ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরি করে প্রেমিকাকে আইফোন উপহার


রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরি করে প্রেমিকাকে আইফোন উপহার

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে চুরি হওয়া লাখ লাখ রুপি নগদ অর্থের একটি অংশ την পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং প্রেমিকার জন্য ব্যয় করার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এক অভিযুক্ত। এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।

এই চুরি করা অর্থ দিয়ে প্রেমিকাকে একটি দামি আইফোন উপহার দেওয়া এবং ভাইয়ের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করার অভিযোগও রয়েছে।

সূত্রের বরাতে ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভির দাবি, অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে চুরি হওয়া লাখ লাখ রুপি নগদ অর্থ অভিযুক্তদের একজন তার পরিবার, বন্ধু এবং প্রেমিকার জন্য বিলাসবহুল উপহার কিনতে ব্যয় করেছেন।

আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

সূত্র জানায়, দান চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত আটজন গণনাকর্মীর একজন অবিনাশ শুক্লার কথিত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা গেছে, এই অর্থ দিয়ে একটি দামি আইফোন কেনা এবং একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ চুরি হওয়া অর্থের গতিপথ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালানোর সময়, জিজ্ঞাসাবাদে শুক্লা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। এই চুরির ঘটনায় কোটি কোটি ভক্তের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপি বলে ধারণা করা হলেও, শুক্লা স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রায় ১৯ লাখ রুপি নিজের, পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের পেছনে ব্যয় করেছেন।

এর মধ্যে তার এক ভাইয়ের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের জন্য প্রায় ৬ লাখ রুপি ব্যয় করা হয়। এছাড়া আরেক ভাইকে পাঁচ থেকে ছয় লাখ রুপি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

এছাড়া অভিযুক্ত তার প্রেমিকাকে একটি আইফোন উপহার দেন এবং তার ব্যাংক হিসাবে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি স্থানান্তর করেন বলে সূত্রের দাবি।

এর আগে এনডিটিভির হাতে আসা পুলিশি নথিতে দেখা যায়, শুক্লা প্রায় ২০ লাখ রুপি নিজের কাছে রেখেছিলেন, যা সন্দেহভাজনদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তদন্তকারীরা এখন অর্থ লেনদেন, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের বিস্তারিত তদন্ত করছেন, যাতে অর্থের স্পষ্ট গতিপথ শনাক্ত করে অভিযোগ গঠন করা যায়।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে হচ্ছে ‘আবদুল হাই শিকদার কর্নার’: ১০ হাজার দুর্লভ বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


বেরোবিতে হচ্ছে ‘আবদুল হাই শিকদার কর্নার’: ১০ হাজার দুর্লভ বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ

যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)| বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে| আজ বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়| বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন|

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ| যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে| তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান| প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে| দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে| তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভসেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন|

আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে| এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে| অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না| তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন| বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন| তাঁর ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন|

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন| তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তাঁর সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়| এমনকি তাঁর গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে| এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি| তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন|

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন| সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান| আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে| সেই বিবেচনায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন|

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে| এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নেওয়া হবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নেওয়া হবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত অনেক সুপারিশ আমি পেয়েছি। এসব বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আশা করি। নির্বাচনের পর্যালোচনার মাধ্যমে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।

বুধবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে অংশীজনদের সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসময় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে অবজার গ্রুপ এবং অংশীজনদের মতামত নিয়েছি; আমি সবার সহযোগিতা পেয়েছি। আমি আশা করি, এই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন আরও কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, সেই সুপারিশ আসবে।’

তিনি গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি চলমান প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো আমরা মূল্যায়ন করছি, যাতে এর ধারাবাহিকতা আমরা এগিয়ে নিতে পারি। আগামী দুই দিন অংশীজন সংলাপে পাওয়া সুপারিশ আমরা কাজে লাগাব। তিনি বলেন, সামনে রয়েছে স্থানীয় নির্বাচন, সুতরাং সবার সহযোগিতা কামনা করি।

গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ করছে ইসি। ইতোমধ্যে বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনেক সংস্থা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এর ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে আজকের এই সংলাপে আলোচনা চলছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেম (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপ আয়োজন করছে। এতে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি সংস্থা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে এবং পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা ও সহায়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। আমি আশা করি, এ কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরও সুপারিশ আসবে। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অংশীজনেরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আশা করি, নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

দুই দিনের এই সংলাপে বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত কাটাতে বারণ করলেন কর্নেল অলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


যে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত কাটাতে বারণ করলেন কর্নেল অলি

ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১ দলের এক সেমিনারে তিনি এ পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, ‘আপনার কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা বিদেশি গুপ্তচর আছে, তাদেরকে বের করা। তাদের দ্বারা আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে সংস্কারের বিষয়ে আপনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্দিকে শত্রু রেখে আপনি দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা হলাম আপনার প্রকাশ্য শত্রু। যারা আপনার পাশে আছেন, তারা হচ্ছেন আপনার আসল শত্রু।’

অলি আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শত্রু দ্বারা আবর্তিত। বিদেশি গুপ্তচররা সরকারে ও দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। বিদেশি গুপ্তচর যেকোনো সময় তারেক রহমানের বড় ক্ষতি করতে পারে।’ তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে না। আপনি (তারেক রহমান) ভালো অবস্থানে নেই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষকে বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষকে বহিষ্কার

ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাকে স্থলাভিষিক্ত করে কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. লুৎফর রহমান আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আহমেদ শফিক।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই সকাল ১১টায় নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহ এর গভর্নিং বডির বিশেষ সভায় কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে অধ্যক্ষের পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা ৮ জুলাই তারিখ হতে কার্যকর হবে। এবং একই সাথে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯'র ৪ নম্বর ধারার (ক) এর ২.(i) উপধারা মোতাবেক কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. লুৎফর রহমান আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব (আর্থিক ও প্রশাসনিক) প্রদান করা হয়েছে, যা আগামী ৮ জুলাই তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় গঠিত তদন্ত ও অডিট কমিটি এর সত্যতা পায়। যদিও কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কলেজ সূত্র জানায়, আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। পরে তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহের সাবেক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন উম্মে সালমা তানজিয়া।

তদন্ত কমিটি দীর্ঘ এক মাস তদন্ত করে আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচারে মাসের পর মাস টাকা উত্তোলন, কলেজ ফান্ডের আড়াই কোটি টাকা নগদ ও নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব কার্যক্রম করেছেন।

পরে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আকন্দকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (অডিট) কমিটি গঠন করে দেন।

এই কমিটি ২০১২-১৩ থেকে ২০২৩-২৪ মোট ১২টি অর্থবছরের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাপক অনিয়ম থাকার বিষয়টি খুঁজে পায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৬টি বিলে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০ টাকা উত্তোলনে অধ্যক্ষের একক স্বাক্ষর, ভুয়া ভাউচার এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়।

একইভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১টি বিলে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৩ টাকা উত্তোলন এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫টি বিলে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫১ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাকি অর্থবছরগুলোতেও একইভাবে অধিকাংশ বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হন। অডিট কমিটির রিপোর্টের সত্যতা যাচাইয়ে আবারও তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তা জমা দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বীরদর্পে সব দুর্নীতি করেছেন। তবে রহস্যজনক কারণে এ বিষয়টি নিয়ে এখন সবাই চুপ ছিল। অডিটের একটি হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা নগদ হাতে রেখেছিলেন। পরে তা ব্যয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। স্বচ্ছ প্রতিবেদনের পর আর কিছু থাকে না। দেড় বছর হয়ে গেলেও তিনি বহাল তবিয়তে ছিলেন।

সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক জানিয়েছেন, “প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা।”

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী জানিয়েছেন, “বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়- তাহলে তাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%