াজ রাজু ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ২০১৪-১৫ সালে বর্বর খুনি জিয়াউল আহসানের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে সিনিয়র এডি এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দীর্ঘদিন এলআইসি শাখায় সহকারী পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ হিসেবে কর্মরত থেকে বিপিএম এবং পিপিএম পদক পান। বর্তমানে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে সিপিসি (সাইবার অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল) হিসেবে কর্মরত আছেন। জিয়াউল আহসানের এনটিএমসি আড়িপাতার কাজে যে টুল ব্যবহার করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী ব্যাকপ্যাক অ্যানালাইজার কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন।

মো. মনিরুজ্জামান ফকির ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলনের সময় মাদারীপুর জেলায় কর্মরত থাকাকালে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিবিআই, ঢাকায় পদায়ন পান এবং ২০২৬ সালের ১ আগস্ট হতে ৪ (চার) বছরের প্রেষণে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পড়তে গিয়েছেন। মো. রফিকুল ইসলাম ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন চলাকালে এডিসি (মতিঝিল) থাকাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। বর্তমানে ডিবি (মতিঝিল) বিভাগে তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। বর্তমানে মিশনে গমনের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। নাদিয়া জুঁই ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে ১১ এপিবিএন, উত্তরা, ঢাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত। এইচটি ইমাম কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত হাবিব ও আসাদুজ্জামান মিয়ার অতীব ঘনিষ্ঠ এই নারী কর্মকর্তা বিদেশে মিশনে গমনের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ রয়েছেন। মো. আশিক হাসান ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের স্টাফ অফিসার ও এডিসি (অ্যাডমিন) এবং পরবর্তীতে হাবিবের এডিসি (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তেজগাঁও (ক্রাইম) বিভাগে বিপ্লব কুমার সরকার ডিসি থাকাকালে তার এডিসি (তেজগাঁও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে অ্যাডিশনাল এসপি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে শিক্ষা ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রমকে পুরোপুরি চালু করার কার্যক্রমের চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর পদোন্নতি ও পদায়নে বেশি ব্যস্ত। বর্তমানে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেক পেশাদার কর্মকর্তা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এর মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাও রয়েছেন। পুলিশের বদলি-পদোন্নতির তালিকায় কেবল ‘বঞ্চিতরাই’ আসছেন না; ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং নানা তদবিরেও নাম ঢুকছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির আড়ালে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনীতে রূপান্তর করতে সাহায্য করেছে, তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় পুলিশের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক বলপ্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যে বিরূপ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সে কারণে সংকট এখনো রয়ে গেছে। এটি দূর করা না গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অনেক সময় লাগবে। এজন্য প্রয়োজন পুলিশের যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সংস্কার এবং পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবক হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। স্বৈরাচার সরকারের যারা তাবেদারি করেছে, সেসব পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নেপথ্যে থেকে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং খুন-গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনমনে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে এবং তৈরি হবে হতাশা।

নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে রাখা হয়েছিল। ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করা বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়নও দেওয়া হয়নি। বিএনপি সরকার গঠনের পর আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় ফ্যাসিবাদের দোসররা ফের পুনর্বাসন হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%