১০:৪৬ এম
বর্তমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন চূড়ান্ত মুহূর্তের দিকে রূপ নিয়েছে। এই সংস্করণে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেনের। তবে এই দুই দলের ফুটবল দর্শনের ভিন্নতা টুর্নামেন্টে তাদের আধিপত্যকে সবচেয়ে বেশি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। একটি দিকে, স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে অভেদ্য রক্ষণের পরিচয় দিয়েছে এবং নিখুঁত ফুটবলের উদাহরণ স্থাপন করেছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার আগ্রাসী মনোভাব এবং লড়াকু মানসিকতা তাদের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে।
দল দুটির ফাইনাল যাত্রা জার্মানির মত পরাশক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে, যারা টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই আকস্মিক ভাবে বিদায় নিয়েছে। জার্মানির কিংবদন্তি গোলকিপার অলিভার কান মনে করেন, জার্মানিকে তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে স্পেনের ফুটবল মডেল থেকেই শিক্ষা নিতে হবে।
বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে একটি সাক্ষাৎকারে অলিভার কান বলেন, জাতীয় দল বা ক্লাব দল—উভয়ের জন্য নিজেদের ফুটবল দর্শন এবং খেলোয়াড়ি পরিচয় তৈরি করা এবং সেটিতে অবিচল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পেনের উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা ১০ বছর আগে স্পেনের ‘টিকি-টাকা’ শৈলী দেখেছি, যা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর মনে হত কারণ তারা কেবল নিজেদের মধ্যেই পাস খেলত এবং খেলায় কোনো গতি বা আক্রমণাত্মক দৈর্ঘ্য ছিল না। তবে বর্তমানে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ ফুটবলের মূল বল-পজেশন তথা বল নিয়ন্ত্রণে রাখার পুরনো দর্শন বজায় রেখেই দলের আক্রমণভাগে মৌলিক পরিবর্তন এনেছেন। আর এজন্যই স্পেন এখন ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের মতো অত্যন্ত নিখুঁত এবং বিধ্বংসী ফুটবল খেলছে।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
জার্মানির বর্তমান ব্যর্থতা এবং কোচ পরিবর্তন প্রসঙ্গে তার সাবেক সতীর্থ ফিলিপ লামের মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে অলিভার কান জানান, শুধুমাত্র কোচ বদলানো বা ইয়ুর্গেন ক্লপকে দায়িত্বে আনার মাধ্যমে জার্মানির মূল সমস্যার সমাধান হবে না। আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত, আগামী ১০ বছরে জার্মানি কী ধরনের ফুটবল খেলতে চায় এবং তারা কেমন খেলোয়াড় তৈরি করতে চায়। কান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বা কাই হাভার্টজের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, তবে কেবল প্রতিভা থাকলেই তা যথেষ্ট নয়। একটি বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুখে দায়িত্ব নেওয়া এবং সঠিক মানসিকতা ধরে রাখা আসল বিষয়। ট্রাইব্রেকারের মতো বাঁচা-মরার মুহূর্তে কারা দায়িত্ব নিতে পারছে, সেই মানসিক শক্তির উত্তর এখন জার্মানিকে খুঁজতে হবে।
একইসঙ্গে, আর্জেন্টিনার লড়াকু মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন ২০০২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল বিজয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার খেলার ধরনটি বেশ আলাদা এবং এর বিরুদ্ধে খেলা কোনো দলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। দলে লিওনেল মেসির মতো একজন জিনিয়াস যেমন রয়েছেন, তেমনি দলের অন্য খেলোয়াড়েরা যদি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বসেরা না হন, তাও তারা দেশের জন্য এবং মেসির জন্য নিজেদের পুরোপুরি উজাড় করে মাঠে দৌড়ান। এই সম্মিলিত ঐক্য এবং পরিবেশই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নিয়ে গেছে, যা থেকে জার্মানির অনেক কিছু শেখার আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন