০৪:১৮ পি.এম
ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে বিড়াল চুরি যে একটি চক্র কাজ করে, সেটিকে দেশটির পুলিশ ধরতে সক্ষম হয়েছে। তারা ওই চক্রের কাছ থেকে চার শতাধিক বিড়াল উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, স্থানীয় প্রাণীকল্যাণ সংস্থা ও গণমাধ্যমের সূত্রে এই খবরটি এএফপির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কয়েকদিনব্যাপী চলা অভিযানের সময় বিড়ালগুলো উদ্ধার করা হয়। ইতিমধ্যে ৪০টিরও বেশি বিড়ালকে তাদের মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কিছু মারা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রাণীকল্যাণ সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস’-এর হয়ে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন করণভীর কুকরেজা। তিনি গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই অভিযানটি ভিয়েতনামের বিড়ালের মাংস ব্যবসার ‘একটি উদ্বেগজনক স্মারক’।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হো চি মিন সিটি এলাকায় পোষা প্রাণী চুরির বেড়ে যাওয়া ঘটনার তদন্তের সময় পুলিশ একটি বিড়ালের মাংস পাচারকারী চক্র শনাক্ত করেছে এবং অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ এই দলটিকে ‘বিড়াল চুরি ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ একটি অপরাধী চক্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
হো চি মিন সিটি ক্রিমিনাল পুলিশ ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা মোট প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল, ৪৫টি খাঁচা এবং প্রায় ৮০টি মৃত বিড়ালের পাশাপাশি বরফ ভর্তি চারটি ফোমের পাত্র উদ্ধার করেছেন। অন্য একটি স্থান থেকে ২১টি জীবিত বিড়ালও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা দক্ষিণ ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, তাই নিন এবং আন জিয়াং শহরজুড়ে গত তিন বছর ধরে ফাঁদ পেতে বিড়াল ধরার কথা স্বীকার করেছে। কুকরেজা আরও জানান, ভিয়েতনামে লক্ষ লক্ষ প্রাণী কুকুর ও বিড়াল চোরদের শিকার হয়, যারা রাস্তা থেকে প্রাণী ধরে কিংবা পরিবারের পোষা প্রাণী চুরি করে এবং সেগুলোকে মানুষের খাওয়ার জন্য জবাই করে।
অলাভজনক সংস্থা ‘ভিয়েতনাম ক্যাট ওয়েলফেয়ার’-এর ক্রিস গিন্ডেলহিউমার উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলির যত্ন নিতে সহযোগিতা করছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘গত কয়েকদিনে অনেকের চোখে পানি দেখেছি’। তিনি বলেন, ‘এতগুলো ভিয়েতনামি পরিবার যে তাদের বিড়ালদের খুঁজতে আসছে, সেটি সত্যিই সুন্দর। কিন্তু এটা হৃদয়বিদারকও, কারণ অনেক পরিবার তাদের বিড়াল খুঁজে পায়নি।’
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
গিন্ডেলহিউমার আরও জানান, বহু পশুচিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবক বিড়ালদের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। তবে প্রাণীদের উৎস যাচাই করার জন্য বিক্রেতাদের অবশ্যই অনুমতিপত্র থাকতে হয়। যদিও মধ্য ভিয়েতনামের হোই আন-এর মতো কিছু শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বন্ধের জন্য বৈশ্বিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করছে।
২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ করার কিছুদিন পর, ভিয়েতনামের কর্মকর্তারা জানান যে, পোষা প্রাণী এবং তাদের মালিকদের অধিকারের সুরক্ষার জন্য সরকার আইন ব্যবস্থার কিছু অংশ সংস্কার করার পরিকল্পনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন